kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

খালেদা জিয়ার কারামুক্তি

জামিন না পেলে আবেদনে যেতে পারে পরিবার

এনাম আবেদীন   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জামিন না পেলে আবেদনে যেতে পারে পরিবার

চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার জামিন না হলে শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোল অথবা সাজা স্থগিতের আবেদন করা হতে পারে। তবে খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেছেন, ‘জামিন না হলে কী করব সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিবার কী করবে সেটি বিএনপি নেতাদের জানার কথাও নয়। ওনাদের কাজ ওনারা করবেন, আমাদেরটা আমরা করব।’

অবশ্য ওই আবেদনের আগে দলের আইনজীবী নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে বলে জানা গেছে। প্যারোল নাকি সাজা স্থগিতের আবেদন করা হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে কারো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করতে পারেন রাষ্ট্রপতি। অবশ্য এ ধরনের বিষয় নিষ্পত্তির জন্য সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হয়।

অন্যদিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় বলা আছে, সরকার যেকোনো সময় বিনা শর্তে বা দণ্ডিত ব্যক্তি যা মেনে নেয়—সেইরূপ শর্তে দণ্ড স্থগিত কিংবা সম্পূর্ণ বা আংশিক মওকুফ করতে পারবে। বিএনপির আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ফৌজদারি কার্যবিধির এই ধারায় সম্প্রতি খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেছেন।   

তবে পরিবারের কোনো আবেদনের সঙ্গে দলগতভাবে যুক্ত হবে না বিএনপি। কারণ দলটির নেতারা এখনো নিশ্চিত নন যে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘সমঝোতা’ করে বা অন্য কোনো উপায়ে মুক্তি নিতে রাজি কি না। প্রায় এক বছর ধরে চেষ্টা করেও বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। যদিও পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাচ্ছেন।

সর্বশেষ গত ১১ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার পরিবারের সদস্যরা বিএসএমএমইউতে (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। আর একই দিনে তাঁরা উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদাকে বিদেশে নেওয়ার সুপারিশ চেয়ে প্রতিষ্ঠানটির উপাচার্যের কাছে আবেদন করেছেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, যেকোনো উপায়ে তাঁরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান। এমনকি প্রয়োজন হলে প্যারোলেও তাঁদের আপত্তি নেই।

তবে পরিবারের ওই কথা খালেদা জিয়ার কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি বিএনপি। দলটির বেশির ভাগ নেতাই মনে করেন, পরিবারের সদস্যদের কাছে আবেগ তথা খালেদা জিয়ার জীবন বাঁচানোই প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে জীবন বাঁচানোর পক্ষে থাকলেও খালেদা জিয়ার ভাবমূর্তি তথা তাঁর মুক্তির সঙ্গে রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা মাথায় রাখতে হচ্ছে দলকে। সে কারণে প্যারোল বা অন্য কোনো আবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জড়িত হতে চায় না বিএনপি। গত মঙ্গলবার দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘কারাবন্দি চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির আবেদন সম্পূর্ণ তাঁর পরিবারের বিষয়।’ তিনি এও বলেন যে, ‘খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তি নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আমার কোনো কথা হয়নি।’

তবে মুক্তির বিষয়ে খালেদা জিয়ার পরিবারের কোনো উদ্যোগে আবার বিএনপি নেতারা বাধাও দিচ্ছেন না। তাঁরাও খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। দলটির আইনজীবী নেতাদের এখনকার তত্পরতা হলো, বিএসএমএমইউতে তাঁর পরিবারের করা আবেদন অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করে। আদালত ওই প্রতিবেদন বিবেচনায় নিলেই খালেদা জিয়ার জামিন মিলবে বলে আশা করছেন তাঁরা। আর এ জন্যই হাইকোর্টে জামিন আবেদন করা হয়েছে। আগামী রবিবার যার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি স্বাস্থ্যগত কারণ বিবেচনায় নিলে বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন মিলবে।’ তিনি বলেন, ‘যদিও বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার, তবে সরকারকে বলব, তারাও যেন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কারণ তাদের বোঝা উচিত যে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কিছু হয়ে গেলে সেটি দেশে গণতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের জন্যও কোনো শুভ ফল বয়ে আনবে না।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘জামিন না হলে দেশের জনগণ দেখবে কী হচ্ছে!’ কারণ তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জীবন বিপন্ন। তিনি হেঁটে জেলখানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাঁর শুয়ে বের হতে হবে। তা ছাড়া সাত বছরের কারাদণ্ডের এরই মধ্যে তিনি দুই বছর খেটেছেন। অন্য যেকোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এখন জামিন মিলত।’ এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রবীণ এই নেতা আরো বলেন, ‘আদালত মনে করলে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাইতে পারেন।’

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী জয়নুল আবেদীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনে তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জামিন মিলবে। না মিললে কী করা হবে সে বিষয়ে এখনই বলার সময় আসেনি। বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পাশাপাশি চেয়ারপারসনের পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এদিকে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত কিছু একটা হবে এমনই মনে করছেন দলটির নেতারা। তাঁদের মতে, খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে বিদেশিদের পক্ষ থেকেও কিছুটা চাপ রয়েছে। পাশাপাশি খালেদা জিয়ার ‘কারাগারে কিছু হয়ে যাক’ সেটিও সরকার চাইবে না। কারণ এ ধরনের ঘটনা ঘটলে রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগেরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তাঁরা মনে করেন। ফলে সরকারের সংশ্লিষ্টদের তাঁরা বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, যা হওয়ার হয়েছে। এখন চিকিৎসার জন্য অন্তত তাঁকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হোক।

অনেকে অবশ্য এটিও মনে করেন যে কারামুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া বিদেশে যাবেন কি না তা নিয়ে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনেকের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। কারো মতে, কারাগার থেকে তাঁর বের হওয়ার সময়ই ব্যাপক জনসমাগম হতে পারে, যে সুযোগ সরকার সৃষ্টি করতে চাইছে না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবারই বলেছেন, বিএনপি জনবিস্ফোরণ ঘটাতে চায়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা