kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

রিমান্ডে মিলছে পাপিয়ার সম্পদের অনেক তথ্য

অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধান করবে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রিমান্ডে মিলছে পাপিয়ার সম্পদের অনেক তথ্য

যুব মহিলা লীগ থেকে বহিষ্কৃত শামীমা নূর পাপিয়া ও তাঁর সহযোগীদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া ও তাঁর স্বামীর অবৈধ সম্পদের অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা একাধিক প্রভাবশালীর নাম জানতে পেরেছে পুলিশ। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এদিকে পাপিয়া ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে করা তিনটি মামলাই পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া পাপিয়ার বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডির পুলিশ সুপার ফারুক হোসেন গতকাল বুধবার রাতে কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান।

পাপিয়া ও তাঁর স্বামীর সম্পদ অনুসন্ধান করবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

পাপিয়া ও তাঁর সহযোগীদের জিজ্ঞাসাবাদকারী একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় থেকে অনৈতিক কাজের মাধ্যমে পাপিয়া প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।

ওই কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নগদ অর্থসহ পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, রাজধানীর ফার্মগেটের ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডে ‘রওশনস ডমিনো রিলিভো’ ভবনে দুটি ফ্ল্যাট। নরসিংদী শহরে দুটি ফ্ল্যাট ও বাগদী এলাকায় কোটি টাকার দুটি প্লট। পাপিয়ার নিজস্ব ব্যবহারের জন্য রয়েছে কয়েকটি গাড়ি। এ ছাড়া তেজগাঁওয়ের বিএফডিসির ফটকের পাশে থাকা ‘কার একচেঞ্জ’ নামের গাড়ির শোরুমটির মালিকদের মধ্যে তিনিও একজন। নরসিংদী জেলায় ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটোসলিউশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাঁর। নরসিংদীর বাগদী মারকাজ মসজিদ এলাকায় একটি পাকা ও আরেকটি সেমিপাকা বাড়ি আছে পাপিয়ার। একই এলাকার বেলদী মোড়ে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের ১০ শতাংশ জমি ছাড়াও ছয় শতাংশের একটি প্লট রয়েছে তাঁর। শ্বশুরবাড়ি ব্রাহ্মণদীতে স্বামী মফিজুর রহমান সুমন ওরফে মতি সুমনের দোতলা একটি বাড়ি আছে। এ ছাড়া তাঁর চারটি গাড়ি রয়েছে। নরসিংদী শহরে তাঁর অনুসারীদের ব্যবহারের জন্য পাঁচটি মোটরসাইকেল রয়েছে। এ ছাড়া পাপিয়া-সুমন দম্পতির দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্ছিত থাকার তথ্যও রয়েছে।

গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় প্রধান কার্যালয়ে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলওয়ার বখত সাংবাদিকদের বলেন, দুদক শুধু ছোট দুর্নীতিবাজই নয়, বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিচ্ছে। পাপিয়ার ঘটনারও অনুসন্ধান করা হবে। পাপিয়ার সূত্রে যদি কারো নাম আসে, তিনি যদি প্রভাবশালীও হন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গত শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পাপিয়া-সুমন এবং তাঁদের দুই সহযোগী সাব্বির খন্দকার ও শেখ তৈয়বাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। তাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও পাচার, জাল নোট সরবরাহ, মাদক, অস্ত্র, নারীদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করানো ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের পদ থেকে পাপিয়াকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ। পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত আইনে তেজগাঁও থানায় এবং জাল মুদ্রা রাখার অভিযোগে বিমানবন্দর থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে।

পাপিয়ার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেনেন্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পাপিয়ার অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তাঁর সম্পর্কে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁর এই অবৈধ কার্মকাণ্ডে যারাই সহযোগিতা করেছে, তথ্য-প্রমাণ সপেক্ষে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে। পাপিয়ার সম্পদ, তার উৎস, বিদেশে অর্থপাচার, ক্ষমতা সব কিছুরই তদন্ত চলছে।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা