kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

আশঙ্কা উড়িয়ে বড় সংগ্রহের পথে

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন শেষে) : জিম্বাবুয়ে : ১০৬.৩ ওভারে ২৬৫; বাংলাদেশ : ৭১ ওভারে ২৪০/৩

নোমান মোহাম্মদ   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশঙ্কা উড়িয়ে বড় সংগ্রহের পথে

কিছু প্রতিশ্রুতি আসলে ফাঁকা বুলির ফাঁদ। কিছু প্রতিশ্রুতি আদতে প্রতিজ্ঞার প্রতিশব্দ। টেস্ট শুরুর আগে সেঞ্চুরির যে কথা দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, তা এখনো পূরণ হয়নি বটে। তবে সেটি যে ফাঁকা বুলি না, বরং প্রতিজ্ঞায় শানিত—ব্যাটিং ইনিংসে এখন পর্যন্ত প্রমাণ করে চলেছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা!

সাত উইকেট অক্ষত রেখে এরই মধ্যে জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসের ২৫ রানের মধ্যে। তিন উইকেটে ২৪০ রানের স্বস্তিতে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরি এখনো পাননি কেউ। তবে সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের ১০ ইনিংসে যে দলের কারো সেঞ্চুরি নেই, ফিফটি মোটে ছয়টি, কোনো ইনিংসে নেই একটির বেশি ফিফটি—সেই বাংলাদেশের দুজন পেরিয়েছেন ফিফটি। নাজমুল হোসেন ৭১ রানে আউট হলেও মমিনুল হক অপরাজিত ৭৯-তে। থিতু হয়ে গেছেন মুশফিকুর রহিম (৩২*); প্যাড পরে অপেক্ষায় মো. মিঠুন, লিটন দাসরা।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এ ইনিংসে বাংলাদেশের কেউ সেঞ্চুরি না পেলে সেটিই হবে বিস্ময়কর! অধিনায়ক মমিনুল হকের প্রতিশ্রুতি ‘১০০-২০০-৩০০’র শেষ দুটি না হয় উহ্যই থাকুক আপাতত!

প্রতিশ্রুতির যেমন দুই রকম অর্থ করে নিতে পারেন, টেস্টের এই দ্বিতীয় দিনেরও তাই। উচ্চাঙ্গসংগীতের মতো। যেটিকে ‘ঘুমপাড়ানিয়া’ আখ্যায় অনেকের বক্রহাসি। আবার যাঁরা রস আস্বাদন করতে পারেন, তাঁদের কাছে তা শিল্পের চূড়ান্ত সৌন্দর্য। হালফিলের ধুমধাড়াক্কা টি-টোয়েন্টি যুগের দর্শকদের কাছে বাংলাদেশের ৭১ ওভারে ২৪০ রান ম্যাড়মেড়ে ঠেকতে পারে। ৩.৩৮ রানরেটকে মনে হতে পারে ঘুমপাড়ানিয়া। তবে কাল বাংলাদেশের ব্যাটিং যে ধ্রুপদি ফরম্যাটের চাহিদা মিটিয়েছে পুরোমাত্রায়— এ নিয়ে সামান্যতম সংশয় নেই।

সঙ্গে যোগ করুন, দিনের শুরুতে মাত্র ১৬.৩ ওভারে ৩৭ রানে জিম্বাবুয়ের শেষ চার উইকেটে তুলে নেওয়া। রঙিন চশমা চোখে না তোলা পুরনো ঘরানার দর্শকদের জন্য কাল ছিল তাই তারিয়ে তারিয়ে উপভোগের দিন।

সেটি আরো উপভোগ্য হতো দিনের শুরুতে কোনো স্বাগতিক-সন্তান পাঁচ উইকেটের কীর্তিক্লাবে যোগ দিলে। সুযোগটা তো ছিলই। আগের দিনের ছয় উইকেটের চারটির শিকারি নাঈম হাসান। আবু জায়েদ আবার আগের দিনের দুইয়ের সঙ্গে কালকের প্রথম দুই শিকারে ধরে ফেলেন সতীর্থকে। শেষ দুই উইকেটের একটি নিতে পারলেই অফ স্পিনার কিংবা পেসারের হয়ে যায় পাঁচ উইকেট। পারেন না তাঁরা। তাইজুল ইসলামের জোড়া শিকারে জিম্বাবুয়ে থেমে যায় ২৬৫ রানে।

ব্যাটিংয়ে নেমে চতুর্থ ওভারেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ভিক্টর নচিকে এক ওভারে দুটি বাউন্ডারি সাইফ হাসানের; এর মধ্যে স্ট্রেইট ড্রাইভটি চোখে মাখিয়ে দেয় আনন্দ-অঞ্জন। অথচ ওই পেসারের পরের ওভারেই কিনা তিনি কট বিহাইন্ড! তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন সে ধাক্কা সামলে নেন অনায়াস স্বচ্ছন্দে। জিম্বাবুয়ের বোলারদের চেপে বসতে দেননি কখনো। যখন প্রয়োজন, উল্টো টুঁটি চেপে ধরেছেন। তামিমেরই যেমন সাত বলের মধ্যে চার বাউন্ডারি লং অফ, স্কয়ার লেগ, মিড উইকেট ও পয়েন্ট দিয়ে। অনেক দিনের পাওনা মিটিয়ে বড় ইনিংস খেলাটা যখন ক্রমশ নিশ্চয়তার পথে, তখনই ছন্দঃপতন। ডোনাল্ড তিরিপানোর বলে ইনসাইড এজে কট বিহাইন্ড তামিম (৪১)।

৭৮ রানের জুটি ভাঙে, ৭৬ রানের আরেকটি জুটি গড়ে ওঠে। নাজমুলের সঙ্গে অধিনায়ক মমিনুলের। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের নড়বড়ে শুরুর দিন পেরিয়ে ক্রমশ পায়ের নিচের মাটি শক্ত করে তুলছেন ২১ বছরের চৌকস বাঁহাতি। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের ৪৪ ও ৩৮ রানে আত্মবিশ্বাস নাজমুল টেনে আনেন কালও। দারুণ কিছু শটে পৌঁছে যান ফিফটিতে। বাঁহাতি স্পিনার এইন্সলে এনডভুর বলে তাঁর জোরালো পুলে বল শর্ট লেগের ফিল্ডার প্রিন্স মাসভাউরির হেলমেটে লাগায় ক্ষণিকের আতঙ্ক ছড়ায় স্টেডিয়ামের। ঠিক পরের বলটি নাজমুলের ব্যাট-প্যাডের সঙ্গে একটু জন্য স্টাম্প ফাঁকি দিলে জিম্বাবুয়ের মুহূর্তের আশা যায় উবে। অবশ্য কিছুক্ষণ পর চার্লটন টিসুমার বলে আউট হয়ে যায় এই বাঁহাতি। ১৩৯ বলে সাত বাউন্ডারিতে ৭১ রানে থেমে যাওয়ায় নাজমুল পারেননি অধিনায়কের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে।

অগত্যা অধিনায়কেরই দায়! আফগানিস্তানের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের ৫২ রানের সাত ইনিংস পর আবার পঞ্চাশ পেরোন মমিনুল। অধিনায়ক হিসেবে ৩৭, ৭, ০, ০, ৩০ ও ৪১ রানের ছয় ইনিংস শেষেও। পাকিস্তান টেস্টের বিরতির পর মুশফিকের ব্যাটেও চেনা সুর। শট অফার না করে একবার আউট হতে হতে বেঁচে যাওয়াটুকুন বাদ দিয়ে।

মমিনুলের প্রতিশ্রুত সেঞ্চুরি তাই হচ্ছেই! বাংলাদেশের পরম প্রার্থিত জয়ের নিয়ামকও কি হয়ে উঠবে তা?

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা