kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

বিশেষজ্ঞ মত

চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা চাই

রাশেদা কে. চৌধূরী

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা চাই

আমরা দৌড়টা শুরু করেছিলাম। একটা জায়গায় এসে মনে হচ্ছে, আর পারছি না। প্রাথমিকে একটা পর্যায়ে এলেও মাধ্যমিকে ঝরে পড়াটা কমানোই যাচ্ছে না। এখন খুঁজে দেখা দরকার, কারা ঝরে পড়ছে। আর সেখানেই উত্তরটা আছে। অতিদরিদ্র, বিশেষ করে নগরদরিদ্র অথবা ভাসমান জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী শিশুরা ঝরে পড়ছে। প্রতিবন্ধীদের স্কুলে আনা হলেও তারা টেকে না। দু-একটা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার হার ভালো। বিশেষ করে চাকমা ও গারোরা ভালো করছে। কিন্তু  অন্যান্য জনগোষ্ঠীর অবস্থা খুবই খারাপ।

এ ছাড়া চর, হাওর, চা বাগান, নদীভাঙন এলাকা, উপকূলীয় এলাকা, সীমান্ত এলাকার শিশুদের মধ্যে ঝরে পড়ার হারটা বেশি। তাদের এই ঝরে পড়ার হার কমানো যাচ্ছে না।

এখন বলাই যায়, সরকার ফ্রি বই, উপবৃত্তি এত কিছু দিচ্ছে; তার পরও কেন ঝরে পড়ছে? আসলে কিন্তু শিক্ষার ব্যয় বেড়েছে ও বাড়ছে। শিক্ষার পারিবারিক ব্যয় বাড়ার বড় কারণ পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা। সমাপনী পরীক্ষার আগে কোচিংয়ের যে প্রসার তা সবার চোখের সামনেই ঘটছে। পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় পারিবারিক ব্যয় বাড়ছে অনেক বেশি। যারা বহন করতে পারে না, তারা ঝরে যায়। এটা মাধ্যমিকের ক্ষেত্রে অনেক বেশি ঘটছে। কারণ মাধ্যমিকে ভর্তি বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য এখনো প্রকট। বিভিন্ন স্কুল ভিন্ন ভিন্ন নামে টাকা নিচ্ছে। এতে অনেক অভিভাবকই আর পারছেন না।

মাধ্যমিকে গিয়ে মেয়েদের ক্ষেত্রে ঝরে পড়ার একটা কারণ নিরাপত্তাহীনতা। অবিশ্বাস্য সব ঘটনার কারণে মা-বাবারা সোজা পথ বেছে নেন। বিয়ে দিয়ে দেন। এতে একই সঙ্গে ঝরে পড়ার হার কমানো যাচ্ছে না, বাল্যবিয়ের হারও কমানো যাচ্ছে না।

ঝরে পড়ার হার কমাতে সবার জন্য এক পরিকল্পনা করলে হবে না। চা বাগানের জন্য একটা, চর-হাওরের জন্য আরেকটা পরিকল্পনা করতে হবে। চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনার পাশাপাশি বিনিয়োগটাও সেভাবে হওয়া উচিত। ১০ বছর ধরে কিন্তু প্রকৃত অর্থে শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ছে না। তাহলে তো পারিবারিক বিনিয়োগ বাড়বেই। যার একাধিক সন্তান পড়ালেখা করে, তার পক্ষে শিক্ষা ব্যয় বহন করাটা আসলেই কষ্টকর।

লেখক : তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা

অনুলিখন : শরীফুল আলম সুমন

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা