kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

একুশে পদক বিতরণে প্রধানমন্ত্রী

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে

একুশে পদকপ্রাপ্তদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। ছবি : পিআইডি

বাংলাদেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে আরো উদ্যোগী হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘একুশে পদক-২০২০’ বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ তাগিদ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বাঙালি। আমাদের সাংস্কৃতিক চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের সাহিত্য ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাতে আরো বিস্তার লাভ করে, সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে পৃথিবীতে কোনো দেশ একা চলতে পারে না, সারা বিশ্বকে নিয়েই চলতে হয়। তাই অন্যান্য ভাষা শেখাও

গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাই বলে নিজের ভাষাকে ভুলে যাওয়া আমাদের জন্য মোটেই ঠিক নয়। ভাষার মর্যাদা আমাদের সব সময় দিয়ে যেতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই একুশ আমাদের শিখিয়েছে মাথা নত না করা। একুশ শিখিয়েছে আত্মমর্যাদাবোধ। একুশের এই রক্তের অক্ষরেই লিখে রাখা হয়েছিল আগামী দিনে আমাদের স্বাধীনতা।’ তিনি বলেন, ‘অমর একুশে ফেব্রুয়ারি দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। আমরা চাই এই গৌরবের ইতিহাস আমাদের দেশের প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন জানতে পারে।’

ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি জাতির পিতা পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ গড়ে তোলেন। তাঁরই প্রস্তাবে সেই সময় ভাষা আন্দোলনের জন্য ছাত্রসমাজকে নিয়ে, অর্থাৎ তখনকার ছাত্রলীগ, তমদ্দুন মজলিসসহ আরো কিছু প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল ছিল, তাদের নিয়ে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। এটা ছিল (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের) ফজলুল হক হলে, ২ মার্চ। সে অনুষ্ঠানের পরেই তারা ঘোষণা দেয় ১১ই মার্চ হবে ভাষা দিবস। সেই ১১ই মার্চ থেকে মূলত ভাষা আন্দোলন শুরু। এর পর থেকে ১১ই মার্চ এই ভাষা দিবস হিসেবেও পালন করা হতো।’

সেই আন্দোলন করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে যে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে, নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, সে কথাও স্মরণ করেন তাঁর মেয়ে শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “তাঁর এই আন্দোলন সংগ্রামের বিষয়ে আপনারা জানতে পারেন তাঁর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ থেকে, সেখানে তিনি স্পষ্টভাবে এ কথাগুলো লিখে দিয়ে গেছেন যে কিভাবে তিনি ভাষা আন্দোলন করেন।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, একসময় তাঁর নামটা এই ভাষা আন্দোলন থেকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ইতিহাস ইতিহাসই। সেটা কেউ মুছে ফেলতে পারে না।’

ভাষা আন্দোলনের সূচনা থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে পাকিস্তানি গোয়েন্দা নথিগুলো সংগ্রহ করে সেগুলো প্রকাশ করার উদ্যোগের কথাও প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি এটা করেছি। কেন করেছি? তার কারণ হচ্ছে আমি যখন দেখেছি একটার পর একটা ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলন বা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম সব কিছু থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলার একটা অপচেষ্টা দীর্ঘদিন দেশে চলেছে। প্রায় একুশটা বছর।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই আমি চেয়েছিলাম মানুষের সত্যটা জানা দরকার। আর এই সত্যটা জানানোর জন্যই আমি এই দায়িত্বটা নিই এবং এটা আজকে প্রকাশ হচ্ছে। এটা ১৪ খণ্ডে পুরো প্রকাশ হবে। এর মাধ্যমে আমাদের দেশের ভাষা আন্দোলনের অনেক ইতিহাস জানা যাবে।’

শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ করা, লক্ষ্য পূরণ করা আমাদের লক্ষ্য।’ সেই স্বপ্ন পূরণে সবার সহযোগিতা চেয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “এই মাতৃভূমিকে আমাদের সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে হবে। যেন বিশ্বের কোথাও গিয়ে ‘বাংলাদেশ’ শুনলে যেন আমাদের আর কেউ অবহেলা করতে না পারে। ‘বাংলাদেশ’ শুনলে যেন সবাই আমাদের সম্মানের সাথে দেখে, বাঙালিকে এবং বাংলাদেশকে সেইভাবে আমরা একটা আত্মমর্যাদাশীল দেশ হিসেবে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।”

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০ ব্যক্তি এবং এক প্রতিষ্ঠানকে এ বছর দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসরকারি এ সম্মাননা ‘একুশে পদক’ প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। পদকপ্রাপ্তরা হলেন—ভাষা আন্দোলনে আমিনুল ইসলাম বাদশা (মরণোত্তর), শিল্পকলায় (সংগীত) বেগম ডালিয়া নওশিন, শঙ্কর রায় ও মিতা হক, শিল্পকলায় (নৃত্য) মো. গোলাম মোস্তফা খান, শিল্পকলায় (অভিনয়) এম এম মহসীন, শিল্পকলায় (চারুকলা) অধ্যাপক শিল্পী ড. ফরিদা জামান, মুক্তিযুদ্ধে হাজী আক্তার সরদার (মরণোত্তর), আব্দুল জব্বার (মরণোত্তর), ডা. আ আ ম মেসবাহুল হক (বাচ্চু ডাক্তার) (মরণোত্তর), সাংবাদিকতায় জাফর ওয়াজেদ (আলী ওয়াজেদ জাফর), গবেষণায় ড. জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ-কারি আল্লামা সৈয়দ মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান নিজামী শাহ, শিক্ষায় অধ্যাপক ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়া, অর্থনীতিতে অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, সমাজসেবায় সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ভাষা ও সাহিত্যে ড. নুরুন নবী, সিকদার আমিনুল হক (মরণোত্তর) ও বেগম নাজমুন নেসা পিয়ারি এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে প্রসূতি মায়ের জীবন রক্ষায় সায়েবা’স কীটের উদ্ভাবক অধ্যাপক ডা. সায়েবা আখতার। পাশাপাশি ‘গবেষণা’য় একুশে পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩ তোলা ওজনের ১৮ ক্যারেট সোনার তৈরি একটি স্বর্ণপদক, পুরস্কারের অর্থের চেক এবং একটি সম্মাননাপত্র প্রদান করা হয়। সূত্র : বাসস।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা