kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

সিঙ্গাপুরে এক বাংলাদেশি সংকটাপন্ন

দেশে ৭৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিঙ্গাপুরে এক বাংলাদেশি সংকটাপন্ন

সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক বাংলাদেশির অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’ বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। মঙ্গলবার থেকে তাঁর শরীরে আর ওষুধ কাজ করছে না। ৩৯ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি অনেক দিন ধরেই শ্বাসকষ্ট এবং কিডনি জটিলতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে গত ২১ জানুয়ারি থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত দেশের সব প্রবেশপথে মোট দুই লাখ ২০ হাজার ৫৫৩ জন বিদেশফেরত যাত্রীর প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে সবচেয়ে বেশি এক লাখ ছয় হাজার ৬৩ জন যাত্রী আকাশপথে, এক লাখ ১২ হাজার ৭৯৬ জন সড়কপথে, দুই হাজার ৫৭২ নৌপথে ও এক হাজার ৬৯৪ জন রেলপথে আসা যাত্রীর স্ক্রিনিং করা হয়। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় স্ক্রিনিংকৃত যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ৬৩৩ জন।

গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান সকালে আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেছেন, সেখানে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুব ক্রিটিক্যাল।’

১৩ দিন ধরে ওই বাংলাদেশি নির্মাণশ্রমিক আইসিইউতে আছেন জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘ওষুধ আর কাজ না করায় তাঁর ব্যাপারে সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকরা শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাঁকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। কিন্তু  গতকাল (মঙ্গলবার) থেকে ওষুধ কাজ করছে না।’  প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মোমেন বলেন, সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত রোগীদের নাম সরকার জানে। তবে তাঁদের ‘প্রাইভেসির’ স্বার্থে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ নাম প্রকাশ করতে চায় না।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনাভাইরাস নিয়ে এক শ্রেণির মানুষ কিছু মিথ্যা গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করছে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর মহাখালীতে নার্সিং অধিদপ্তরের নতুন ভবন পরিদর্শনের একপর্যায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের মুখে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্য খাত সব দিক দিয়ে এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। এরই মধ্যে দেশের সব প্রবেশপথে দুই লাখেরও বেশি মানুষকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। সন্দেহজনক ৭২ জন বিদেশফেরত মানুষকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে একজনও করোনাভাইরাস সংক্রমিত হয়নি। আর কোনো কারণে কোনো সংক্রমিত করোনা রোগী চলে এলেও তার চিকিৎসার সব ধরনের জোরালো প্রস্তুতি রয়েছে। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, নার্সিং অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট-আইইডিসিআরের করোনা কন্ট্রোল রুমের পক্ষ থেকে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট ৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে কারোই করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। তাঁর এ বক্তব্যের পর গতকাল বিকেলে আরো একজনের পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়। সেটাও নেগেটিভ এসেছে বলে কালের কণ্ঠকে জানান ড. সেব্রিনা ফ্লোরা।

সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে থাকা করোনা আক্রান্তদের বিষয়ে ড. সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আমরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা একজন বাংলাদেশির জন্য সবার কাছে দোয়া চাইছি।’

কালের কণ্ঠ’র বরগুনা প্রতিনিধি জানান, সেখানে হাসপাতালে ভর্তি চীনফেরত শিক্ষার্থীটিও করোনা আক্রান্ত নন বলে নিশ্চিত হয়েছে বরগুনার স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি চীন থেকে বরগুনা ফিরে জ্বরে আক্রান্ত হলে ওই শিক্ষার্থীকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। তাঁর শরীর থেকে নেওয়া নমুনা ঢাকার মহাখালী আইইডিসিআরে পাঠিয়ে পরীক্ষায় ভাইরাস পাওয়া যায়নি বলে বুধবার দুপুরে নিশ্চিত করেছেন বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহিন খান।

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান, ভারতের মেদিনীপুর ওরস শরিফ থেকে ফেরত আসা যাত্রীদের জন্য চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা সীমান্ত চেকপোস্টে করোনাভাইরাস পরীক্ষায় অতিরিক্ত জনবল দিয়েছে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিস। বুধবার সকাল থেকে মেদিনীপুর ওরস শরিফের বিশেষ ট্রেনের যাত্রীদের দর্শনা আন্তর্জাতিক স্টেশনে এবং অন্য যানবাহনের যাত্রীদের দর্শনা স্থল চেকপোস্টে পরীক্ষার জন্য ৩২ জন চিকিৎসক নিয়ে গঠিত দুটি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা