kalerkantho

শুক্রবার। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৪ ডিসেম্বর ২০২০। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪২

দাপুটে জয়ে স্বস্তি

জিম্বাবুয়ে : ২৬৫ এবং ১৮৯ বাংলাদেশ : ৫৬০/৬ ডিক্লে. ফল : বাংলাদেশ ইনিংস ও ১০৬ রানে জয়ী ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মুশফিকুর রহিম

নোমান মোহাম্মদ   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দাপুটে জয়ে স্বস্তি

বড় ব্যবধানে জয়ের উৎসব। সিরিজ জয়ের শিরোপা নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কাল অকারণেই আকাশের মন খারাপ। বিষণ্নতার মেঘে যেন গাল ফুলিয়ে। ফুঁপিয়ে কান্নার মতো ফোঁটায় ফোঁটায় বৃষ্টিও তো ঝরায় দুপুরে। আগুনরাঙা ফাগুনে যা বড্ড বেমানান!

বাংলাদেশের পারফরম্যান্সটাই বরং অনেক বেশি মানানসই। সেখানে রোদ্দুরের খেলা; রঙের মেলা। যদিও দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ১০৬ রানের জয় বাসন্তী উৎসব রাঙিয়েছে আরো—তা বলায় বাড়াবাড়ি নিশ্চিতভাবে। তবে সাদা পোশাকের ক্রিকেটে এমন রঙিন জয়ে মন ভালো হওয়ার কারণ যথেষ্ট।

ঢাকা টেস্টে বাংলাদেশের প্রাপ্তিগুলোয় সে অর্জনের হুংকার। আবার অপ্রাপ্তির দীর্ঘশ্বাসেও দাপটের নিঃশ্বাস।

প্রাপ্তির খাতায় চোখ বোলানো যাক আগে। ২০১৮ সালের পর আবার টেস্ট ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ছয় টেস্টের হার, যার মধ্যে পাঁচটিই কিনা ইনিংস ব্যবধানে—এই গ্রহণকাল আর প্রলম্বিত হতে দেয়নি। ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরি পান মুশফিক। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম জয় এবং সেঞ্চুরি মমিনুলের। ঘরের মাঠে পেসার হিসেবে আবু জায়েদের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট। তরুণ স্পিনার নাঈম হাসানের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট।

এবার অপ্রাপ্তির তালিকা। আহা রে, সময়াভাবে ট্রিপল সেঞ্চুরি হলো না মুশফিকের! ইস, নাজমুল হোসেন সেঞ্চুরিটি ফেলে এলেন! হায়, ২০১৩ সালে রবিউল ইসলামের পর বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে তো ইনিংসে ৫ উইকেট নিতে পারলেন না আবু জায়েদ! ম্যাচে ১০ শিকার হতে হতেও যে হলো না নাঈমের!

বাংলাদেশের এমন সব দীর্ঘশ্বাসে দাপটের নিঃশ্বাসের আঁচ পাচ্ছেন না?

টেস্টের ফল আসলে হয়ে গেছে দুই দলের প্রথম ইনিংসে। যেখানে ২৯৫ রানে এগিয়ে থেকে দান ছাড়ে বাংলাদেশ। জিতবে কিনা, সে প্রশ্ন আর ওঠেনি। কখন জিতবে, সেটিই রূপান্তরিত আগ্রহের জায়গা। পরশু শেষ বিকেলে সফরকারীদের ২ উইকেট তুলে নিয়ে অবধারিতকে আলিঙ্গনের দিকে আরো এগিয়ে যায় মমিনুলের দল। কাল অবশ্য অলক্ষ্যে আরেক প্রতিপক্ষ ছিল স্বাগতিকদের। বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ঝরঝরের আভাস থাকলেও ঝিরিঝিরির মাত্রা তা পেরোয় না। এর মধ্যেই নিজেদের কাজটুকু সেরে ফেলে বাংলাদেশ।

শুরুটা শুরু থেকেই। দিনের প্রথম চার ওভারই মেডেন। এর মধ্যে ব্যাটের কোনা ঘেঁষে বল বেরিয়ে যায় বেশ কয়েকবার। জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের যেন যাব-যাব তাড়া। তাইজুল ইসলামের করা দিনের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম ব্রেক থ্রু পায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন কেভিন কাসুজা (১০)। এরপর ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের জুটি কিছু সময় হতাশ করে স্বাগতিকদের। তাইজুলকে ছক্কায় কিংবা ইবাদতকে চারে দেয় থিতু হওয়ার ইঙ্গিত। কিন্তু নাঈমের বলে সুইপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে টেলর (১৭) আউট হলে ৪৪ রানে চতুর্থ উইকেট হারিয়ে বসে জিম্বাবুয়ে।

এরপর আরেক অভিজ্ঞ জুটি। আরভিনের সঙ্গে সিকান্দার রাজার। দলের স্কোর ১০০ পার করেন তাঁরা। তবে বাংলাদেশের খুব চিন্তিত হওয়ার কিছু ছিল না। জিম্বাবুয়ের টুঁটি চেপে ধরা থেকে যে মাত্র এক ব্রেক থ্রু দূরে, সেটি সবার শারীরিক ভাষাতে বোঝা গেছে। লাঞ্চের ঠিক আগে আগে কাঙ্ক্ষিত সেই উইকেট পেয়ে যায় মমিনুলের দল। পান আসলে মমিনুলই! নাহ্, বাঁহাতি স্পিনে নয়। কাভার থেকে ছোড়া ডিরেক্ট থ্রোতে রান আউট করেন আরভিনকে (৪৩)।

এরপর? বাংলাদেশের লড়াই শুরু নিজেদের সঙ্গে। প্রথম ইনিংসে যে ৫ উইকেট পাননি নাঈম, দ্বিতীয় ইনিংসে পারবেন সে অপ্রাপ্তি ঘোচাতে? নাকি তাইজুলের হবে সে কীর্তি? কিংবা প্রথম ইনিংসে কোনো উইকেট না পাওয়া এবাদতের আত্মবিশ্বাসের টনিক হবে কোনো শিকার? অথবা ধারাবাহিকতা ধরে রাখবেন আবু জায়েদ? দুই পেসারের আসলে দ্বিতীয় ইনিংসে করণীয় ছিল সামান্য। দুজন মিলে ৯ ওভারের বেশি বোলিংয়ের প্রয়োজন পড়েনি। উইকেট ভাগাভাগি নাঈম-তাইজুলের। পরেরজনের প্রথম ইনিংসের মতোই চার শিকার। প্রথমজন ৫ উইকেট পেলেন ঠিক। সেটি তাঁর জন্য স্মরণীয়ও হলো। তবে মাত্র এক শিকারের জন্য ম্যাচে ১০ উইকেট হলো না অফ স্পিনার নাঈমের।

এমন অপ্রাপ্তির ভাঁজে ভাঁজেও যে কী গৌরব! ফাল্গুনি টেস্ট শুরুর সময় মনের ক্যানভাসে এমন চোখধাঁধানো রঙিন ছবি নিশ্চয়ই এঁকেছিলেন অধিনায়ক-কোচ থেকে শুরু করে পুরো বাংলাদেশ!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা