kalerkantho

সোমবার । ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ১  জুন ২০২০। ৮ শাওয়াল ১৪৪১

তদন্তের পর পিবিআইয়ের দাবি

সম্ভাব্য পাঁচ কারণে আত্মহত্যাই করেন সালমান শাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সম্ভাব্য পাঁচ কারণে আত্মহত্যাই করেন সালমান শাহ

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি বলে দাবি করেছে পুলিশের তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালতের নির্দেশে তৃতীয় দফা তদন্ত শেষে গতকাল সোমবার পিবিআই সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছে, সম্ভাব্য পাঁচ কারণে সালমান শাহ আত্মহত্যাই করেছেন। এসংক্রান্ত সাক্ষ্য-প্রমাণসহ আজ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হচ্ছে। তবে পিবিআইয়ের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছে সালমান শাহর পরিবার।

কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তকারীরা ৪৪ জন সাক্ষীর বক্তব্য রেকর্ড করেছেন, এর মধ্যে ১০ জন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। সালমানের মা নীলা চৌধুরী আদালত ও পিবিআইয়ের কাছে ঘটনাটি হত্যার পক্ষে ২১টি দাবি করেছিলেন। তদন্তে সেসবের প্রমাণ মেলেনি। ওই সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ‘অতিরিক্ত’ অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিয়ার সঙ্গে কলহ এবং মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতাসহ সম্ভাব্য পাঁচটি কারণে সালমান আত্মহত্যা করেন।

ঘটনার ২৩ বছর পাঁচ মাস ২০ দিন পর এসব তথ্য আবারও প্রত্যাখ্যান করেছে সালমানের পরিবার। তারা বলছে, প্রভাবশালী মহল হত্যার ঘটনাটি এবারও ভিন্ন খাতে নিয়েছে। এদিকে প্রবাসী চিত্রনায়িকা শাবনূর তাঁকে জড়িয়ে পিবিআইয়ের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, সহশিল্পীর মৃত্যুর ঘটনায় আমাকে জড়ানোটা ভিত্তিহীন।

ধানমণ্ডির প্রধান কার্যালয়ে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, এই তদন্ত প্রতিবেদন মঙ্গলবার (আজ) আদালতে জমা দেওয়া হবে। আগের দুই দফা ময়নাতদন্তে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিয়ে, তদন্তকালে সবার সাক্ষ্য বিবেচনা করে পিবিআই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তাঁকে হত্যা করা হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

আত্মহত্যার কারণসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পিবিআইপ্রধান বলেন, ‘পাঁচটি কারণ রয়েছে—সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিয়ার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতা (এ কারণে আগেও একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন), মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা, জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমান এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।’

সালমানের গৃহকর্মী মনোয়ারা বেগমের জবানবন্দির বরাত দিয়ে বনজ কুমার বলেন, ‘সালমান তাঁর স্ত্রী সামিরা ও শাবনূর দুজনকেই খুব ভালোবাসতেন। তিনি শাবনূরকেও বিয়ে করে দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সামিরা সতিন নিয়ে সংসার করতে রাজি হননি।’

পিবিআই সংবাদ সম্মেলনে স্কেচের মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রদর্শন করে। তাতে বলা হয়, ঘটনার আগের দিন এফডিসিতে স্টুডিওতে সালমান নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে প্রেমপিয়াসী ছবির ডাবিংকালে সেখানে যান স্ত্রী সামিরা। তিনি সেখানে গিয়ে দুজনকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন এবং রাগ করে বাসায় ফিরে যান।

রুবির বক্তব্য প্রত্যাখ্যান : সালমান শাহকে হত্যার দাবি নিয়ে তাঁর মা ও ভক্তরা যখন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ‘বিউটিশিয়ান’ রাবেয়া সুলতানা রুবির একটি ফেসবুক ভিডিও ভাইরাল হয়। ২০১৭ সালের ওই ভিডিওতে তিনি বলেছিলেন, ‘আত্মহত্যা নয়, হত্যার শিকার হয়েছিলেন সালমান এবং তা করিয়েছিল তাঁর স্ত্রীর পরিবার।’ এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে বনজ কুমার বলেন, ‘রুবি অসুস্থ। এর মধ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাটর্নি অফিসের (আদালত) মাধ্যমে আমাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁর চিকিৎসার কাগজপত্রও আমরা পেয়েছি।’

শাবনূরের প্রতিবাদ : পিবিআইয়ের সংবাদ সম্মেলনের পর শাবনূর গতকাল অস্ট্রেলিয়া থেকে এক প্রতিক্রিয়ায় তাঁকে জড়িয়ে এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কিসের জন্য আমার নাম জড়ানো হচ্ছে? সালমান যদি আত্মহত্যাও করে থাকে, তাহলে আমার কারণে কেন করবে! আমার নামটা জড়ানোর আগে সবারই একবার ভাবা উচিত। একজন মৃত মানুষের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে কথা বলাটা খুব বিশ্রী মনে হয়েছে।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘সালমানের স্ত্রীর সঙ্গেও আমার ভালো সম্পর্ক ছিল। ওর স্ত্রী সব সময় আমাদের সঙ্গেই থাকত। প্রেমের সম্পর্কের কিছু একটা যদি হতো, এটা তখন সবাই বুঝতে পারত। এত বছর পর এই ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে জড়িয়ে নোংরা উক্তি করার ব্যাপারটি মোটেও ভালো লাগছে না।’

পরিবারের প্রত্যাখ্যান : এবারও তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। লন্ডনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই তদন্তে প্রকৃত সত্য বের হয়নি। এটি একটি প্রহসন। সালমানকে হত্যা করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।’ সিলেটে সালমানের মামা আলমগীর কুমকুম বলেন, সালমান হত্যা মামলার রাজসাক্ষী তার মামি শাশুড়ি রুবি সুলতানা। এ মামলার পর তাকে সিআইডিতে তলব করে প্রশ্ন করা হলেও তখন তাকে উত্তর দিতে দেওয়া হয়নি। এমন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর সাক্ষ্য কি পিবিআই নিয়েছে? এই প্রতিবেদন মনগড়া।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা