kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা

এবার ‘না’ বলল ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাবি সান্ধ্য কোর্স ৫ সপ্তাহের জন্য স্থগিত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এবার ‘না’ বলল ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

বুয়েট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে নিজস্ব পদ্ধতিতে আগের মতোই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে সমন্বিত বা কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় কারা থাকবে বা থাকবে না, সে ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কাজ করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, গতকাল বিকেলে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে একাডেমিক কাউন্সিলের একাধিক

সদস্য কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ইউজিসির এক সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্য কোর্স বন্ধের সুপারিশ করেছে ‘সান্ধ্য কোর্স’ যৌক্তিকতা যাচাই-বাছাই কমিটি। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নতুন আরেকটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল রাত সাড়ে ১০টায় সভা শেষে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, নতুন কমিটি আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এসংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। এ সময়ের মধ্যে সান্ধ্য কোর্সের কোনো ধরনের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বা নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম স্থগিত থাকবে।

এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, বিকেলে সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নেবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘কেন্দ্রীয় পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্যরা রাজি হননি। ফলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চলমান নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।’

সভায় উপস্থিত সদস্যরা জানান, সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাতন্ত্র্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা, গুণমান, স্বচ্ছতা ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঝুঁকিসহ কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত সদস্যদের কণ্ঠভোটে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

গত ২৩ জানুয়ারি দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে ইউজিসির এক মতবিনিময়সভায় কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরপর ১১ ফেব্রুয়ারি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায়ও এ বছর থেকেই কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে বুয়েট ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমি কাউন্সিলের সভা শেষে জানায়, তারা কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না।

এদিকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষায় কারা থাকবে বা কারা থাকবে না, সে বিষয়ে ইউজিসি কাজ করছে। গতকাল রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ভর্তিতে আসবে না—এ ব্যাপারে করণীয় কী, জানতে চাইলে সচিব বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী ও ইউজিসির সঙ্গে কথা বলব। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কেন আসতে চাচ্ছে না, সে ব্যাপারেও জানার চেষ্টা করব।’

সচিব বলেন, গত বছর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গুচ্ছ পদ্ধতির ভর্তিতে এসেছিল। এ বছর বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ভর্তির আওতায় আসছে। আশা করছি, আগামী বছর থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ই কেন্দ্রীয় ভর্তির আওতায় আসবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা