kalerkantho

মঙ্গলবার। ৫ মাঘ ১৪২৭। ১৯ জানুয়ারি ২০২১। ৫ জমাদিউস সানি ১৪৪২

একটি বলেই এগিয়ে বাংলাদেশ

সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে) জিম্বাবুয়ে : ৯০ ওভারে ২২৮/৬

নোমান মোহাম্মদ   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



একটি বলেই এগিয়ে বাংলাদেশ

নাঈম হাসানের ৪ উইকেট। ছবি : কালের কণ্ঠ

টেস্টের প্রথম দিন। ৯০ ওভার। ৫৪০ বল। রোমাঞ্চের নাগরদোলায় যে বনবন করে ঘুরেছে কুয়াশামাখা সকাল, মধ্যদুপুর বা পড়ন্ত বিকেল—তা নয়। তবে দিনটি কার, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৫৩০তম বল পর্যন্ত।

ঝিম ধরা শেষ বেলায় জিম্বাবুয়ের সেঞ্চুরিয়ান ক্রেইগ আরভিনকে বোল্ড করে নাঈম হাসান যে একটু হলেও এগিয়ে দেন বাংলাদেশকে!

দিনের বাকি তখন মোটে দুই ওভার। ব্যাটের হাসি আর বলের খুশি সমানে সমান। জিম্বাবুয়ের ২২৬ রানের তৃপ্তি, বাংলাদেশের ৫ উইকেটের সন্তুষ্টি। এসবের ভিড়ে স্বাগতিকদের আফসোসের ফড়িং হয়ে ওড়ে ফিল্ডিং। বোলারদের তৈরি করা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে তো তখনই ম্যাচের লাগাম থাকে মমিনুল হকের কাছে! সেঞ্চুরিয়ান ক্রেইগ আরভিনের চোখরাঙানির ভয় আর থাকে না।

নাঈম সেটি থাকতেও দেননি। লেগ-মিডলে বল করেন। আরভিনের প্রত্যাশিত টার্ন করেনি তা। তবে বাংলাদেশের প্রত্যাশা মিটিয়ে সেটি আঘাত করে স্ট্যাম্পে। ২২৭ বলে ১০৭ রানে যথার্থ টেস্ট ইনিংস শেষে জিম্বাবুয়ের অধিনায়কের বিদায়। ৬ উইকেটে ২২৮ রানের সফরকারীদের তাই দ্বিতীয় দিন সকালে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার আশা স্বাগতিকদের। চার শিকার করা নাঈমের আরো বড় কীর্তির স্বপ্নেও বাড়াবাড়ি নেই কোনো।

সিরিজের একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনটি বাংলাদেশের জন্য ১৯ বছরের ওই তরুণের। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া জিম্বাবুয়েকে শুরুতে অবশ্য চেপে ধরেন দুই পেসার আবু জায়েদ ও ইবাদত হোসেন। প্রথম ছয় ওভারে ব্যাট থেকে আসে না কোনো রান। মুখোমুখি ২৩তম বলে রানের খাতা খোলেন কেভিন কাসুজা। ফ্লিক করে দুই রান নেওয়ার ঠিক পরের বলেই আউট। আবু জায়েদের বলে গালিতে দারুণ ক্যাচ নাঈমের। এরপর এই অফ স্পিনারকে বোলিংয়ে আনা হয় ১১তম ওভারে। সেই প্রথম সেশনে শুরু স্পেল দ্বিতীয় পেরিয়ে ঠেকে তৃতীয়তে। টানা ৩২ ওভারের স্পেল! তুলে নেন ৩ উইকেট। প্রথমটিতে ক্যাচ, পরের তিনটিতেই নিজের অফ স্পিন—জিম্বাবুয়ের প্রথম ৪ উইকেটেই নাঈমের প্রত্যক্ষ অবদান।

তবু যেন খুব আলগোছে শোনা যায় হাহাকারের গোঙানি। ওই যে ইনিংসের শুরুর দিকে আরভিনকে নাঈম কয়েকবার ‘বিট’ করেও ব্যাটের স্পর্শ পাননি! তাঁর বলে স্লিপ, পয়েন্ট, কাভার ফিল্ডারদের কয়েক হাত এদিক-ওদিকে পড়ে ক্যাচ। আবার রান আউটের সুযোগও হাতছাড়া করেন কাভারে দাঁড়ানো মুশফিকুর রহিম। ৩২ ওভারের স্পেলের পর ৯ ওভারের বিরতির সময় সেসবই ভাবছিলেন কি ওই অফ স্পিনার? সেসব আক্ষেপ ঘুচে যায় ৮৯তম ওভারে আরভিনের উইকেটে।

এর আগে শুরুর সাফল্য স্বাগতিকদের হলেও আকাশের সূর্য যত ওপরে উঠতে থাকে, আধিপত্যের পাল্লা হেলতে থাকে জিম্বাবুয়ের দিকে। প্রিন্স মাসভাউরে ও আরভিন এগোতে থাকেন সতর্কতায়। তাতে লাঞ্চের সময় ১ উইকেটে ৮০ রান। ফেরার পর ফিফটি করেন ওপেনার। এরপর নাঈমের অফ স্পিনে তিন ওভারে দেন তিনটি হাফ চান্স। উড়ে যাওয়া বল ফাঁকি দেয় শর্ট লেগ ফিল্ডারকে, ব্যর্থ হয় রিটার্ন ক্যাচ এবং প্রথম স্লিপে নাজমুল হোসেনের প্রচেষ্টা। পরে বাঁয়ে নিচু হয়ে ধরা রিটার্ন ক্যাচে নাঈমই ফেরান মাসভাউরেকে (৬৪); ভাঙেন ১১১ রানের জুটি। এরপর ব্রেন্ডন টেলরের (১০) উইকেটটি তো এক অর্থে বোনাস। টানা দ্বিতীয় বলে রিভার্স সুইপের চেষ্টায় বল টেনে বোল্ড হওয়ার ব্যাখ্যা জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞতম ব্যাটসম্যানের কাছে নেই নিশ্চয়ই।

ঢিমেতালে এগোনো ম্যাচে ধীরগতিতে ম্যাচে ফিরতে থাকে বাংলাদেশ। নাঈমের বলে টার্নের জন্য খেলে সিকান্দার রাজা (১৮) কট বিহাইন্ড। অনেক অনেক বাজে বল দেওয়ার ব্যতিক্রমী দিনে তাইজুল ইসলাম উইকেট শিকারের উল্লাসে মাতেন। তবে তা ক্ষণস্থায়ী। কেননা রিভিউ নিয়ে সে যাত্রা এলবিডাব্লিউ থেকে রক্ষা টিমিসেন মারুমার। আবু জায়েদের বলে আবার রিভিউ নিয়েও শেষরক্ষা হয় না।

এত এত কিছু ঘটে যাচ্ছে অন্য প্রান্তে; আরভিনের যেন তাতে থোড়াই কেয়ার। যুদ্ধের ময়দানের সেনাপতির মতো ২২ গজের রণক্ষেত্র আঁকড়ে থাকেন তিনি। ফিফটির জন্য ১১৭ বল লাগে লাগুক। সেঞ্চুরির জন্য ২১৩ বল লাগলেই বা কী! রক্ষণ-সৌন্দর্যে নিজ দলের আস্থা ও প্রতিপক্ষের চিন্তার কারণ হয়ে থাকেন আরভিন।

৫৪০ বলের দিনে ৫৩০তম বলে অবশেষে তাঁর প্রতিরোধ ভাঙেন ১৯ বছরের অফ স্পিনার। তাতেই নাঈমময় দিনটি বাংলাদেশের জন্য হয়ে ওঠে সর্বার্থেই আনন্দময়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা