kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

সিরাজগঞ্জ

প্রশাসন বারবার ভেঙে দেওয়ার পর পাকা ভিত পায় বাহাত্তরে

অসীম মণ্ডল, সিরাজগঞ্জ   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রশাসন বারবার ভেঙে দেওয়ার পর পাকা ভিত পায় বাহাত্তরে

মায়ের ভাষার অধিকার রক্ষার দাবিতে বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাস্তায় নেমে আসা জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদ সভায় তাত্ক্ষণিক জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জের সন্তান মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। আবার ভাষা আন্দোলনে গড়ে ওঠা কেন্দ্রীয় ভাষাসংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সিরাজগঞ্জের আরেক কৃতি সন্তান আব্দুল মতিন। স্থানীয়ভাবেও ভাষা আন্দোলনের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জবাসী প্রতিবাদ আর আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে গেছে।

ভাষাশহীদদের স্মরণে সিরাজগঞ্জে কয়েক দফা শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলেও দখলদার পাকিস্তানি প্রশাসন তা ভেঙে ফেলে। তবে ১৯৫৩ ও ১৯৫৪ সালে সিরাজগঞ্জবাসী শহরের ইলিয়ট ব্রিজের পূর্ব প্রান্তে লক্ষ্মী সিনেমা হলের সামনে বাঁশ ও কলাগাছ দিয়ে অস্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করে তাতে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জানায়। প্রশাসন গ্রেপ্তারসহ নানামুখী বাধা তৈরি করেও সেদিন ছাত্র-জনতার উপস্থিতি থামাতে পারেনি।

সিরাজগঞ্জে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী তৎকালীন ছাত্রনেতা সাইফুল ইসলামের নাতি রেজাউল করিম সূর্য জানান, ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত থাকায় তিনি এবং জাফর ইমাম ভোলাসহ অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে সিরাজগঞ্জবাসী বিরোধী যুক্তফ্রন্টের সব সদস্যকে নির্বাচিত করে। ওই বছরই ছাত্র-জনতা সম্মিলিতভাবে লক্ষ্মী সিনেমা হলের সামনে স্থায়ীভাবে নির্মাণ করে শহীদ মিনার। সাত বছরের শিশু জিন্নত আলীকে দিয়ে এর ভিত্তি স্থাপন করা হয়। কিন্তু ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের শাসনামলে প্রশাসন সেটি ভেঙে দেয়। এরপর ১৯৬৩ সালে একই স্থানে আবারও শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনী সেটি পুনরায় ভেঙে ফেলে। ১৯৭২ সালে স্বাধীন দেশে পুনরায় নির্মাণ করা হয় শহীদ মিনারটি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা