kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

মেঘ সরিয়ে রোদ্দুরের খোঁজে

নোমান মোহাম্মদ   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মেঘ সরিয়ে রোদ্দুরের খোঁজে

রাসেল ডমিঙ্গো লোকটি বেশ। হাসি-খুশি, দিলখোলা। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং অর্ডার বলে দেন। স্কোয়াডে থাকলেও মুস্তাফিজুর রহমান যে টেস্ট বিবেচনায় নেই, সেটি ঘোষণায় অকপট। আবার জাতীয় দলে বিসিবি প্রধানের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্নের ঢেউ সামলান নিজ দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণে। সবই হাসিমুখে!

কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটাকাশে সূর্যের হাসি নেই। সেখানে মেঘের পরে মেঘ জমেছে। এর উল্টো পিঠে হেলান দিয়ে রোদ্দুর দাঁড়িয়ে থাকার গল্প তো শোনা যাচ্ছে অনেক দিন। কিন্তু ডমিঙ্গো দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এর দেখা নেই।

আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শুরু টেস্টে মেঘ সরিয়ে রোদ্দুর খোঁজার অভিযানে বাংলাদেশ!

আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে দুঃসময়। সেটি সব ফরম্যাটেই। তবে টেস্টের মতো নাজুক অবস্থা কিছুতেই না। ২০১৯ সাল থেকে ধরলে ছয় টেস্টের ছয়টিতেই হার বাংলাদেশের; পাঁচটি ইনিংস ব্যবধানে। ডমিঙ্গো দায়িত্ব নেওয়ার পর আফগানিস্তানের কাছে ঘরের মাঠে ২২৪ রানের পরাজয়। এরপর ভারতে দুই এবং পাকিস্তানে এক টেস্টে ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার ব্যর্থতা। এ ঘূর্ণাবর্ত থেকে বেরোনোর জন্য ঘরের মাঠের চেনা ফর্মুলা থেকে এবার বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ। ঘূর্ণি ফাঁদের বদলে স্পোর্টিং ২২ গজই হবে এ টেস্টের রণক্ষেত্র।

এমন কিছু যে হতে যাচ্ছে, স্কোয়াড ঘোষণার সময়ই বোঝা গিয়েছিল।

১৬ সদস্যের দলে পাঁচজনই যে পেসার! স্পেশালিস্ট স্পিনার মাত্র তিন জন। অথচ ঘরের মাঠে সর্বশেষ তিন টেস্টে চার স্পিনারে বোঝাই ছিল একাদশ। সর্বশেষ দুই টেস্টে তো কোনো পেসারই ছিলেন না! এমন প্রেক্ষাপটেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একাদশে দুই পেসার নিয়ে নামার ঘোষণা ডমিঙ্গোর, ‘আমরা হয়তো দুই সিমার নিয়ে খেলব। এক সিমার নিয়ে খেলায় দল উপকৃত হচ্ছে বলে মনে করি না। তিন পেসার নিয়ে খেলতে পারলে দারুণ হতো ওদের একজন ৭ নম্বরে ব্যাটিংয়ের মতো। তবে সাইফউদ্দিন ফিট হওয়া কিংবা ৭ নম্বরে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি প্রথম দিন ১০-১৫ ওভার পেস বোলিং করে দিতে পারার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত দুই সিমার নিয়েই হয়তো খেলব আমরা।’ উইকেট থেকে পেসারদের সুবিধা পাওয়ার প্রত্যাশাও তাঁর, ‘আজ সকাল ১০টার দিকেও নেটে দেখলাম কিছুটা কুয়াশা রয়েছে। শীতের কিছুটা এখনো বাকি, টেস্টের প্রথম দিনের ১০-১২ ওভার তাই গুরুত্বপূর্ণ। যদি বোলিং করি, তাহলে সিমারদের ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে। উইকেটে কিছু থাকলে সেটি যেন ওরা কাজে লাগাতে পারে।’

২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে স্পিনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কৌশল থেকে তাহলে বেরিয়ে আসছে বাংলাদেশ। বিদেশে ভালো করার তাগিদের এতে বড় ভূমিকা। কোচ তা বলেছেন, অধিনায়ক মমিনুল হকের কথায়ও এর প্রতিধ্বনি, ‘সব সময় এক কৌশলে খেললে প্রতিপক্ষ আপনাকে ধরে ফেলবে। আর পেসার না খেলালে বিদেশে আমাদের ভুগতে হয়।’ মানসিকতার এ পরিবর্তনে টেস্ট সংস্কৃতি গড়ার কথাও মনে করিয়ে দেন ডমিঙ্গো। তাতে শুধু উইকেট না, প্রস্তুতির ব্যাপারটিকেও দেখেন বড় করে, ‘অবশ্যই জয়ের গুরুত্ব সর্বাধিক। তবে একই সঙ্গে আমাদের টেস্ট সংস্কৃতিও গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের কোচ হিসেবে আমি এ টেস্ট শুরু করছি অন্য যেকোনো টেস্টের চেয়ে বেশি আত্মবিশ্বাস নিয়ে। কারণ চার-পাঁচ দিন ধরে দল নিয়ে একসঙ্গে আছি। পাকিস্তানে পরের সূচিটাই দেখুন। আমরা উড়ে যাব, ওয়ানডে খেলব, অনুশীলন করেই নেমে যাব টেস্টে। কোনো সিরিয়াস টেস্ট দলের সূচি এমন হতে পারে না। এ জায়গায় পরিবর্তন করতেই হবে। এটি ক্রিকেট সংস্কৃতির ব্যাপার। টেস্টের প্রতি আমাদের আরো অনেক মনোযোগ দিতে হবে।’

তবে সংস্কৃতি তো আর এক দিনে গড়ে ওঠার জিনিস না। সে জন্য সময় দিতে হবে। আর বাংলাদেশের এখনকার মনোযোগ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট জয়ে। বিপর্যয়ের চোরাবালি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সেটি যে বড্ড প্রয়োজন! অধিনায়ক মমিনুলের কথায় সেই সুর, ‘এ ম্যাচ জিতলে পুরো ব্যাপারটাই বদলে যাবে। খারাপ সময় কেটে যাবে অনেকটা। আর প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের জন্য খেলতে নামি। সেটি জিম্বাবুয়ে হোক কিংবা অস্ট্রেলিয়া।’ প্রতিপক্ষকে খাটো করে দেখছেন না বলেও জানান তিনি, ‘জিম্বাবুয়ে আমাদের দেশে খেলতে এসেছে বলে হালকাভাবে নেওয়ার কিছু নেই। আমি সব সময় ওদের ভালো দল হিসেবেই ধরি।’

সফরকারীদের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনের কথায়ও বিশ্বাসের ছটা। সর্বশেষ সিরিজের ভালো ফর্ম আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বলে জানান, ‘শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজটি ভালো গেছে। দুটো টেস্টই গড়ায় পঞ্চম দিনে। সে সিরিজ থেকে যে বিশ্বাস পেয়েছি, সেটি বাংলাদেশের বিপক্ষেও নিয়ে আসতে চাই।’ টেস্টে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের খারাপ ফর্মের কথা জানেন। এর পরও সমীহের কমতি নেই, ‘অবশ্যই নিজেদের কন্ডিশনে ওরা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। কিন্তু এখানে প্রায়ই সফরে আসায় কন্ডিশন আমাদের কাছেও পরিচিত। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ তাই আশা করছি।’

বাংলাদেশের আশার রাজ্যে অবশ্য ওসব প্রতিদ্বন্দ্বিতা-ট্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। জিততে চায় শুধু। দাপুটে, রাজসিক জয়। তাহলেই তো ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে’র গুমোট থেকে ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’য় ঝলমলিয়ে উঠবে আবার বাংলাদেশের ক্রিকেট।

সদানন্দে থাকা রাসেল ডমিঙ্গোর সদাহাস্য মুখের মতোই!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা