kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

মশায় অতিষ্ঠ নগরবাসী রেকর্ড ছাড়াতে পারে

কিউলেক্স মশা ঠেকানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ

শাখাওয়াত হোসাইন   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মশায় অতিষ্ঠ নগরবাসী রেকর্ড ছাড়াতে পারে

শীত মৌসুম শেষ হতে না হতেই রাজধানীতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মশার উপদ্রব। সন্ধ্যার পর মশার প্রকোপে খোলা জায়গায় দাঁড়ানোও কঠিন হয়ে পড়ে। সারাক্ষণ দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে রেহাই মিলছে না মশার কামড় থেকে। অন্যান্য সময়ের তুলনায় আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মশার ঘনত্ব সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা। এদিকে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিশেষ ক্রাশ প্রগ্রাম হাতে নিয়েছে। কিন্তু ঢাকার খালগুলো ভরাট থাকায় এবং যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলায় কিউলেক্স মশা ঠেকানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা গেছে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রতি সপ্তাহে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা নিয়ে মশার ঘনত্ব গণনা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক দল গবেষক। গবেষকদলের প্রধান ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। কিউলেক্স মশার প্রজননস্থল থেকে পানি সংগ্রহ করে প্রতি আধালিটার পানিতে দুই শর বেশি মশার লার্ভা পেয়েছেন গবেষকরা। এর বাইরে নর্দমা, ডোবা এবং অন্যান্য উৎস জমে থাকা পানিতে ডিমের ঘনত্ব দেখেছেন তাঁরা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে ভারি বৃষ্টি না হওয়ায় মশা জন্মানোর স্থানগুলোতে পানির অর্গানিক ম্যাটারিয়াল (জৈব দ্রব্য) বেড়ে গেছে, যা কিউলেক্স মশার লার্ভার খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে সারা দেশে তাপমাত্রা কিছুটা করে বাড়ছে। এই তাপমাত্রা মশা জন্মানোর জন্য উপযোগী। গত কয়েক দিনে মশা অগণিত ডিম ছেড়েছে, যা ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ মশায় রূপান্তরিত হবে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ১৫ দিন পর তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদরা।

ড. কবিরুল বাশার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনই পদক্ষেপ না নিলে আগামী ১৫ দিনে ঢাকায় মশার ঘনত্বের রেকর্ড ছাড়াবে। ঢাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আগামী মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে মশা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।’

কবিরুল বাশার আরো বলেন, ‘ড্রেন, ডোবা ও নর্দমার পানি চলন্ত করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা এবং লার্ভা মারার জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করা জরুরি। বাংলাদেশে ১২৩ প্রজাতির মশা রয়েছে। ঢাকা শহরে রয়েছে ১৩ প্রজাতির মশা। এখন ঢাকার মোট মশার শতকরা ৯৫ ভাগই কিউলেক্স। এই কিউলেক্স মশা বাংলাদেশের কিছু জেলায় ফাইলেরিয়া রোগ ছড়ায়। তাই জরুরি ভিত্তিতে কিউলেক্স নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বর্জ্যে ভরাট হয়ে গেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকার খাল। খালে স্রোত না থাকায় জমাট পানির উপরিভাগে মশার লার্ভা বেড়ে উঠার পরিবেশ পাচ্ছে। এ ছাড়া কোনো কোনো নর্দমার পানিও আটকে আছে। এ ছাড়া গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেকের চারপাশে বর্জ্যের মধ্যেও মশা বংশবিস্তার করছে। ওই সব উৎসর বদ্ধ পানিতে মশার লার্ভা খালি চোখেও দেখা যায়। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর মশার প্রকোপ বেশি বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

উত্তর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শীত যাইতে না যাইতে বাইড়া গেছে। এত মশা এর আগে কোনো দিন দেহি নাই। কয়েল জ্বালানোর পরও মশার কামড় থাইকা রক্ষা পাওয়া যাইতেছে না।’

গেণ্ডারিয়া ডিআইটি পুকুরপারের দোকানদার মিল্লাত মিয়া বলেন, ‘সন্ধ্যা হলে কাস্টমার দোকানে বসতে পারে না। কয়েল দেওয়ার পরও মশা কামড়ায়। সিটি করপোরেশনের লোকেরা কী করে জানি না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশেষ ক্রাশ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সংস্থার মোট ৫৪টি ওয়ার্ডে একযোগে চালানো এই কর্মসূচিতে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ৫৪০ জন কর্মী। এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার থেকে বিশেষ ক্রাশ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মোট ছয়টি ওয়ার্ডে মশার ঘনত্ব বেশি পাওয়ায় ওই সব ওয়ার্ডে ডিএসসিসি ক্রাশ কর্মসূচি পরিচালনা করবে বলে জানা গেছে। এক সপ্তাহ বিশেষ কর্মসূচিটি চালু রাখবে ডিএসসিসি। 

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মমিনুর রহমান মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ক্রাশ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। তবে খালগুলো বর্জ্যে ভরাট হওয়ায় এবং পুকুরে কচুরিপানা থাকায় তা পরিষ্কার করে মশক নিধন কাজ করতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে। কীটতত্ত্ববিদদের পরামর্শে এক বছরের পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ করছি। তাঁরা বিকল্প কোনো পরামর্শ দিলে আমরা তা গ্রহণ করব।’

ক্রাশ কর্মসূচি উদ্বোধনের সময় ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বলেন, ‘জরিপে ঘোষিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সপ্তাহব্যাপী স্পেশাল কার্যক্রম চালানোর পর পুনরায় জরিপ চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে আহ্বান জানাই। প্রাপ্ত ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা