kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

করোনাভীতিতে কমে গেছে বিমানের যাত্রী

► উহান থেকে ফেরা ৩১২ জন স্বাভাবিক জীবনে
► চুয়াডাঙ্গায় চীনফেরত একজন হাসপাতালে
►সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত এক বাংলাদেশির পরিবার পাচ্ছে ১০ হাজার ডলার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনাভীতিতে কমে গেছে বিমানের যাত্রী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় দেশের এভিয়েশন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। সংক্রমণের ভয়ে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউ আর ভ্রমণ করছেন না। সরকারের পক্ষ থেকেও পরামর্শ রয়েছে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশভ্রমণ না করার। চীনে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসগুলোর ফ্লাইটও বন্ধের উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী আসা-যাওয়া কমে গেছে।

এদিকে করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া চীনের উহান থেকে ফেরার ২৫ দিন পর আজ মঙ্গলবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩১২ জন বাংলাদেশি। এ ছাড়া সতর্কতার অংশ হিসেবে চীনফেরত একজনকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ এইচ এম তৌহিদ-উল-আহসান গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে বিমানবন্দরে যাত্রী অনেক কমে গেছে। চীন থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসগুলো তাদের ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি অর্ধেকের বেশি কমিয়ে এনেছে। এরই মধ্যে একটি এয়ারলাইনস তাদের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রেখেছে।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপমহাব্যবস্থাপক তাহেরা খন্দকার গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দিল্লি, কুয়ালালামপুর, কাঠমাণ্ডু ও ব্যাংকক ফ্লাইটে যাত্রী কমে গেছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বিদেশভ্রমণের বিষয়ে সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সামনের দিনগুলোতে যাত্রী আরো কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

কয়েকটি এয়ারলাইনসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা থেকে চীনগামী ফ্লাইটগুলোতে যে হারে যাত্রী কমছে তাতে ফ্লাইট পরিচালনা করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে যাত্রীসংকটে যেকোনো সময় ফ্লাইট বন্ধ করে দিতে হতে পারে।

দেশীয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ছাড়াও চায়না ইস্টার্ন ও চায়না সাউদার্ন ঢাকা-চীন রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। আর ঢাকা থেকে হংকং রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করে ড্রাগন এয়ার।

ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইএটিএ) সিইও আলেকজান্ডার ডি জুনিয়েক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধের বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’ সংস্থাটি বলছে, দুই দশক আগে ছড়িয়ে পড়া সার্স ভাইরাসের বিস্তার কমতে প্রায় ছয় মাস সময় লেগেছিল। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’

এদিকে করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হওয়া চীনের উহান থেকে ফেরার ২৫ দিন পর আজ মঙ্গলবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন ৩১২ জন বাংলাদেশি। গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেই তাঁরা আটকে যান কোয়ারেন্টাইনের আওতায় রাজধানীর আশকোনা হাজি ক্যাম্পে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সেখান থেকে ছাড়া পেলেও আরো ১০টি বিশেষ সতর্কতা ও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকতে বলা হয় তাঁদের। আজ সেই মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তাঁরা সবাই সুস্থ আছেন। আজ থেকে তাঁদের পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আর কোনো বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। গতকাল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা এই তথ্য জানান।

ব্রিফিংয়ে বলা হয়, বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা সংশ্লিষ্ট দেশের স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে কিংবা বাংলাদেশে থাকা বিদেশিরা ভাষাগত সমস্যায় পড়লে আইইডিসিআরে যোগাযোগ করতে পারেন। সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইরান, ইতালির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশির অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি জানান, চীন থেকে ফিরে আসা এক রোগী গলা ব্যথা নিয়ে গত রবিবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁকে করোনাভাইরাস আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে তিনি কভিড-১৯ আক্রান্ত কি না তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।

হাসপাতালের চিকিত্সকরা জানান, প্রাথমিকভাবে ওই রোগী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে মনে হচ্ছে না। তার পরও যেহেতু তিনি চীন থেকে এসেছেন, সে জন্য সতর্কতার অংশ হিসেবে তাঁকে করোনা ইউনিটে রাখা হয়েছে। আগে থেকেই তাঁর টনসিলের সমস্যা ছিল। মনে করা হচ্ছে, তিনি টনসিলসংক্রান্ত অসুস্থতায় ভুগছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা