kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

স্বাধীনতা পদক নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত

সাহিত্যে এ পদক যোগ্যদের দেওয়ার প্রস্তাব

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাহিত্যে এ পদক যোগ্যদের দেওয়ার প্রস্তাব

দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক-২০২০ নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে এবার সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখার জন্য এ পদকে মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে এই সমালোচনা। এবার সাহিত্যে এ পদকের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদকে। আর সংস্কৃতিতে কালীপদ দাসকে। অনেকে এ মনোনয়ন পরিবর্তন করে যোগ্য কাউকে এ পদক দেওয়ার প্রস্তাবও করছেন। বিতর্ক অব্যাহত আছে একুশে পদক নিয়েও।

গতকাল মঙ্গলবার বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক এবং সাংবাদিক আনিসুল হক তাঁর ফেসবুক পাতায় সাহিত্যে এবারের স্বাধীনতা পুরস্কার কবি মহাদেব সাহাকে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমরা জানি, এর আগে একজনকে অন্তত রাষ্ট্রীয় পুরস্কার প্রদানের দিন ফোন করে বলা হয়েছিল তিনি যেন না আসেন। জুয়েল আইচ ভাইয়ের স্ট্যাটাসের বক্তব্য সমর্থন করি। দুটো পুরস্কার কেড়ে নেওয়া এবং অন্তত একটি পুরস্কার প্রত্যাহার করে নেওয়া যেতে পারে। এর আগে অন্তত একবার পুরস্কার ঘোষিত হওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি জারি করে দুজনকে স্বাধীনতা পুরস্কারে যুক্ত করা হয়েছিল। এবার তেমন করে কবি মহাদেব সাহাকে সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

আনিসুল হকের এ অনুরোধকে সমর্থন জানিয়ে মন্তব্য করেছেন অনেকেই।

সাংবাদিক জ ই মামুন লিখেছেন, ‘মহাদেব সাহার কবিতা না থাকলে বাংলা সাহিত্য অসম্পূর্ণ থেকে যেত। তবে মহাদেব সাহাদের টিকে থাকতে পুরস্কার লাগে না। অন্যদিকে রইজ উদ্দিনরা পুরস্কার দিয়ে ঘর ভরিয়ে ফেললেও তারা মলমূত্র ছাড়া আর কিছুই রচনা করতে পারবে না। মহাদেব সাহার স্বাধীনতা পুরস্কার না পাওয়া তাঁর অযোগ্যতা নয়, রাষ্ট্রের সেই কর্তাব্যক্তিদের দেউলিয়াত্ব, যারা পুরস্কার দেয়!’

একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব প্রখ্যাত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ গত সোমবার নিজের ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, “একাত্তরের ভয়াবহ পিশাচ শর্ষিনার ‘পীর’ আবু সালেহকে দেওয়া স্বাধীনতা ও একুশে পদক আর ২০২০-এর ‘মহাকবি’ রইজ উদ্দিনদের দেওয়া জাতীয় পদক কেড়ে নিতেই হবে। জাতীয় পাপ স্খলনের এটাই সময়। এর কোনো বিকল্প নেই।”

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এর আগে স্বাধীনতার পরপর দালাল আইনে গ্রেপ্তার হওয়া খন্দকার আবদুল হামিদকে ১৯৭৭ সালে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য একুশে পদক দেওয়া এবং ১৯৮০ সালে স্বাধীনতাবিরোধী হিসেবে পরিচিত ছারছীনার পীর মাওলানা আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহকে শিক্ষায় স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার পর প্রবল বিতর্ক শুরু হয়।

এবার সাহিত্যে স্বাধীনতা পদক নিয়ে নিলয় রফিক নামে একজন কবি নিজের ফেসবুকে বিস্ময়চিহ্ন যোগ করে লিখেছেন, ‘কবি মোহাম্মদ রফিক এখনো স্বাধীনতা পুরস্কার পাননি। কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা এখনো স্বাধীনতা পুরস্কার পাননি।’ তাঁর এই স্ট্যাটাসটি কবি মোহাম্মদ রফিক এবং মুহম্মদ নূরুল হুদার ফেসবুকেও ট্যাগ হয়েছে। এ পোস্টে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত অনেকের মন্তব্য যোগ হয়েছে। মানসুর মোজাম্মিল নামের একজন লিখেছেন, ‘পুরস্কার না পেলে কি লেখক টিকবে না?’ আনিসুর রহমান অপু লিখেছেন, ‘সমস্যা কী? তাদের লেখা তো সবাই পড়ে। তারা প্রকৃত কবি, জানে জগৎ। কিন্তু যারা একটা শুদ্ধ বাক্য অব্দি লিখতে পারে না; তারা তো পাচ্ছে।’ মোজাম্মেল হক নিয়োগির মন্তব্য, ‘স্বাধীনতা পুরস্কার তাদেরই দেওয়া হচ্ছে যাদের দিলে স্বাধীনতা পুরস্কার সমোলোচিত হয়। এখানে গভীর ষড়যন্ত্রের সুঘ্রাণ পাচ্ছি।’ রেজাউল করিম নামে একজন কবি মোহাম্মদ রফিক ও কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন, ‘তারা স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। পুরস্কার দিয়ে কী হবে?’ বিভূতিভূষণ মণ্ডল লিখেছেন, ‘পদক দিয়ে কবি ও কবিতা বাঁচিয়ে রাখা যায় না। কবি ও কবিতা বেঁচে থাকে আপন শক্তিতে।’

দেশের বিশিষ্টজনদের অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুধু স্বাধীনতা পদক নয়, এবারের একুশে পদকও বিতর্কমুক্ত হতে পারেনি। পদকপ্রাপ্তদের তালিকায় এমন কিছু ব্যক্তির নাম আছে, তাঁদেরকে ঠিক কী কারণে, কী অবদানের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে, সেটা কেউ বুঝতে পারছেন না। বিভিন্ন মহল থেকে উঠেছে প্রতিবাদ। যাতে শামিল হয়েছেন এর আগে স্বাধীনতা পদক প্রাপ্তরাও। বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ইউএনডিপির দারিদ্র্য বিমোচন বিভাগের সাবেক পরিচালক ড. সেলিম জাহান, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ড. নূহ-উল-আলম লেনিন এবারে স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীতদের মধ্যে দুজনকে কেন স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হচ্ছে তার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা