kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

এসডিজি নিয়ে সিপিডির প্রতিবেদন

সঠিক পথে নেই বাংলাদেশ

সংসদে আলাদা অধিবেশন ডাকার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সঠিক পথে নেই বাংলাদেশ

জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সঠিক পথে নেই বাংলাদেশ। এমনকি কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিচার-বিশ্লেষণ করার মতো তথ্য-উপাত্ত পর্যন্ত নেই। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।

সিপিডি বলেছে, বৈষম্য দূরীকরণ, শান্তি ও ন্যায়বিচার, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের এখনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। তবে সবার জন্য শিক্ষা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রাথমিকভাবে সাফল্য এসেছে। এসডিজি অর্জনে সফল হতে হলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ ও রাষ্ট্রীয়ভাবে জবাবদিহি এবং সুশাসন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। এ ছাড়া কয়েকটি ক্ষেত্রে নীতিগত ব্যাপক সংস্কারের দাবি করা হয়েছে।

‘চার বছরে বাংলাদেশের এসডিজি বাস্তবায়ন মূল্যায়ন : বেসরকারি খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে সিপিডি ও এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে সংলাপের আয়োজন করে। সংলাপে জাতীয় সংসদের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ড. রেনে হোলেস্টেইন, জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো, সিপিডির চেয়ারপারসন ড. রেহমান সোবহান, সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনসহ অন্যরা বক্তব্য দেন। সংলাপে এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ছয়টি লক্ষ্যের ২০১৫-২০১৯ সময়কালের বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরেন ড. ফাহমিদা খাতুন। ওই ছয়টি লক্ষ্য হলো শিক্ষা, শোভন কাজ, বৈষম্য, জলবায়ু রক্ষা পদক্ষেপ, শান্তি ও ন্যায়বিচার এবং অংশীদারি। তিনি বলেন, শিক্ষা, অংশীদারি ও শোভন কাজ এই তিনটি লক্ষ্য বাস্তবায়নে মোটামুটি সঠিক পথে রয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু নীতিগত অনেক সংস্কার প্রয়োজন। বৈষম্য, জলবায়ু রক্ষায় পদক্ষেপ এবং শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনে ভুল পথে রয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এ লক্ষ্যগুলো অর্জনে বিদ্যমান নীতিতে ব্যাপক সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের তাৎপর্য ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

জাতিসংঘ ঘোষিত ১৫ বছর মেয়াদি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বাস্তবায়নে জাতীয় সংসদে আলাদা একটি অধিবেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, ‘এতে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এসডিজি নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মতামত পাওয়া যাবে। এ ছাড়া সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এক ধরনের জবাবদিহি তৈরি হবে।’

রেহমান সোবহান বলেন, ‘এসডিজি লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে সরকারের মূল কাজের অংশ হিসেবে নিতে হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত এসডিজি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা পর্যন্ত হয়নি। অথচ জনপ্রতিনিধিরা দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন।’ তাঁর মতে, পুরো এসডিজি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়ায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের কথা খুব বেশি আলোচনা হচ্ছে না। পুরোটাই যেন সরকারের বাস্তবায়নের বিষয়। তিনি সুধীসমাজকে এসডিজি বাস্তবায়নে সম্পৃক্ত করার তাগিদ দেন।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এসডিজির অনেক লক্ষ্য অর্জনে সঠিক পথে রয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু সেটি আবার গুণগত মানসম্পন্ন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষায় অগ্রগতি হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষিত বেকারত্ব বাড়ছে। এমন শিক্ষা দেওয়া যাবে না, যে শিক্ষাকে বাজার স্বীকৃতি দেয় না। তাই এখনই ভাবতে হবে শুধু সনদ অর্জন নয় এমন শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে, যেটি কাজে লাগে। সংখ্যার আধিক্য নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, বৈষম্য এবং ন্যায়বিচারে বাংলাদশ ভালো করছে না। তিনি মনে করেন, বৈষম্য থাকলে অন্য লক্ষ্যগুলো অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা