kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

করোনাভাইরাস

প্রাণ গেল আরেক চিকিৎসকের

কমল সংক্রমণ-মৃত্যু বয়স্ক-অসুস্থরা ঝুঁকিতে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



প্রাণ গেল আরেক চিকিৎসকের

নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল চীনের উহান শহরের একটি হাসপাতালের পরিচালক মঙ্গলবার সকালে মারা গেছেন। কভিড-১৯ রোগে প্রাণ হারানো দেশটির বিশিষ্ট চিকিৎসকদের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। এর আগে মারা যান এ ভাইরাস নিয়ে প্রথম সতর্ককারী চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং। সতর্ক করতে গিয়ে তিনি প্রশাসনের হয়রানির মুখে পড়েন। এ কারণে তাঁর মৃত্যুর পর চীনজুড়ে আলোড়ন তৈরি হয়। সব মিলিয়ে কভিড-১৯ রোগে অন্তত সাত স্বাস্থ্যকর্মীর প্রাণ গেল।

এদিকে গত সোমবার চীনে কভিড-১৯ রোগে মৃতের সংখ্যা কমেছে। এদিন মারা গেছে ৯৮ জন। তাতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮৬৮ জনে। একই দিন কমেছে সংক্রমিতের সংখ্যাও। ২৪ ঘণ্টায় সংক্রমিত হয়েছে এক হাজার ৮৮৬ জন। জানুয়ারি থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত এক দিনে নতুন সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটিই সবচেয়ে কম সংখ্যা বলে দাবি করেছে চীন। সব মিলিয়ে সংক্রমিতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২ হাজার ৪৩৬ জনে। তবে এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছে ১২ হাজার ৫৫২ জন।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, উচাং হাসপাতালের পরিচালক লিউ ঝিমিং গতকাল মঙ্গলবার সকালে মারা যান। তাঁকে বাঁচাতে সব ধরনের চেষ্টাই করা হয়েছিল।

উচাং হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক কভিড-১৯ রোগীর চিকিৎসা চলছে। বেইজিংয়ের সংবাদমাধ্যম কেইক্সিনয় বলছে, চীনে অন্তত তিন হাজার স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত। এর আগে গত সপ্তাহে চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, সেবা দিতে এক হাজার ৭১৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

চিকিৎসক লির মৃত্যুর মতো হাসপাতালের পরিচালক লিউয়ের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও সোমবার চীনা ইন্টারনেট জগতে বিভ্রান্তি ছিল। রাতে হুবেই স্বাস্থ্য কমিশনের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে প্রথমে তাঁর মৃত্যুর খবর দেওয়া হলেও পরে সংশোধনী পোস্টে তাঁর জীবিত থাকার কথা বলা হয়। এই ‘ভুলের জন্য’ লিউয়ের এমন এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে দায়ী করা হয়, যিনি সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতেন না। দ্বিতীয় পোস্টে স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, লিউয়ের স্বজনদের তথ্য মতে, তাঁকে বাঁচানোর জন্য এখনো যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। গতকাল সকালে রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন লিউয়ের মৃত্যুর ঘোষণা দেওয়ার পর কমিশন আর কোনো বার্তা দেয়নি।

প্রবল চেষ্টা সত্ত্বেও করোনাভাইরাস মোকাবেলা করার জন্য কোনো ওষুধ এখনো তৈরি হয়নি। তবে পরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে জাপান জানিয়েছে, তারা এইচআইভি মোকাবেলায় ব্যবহার করা একটি ওষুধ দিয়ে করোনা থামানো যায় কি না, তার পরীক্ষা করে দেখবে। চীনের চিকিৎসকরা আবার প্লাজমা থেরাপির মাধ্যমে করোনা আটকাতে চাইছেন। তাঁদের দাবি, খুব ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে।

বয়স্ক ও অসুস্থদের ঝুঁকি বেশি : চীনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ৪৪ হাজারের বেশি কভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য নিয়ে একটি জরিপের ফল প্রকাশ করেছেন। বলা হচ্ছে, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর এটিই এই রোগ নিয়ে বৃহত্তম জরিপ। চীনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিসিডিসি) তথ্যে বলা হচ্ছে, ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রেই রোগী স্বল্প ঝুঁকিতে আছে। যারা বেশি ঝুঁকিতে, তাদের মধ্যে বয়স্ক ও অন্যান্য রোগে অসুস্থ থাকা ব্যক্তিরা আছে।

সিসিডিসির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, করোনায় হুবেই প্রদেশে মৃত্যুহার ২.৯ শতাংশ, যেখানে সারা দেশে এই হার ০.৪ শতাংশ। সব মিলিয়ে কভিড-১৯ ভাইরাসে মৃত্যুহার ২.৩ শতাংশ।

সিসিডিসির এ প্রতিবেদন চায়নিজ জার্নাল এপিডেমিওলোজিতে প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮০.৯ শতাংশ সংক্রমণ নমনীয় মাত্রার, ১৩.৮ শতাংশ তীব্র, ৪.৭ শতাংশ সংকটপূর্ণ। সবচেয়ে ঝুঁকিতে ৮০ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সীরা। এদের সংখ্যা ১৪.৮ শতাংশ।

৯ বছর বয়স থেকে ৩৯ বছর পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি নেই। মৃত্যুর হারও অনেক কম, ০.২ শতাংশ। এর পরের ধাপে যাঁদের বয়সের কোঠা, তাঁদের শঙ্কা বাড়ছে। যেমন—৪০ বছরে ০.৪ শতাংশ, ৫০ বছরে ১.৩ শতাংশ, ৬০ বছরে ৩.৬ শতাংশ এবং ৭০ বছরে ৮ শতাংশ। নারী-পুরুষ হিসাব করলে পুরুষরা নারীদের চেয়ে বেশি মারা যাচ্ছে। নারী ১.৭ শতাংশ, পুরুষ ২.৮ শতাংশ।

যাদের আগে থেকেই হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ এবং উচ্চ রক্তচাপ আছে, তারা এই ভাইরাসে সহজেই সংক্রমিত হতে পারে।

প্রমোদতরির সবার স্ক্রিনিং শেষ : এদিকে জাপান উপকূলে দাঁড়িয়ে থাকা প্রমোদতরি ডায়মন্ড প্রিন্সেসের সব যাত্রী ও কর্মীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা গতকাল শেষ হয়েছে। সেখানে থাকা তিন হাজার ৭০০ জনের মধ্যে অন্তত ৪৫৪ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে। চীনের বাইরে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণের সংখ্যা। যুক্তরাষ্ট্র ওই প্রমোদতরি থেকে কয়েক শ যাত্রীকে বিমানযোগে দেশে ফিরিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া তার নাগরিকদের ফেরাতে বিমান পাঠিয়েছে। যুক্তরাজ্য ও কানাডাও একই রকমভাবে তাদের দেশের নাগরিকদের ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছে।

অ্যাপলের শঙ্কা, পুঁজিবাজারে প্রভাব : করোনাভাইরাসের কারণে চীনে আইফোনের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে আগাম পূর্বাভাসের তুলনায় আয় কমার আশঙ্কা করছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের আইফোন উৎপাদন ও বিক্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী আইফোন সরবরাহ সাময়িক বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে পূর্বাভাস অনুযায়ী জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে না।

অ্যাপলের এ আশঙ্কায় গতকাল এশিয়ার পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। গতকাল বিকেলে হংকং স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক কমেছে ১.৩৬ শতাংশ। টোকিওর নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৪০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৩,১৯৩.৮০ পয়েন্টে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ১.৪৮ কমে নেমেছে ২২০৮.৮৮ পয়েন্টে। সব মিলিয়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সূচক কমেছে ১ শতাংশেরও বেশি। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, সিএনবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা