kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

দ. কোরিয়ায় এক দিনেই প্রায় ৩০০ আক্রান্ত

চীনে কমছে, এশিয়া, ইউরোপ ও দ. আমেরিকায় দ্রুত ছড়াচ্ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



দ. কোরিয়ায় এক দিনেই প্রায় ৩০০ আক্রান্ত

চীনে নতুন করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) সংক্রমণের ধারাবাহিক উন্নতি ঘটলেও দক্ষিণ কোরিয়াসহ পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে পরিস্থিতির উদ্বেগজনক অবনতি ঘটছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এক দিনেই প্রায় ৩০০ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। ইতালিতে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই ইউরোপের আরো চারটি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্সে এবার এক ফরাসি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। প্রথমবারের ভাইরাসটি পৌঁছে গেছে দক্ষিণ আমেরিকায়ও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এভাবে ছড়িয়ে পড়ার চিত্র বলছে রোগটি ঠেকাতে বিশ্বের অন্য সরকারগুলো এখনো প্রস্তুত নয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এর বড় প্রভাব পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতিতে।

চীনে নতুন করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার আরো কমেছে। গত মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৪০৬ জন আক্রান্ত এবং ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ৭৮ হাজার ও মৃতের সংখ্যা দুই হাজার ৭১৫ জনে পৌঁছেছে। এই প্রথম দেশটিতে এক দিনে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০-এ নেমে এলো। মঙ্গলবার মারা যাওয়া সব ব্যক্তি ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা।

তবে চীনের বাইরে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। গতকাল দক্ষিণ কোরিয়ায় এক দিনেই পৌনে তিন শ মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ২৬১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। চীনের বাইরে এটাই সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। ইরানে সরকারি হিসাব অনুযায়ী নতুন করে দুজনসহ এ পর্যন্ত ৯৫ জন আক্রান্ত এবং ১৫ জন মারা গেছে। চীনের বাইরে ইরানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে। তৃতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্ত দেশ হচ্ছে ইতালি। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩২২ জন আক্রান্ত এবং ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নতুন করে ইউরোপের অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া ও স্পেন এবং দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিলে প্রথমবারের মতো ভাইরাসটি ছড়িয়েছে।

গতকাল বুধবার চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন করে ৫২ জনের মৃত্যু এবং ৪০৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটির মূল ভূখণ্ডে ৭৮ হাজার ৬৪ জন আক্রান্ত এবং দুই হাজার ৭১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রোগমুক্তি শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়েছে দুই হাজার ৪২২ জনকে। এ নিয়ে চীনে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ২৯ হাজার ৭৪৫ জন। সে হিসাবে চীনে বর্তমানে কভিড রোগীর সংখ্যা ৭৫ হাজার ৩১৯ জন। এ ছাড়া চীনে মারাত্মক আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও কমেছে। মঙ্গলবার এ সংখ্যা আরো ৩৭৪ জন কমে আট হাজার ৭৫২ জনে দাঁড়িয়েছে।

এ ছাড়া কমিশন এই প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যাও জানিয়েছে। কমিশনের গতকালের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সারা দেশে নতুন করে ৪৩৯ জনকে সন্দেহভাজন আক্রান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে। এ নিয়ে এখন দুই হাজার ৪৯১ জন সন্দেহভাজন তালিকায় রয়েছে। কমিশন আরো জানিয়েছে, সন্দেহভাজনদেরও বাইরে ছয় লাখ ৪৭ হাজার ৪০৬ জন ভাইরাসটির সংস্পর্শে আসে বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত স্বাস্থ্য নজরদারিতে রাখা হয়েছে ৭৯ হাজার ১০৮ জনকে এবং নজরদারির পর ভাইরাসমুক্ত বলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ১৪ হাজার ৫৭৩ জনকে।

কমিশন আরো জানায়, চীনের হংকং প্রশাসনিক অঞ্চলে এ পর্যন্ত ৮৫ জন এবং ম্যাকাওয়ে ১০ জন ও তাইওয়ানে ৩১ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে হংকংয়ে দুজন ও তাইওয়ানে একজন মারা গেছে।

গতকাল বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (কেসিডিসি) জানিয়েছে, গতকাল বিকেল পর্যন্ত দেশটিতে নতুন করে ২৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে আরো এক ব্যক্তি। এ নিয়ে দূরপ্রাচ্যের দেশটিতে এক হাজার ২৬১ জন আক্রান্ত এবং ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো এক মার্কিন সেনা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছে।

কোরিয়ান কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশের বেশি দেশটির দায়েগু ও এর প্রতিবেশী উত্তর জিয়েংসান প্রদেশের। যুক্তরাষ্ট্রের সৈনিক আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাটি ঘটেছে দায়েগু থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ক্যাম্প ক্যারোল সেনাঘাঁটিতে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই সেনাঘাঁটিতে ২৮ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। গতকাল ২৩ বছর বয়সী ওই সেনা কভিড আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার লাইন পড়ে যায়।

বিশ্ব প্রস্তুত নয় : বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ভাইরাসটি খুব দ্রুত এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। অথচ ভাইরাসটির উত্স্থস্থল চীনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা থাকার পরও দিন দিন দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসটি।

এ বিষয়ে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদর দপ্তরের কর্মকর্তা ও চীনের উদ্দেশে যাত্রার অপেক্ষায় থাকা আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদলের প্রধান ব্রুস আইলওয়ার্ড বলেন, আক্রান্ত দেশগুলোতে কোয়ারেন্টাইন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা খুবই কঠোর। তবে অন্যান্য দেশ প্রাদুর্ভাবটি ঠেকাতে প্রস্তুত নয়।

বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি : অন্যদিকে গতকাল প্রকাশিত গালফ নিউজের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ভয়াবহ ভাইরাসটি যদি শেষ পর্যন্ত বৈশ্বিক মহামারিতে (প্যানডেমিক) রূপ নেয়, তাহলে বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা দ্বিগুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস লিমিটেড মনে করে, চলমান এই আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংকটই বৈশ্বিক জিডিপি থেকে এক লাখ কোটি মার্কিন ডলার মুছে ফেলবে। এই প্রাদুর্ভাবের ফলে কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিতি তৈরি হবে, উৎপাদনের হার কমে আসবে, ভ্রমণ কমে যাবে এবং পণ্য সরবরাহ চেইন ধসে পড়বে এবং ব্যবসা ও বিনিয়োগ কমে আসবে। এরই মধ্যে বিনিয়োগকারীরা নার্ভাস বোধ করছে। কারণ মার্কিন স্টক বেঞ্চমার্ক সোমবার ৩ শতাংশ কমে গেছে এবং সূচক ৫০০ কমে গেছে, যা ২০১৮ সালের পর সর্বনিম্ন। তবে একই বিষয়ে ফোর্বসের এক নিবন্ধে গণমাধ্যম ভীতি (মিডিয়া হিসটিরিয়া) তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, করোনাভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি করলেও অর্থনৈতিক মন্দা সৃষ্টি করবে না।

সূত্র : এএফপি, বিবিসি, সিনহুয়া, গালফ নিউজ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা