kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

টানা চার দিন ধরে উন্নতি

চীনে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ ১১ হাজার

মোট আক্রান্ত ৭০,৫৪৮ মৃত্যু ১,৭৭০

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চীনে করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ ১১ হাজার

চীনে নতুন করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) মৃতের সংখ্যা আরো কমেছে। আক্রান্তের দিক থেকেও টানা চতুর্থ দিন ধরে উন্নতির মধ্যে রয়েছে। গত রবিবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো ১০৫ জন মারা গেছে। একই দিন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৪৮ জন, যা আগের দিনের চেয়ে মাত্র ৪১ জন বেশি। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ৭৭০ জনে এবং  আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ৭০ হাজার ৫৪৮ জন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ১১ হাজার জন। গতকাল সোমবার সকালে এসব তথ্য জানিয়েছে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন।

অন্যদিকে চীনের বাইরে এককভাবে সবচেয়ে বেশি কভিড সংক্রমণ ঘটা জাপানে অবস্থিত প্রমোদতরি ‘ডায়মন্ড প্রিন্সেসে’ আরো ৯৯ জন যাত্রীর দেহে রোগটি শনাক্ত হয়েছে। গত রবিবার রাতে জাহাজটি থেকে তিন শতাধিক মার্কিন নাগরিককে দুটি বিশেষ ফ্লাইটে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

অন্যদিকে চীনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আক্রান্তদের চিকিৎসায় কভিড থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের দান করা প্লাজমা ও চীনা ঐতিহ্যবাহী ওষুধ (হারবাল) ব্যবহারের কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। 

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, গত রবিবার মারা যাওয়া ১০৫ ব্যক্তির মধ্যে ১০০ জন হচ্ছে ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশে। একই দিন মোট দুই হাজার ৪৮ জন আক্রান্তের মধ্যে এক হাজার ৯৩৩  জন হচ্ছে এ প্রদেশে। তাদের মতে, হুবেইয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। আর সারা দেশে টানা ১৩ দিন ধরে আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।

নতুন করে যাতে আবার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে না পারে—এ জন্য হুবেইয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরো কঠোর করা হয়েছে। গত রবিবার থেকে প্রদেশজুড়ে সব ধরনের প্রাইভেট যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ডায়মন্ড প্রিন্সেসের পরিস্থিতি : জাপান সরকার গতকাল জানিয়েছে, দেশটির ইয়োকোহামা বন্দরে নোঙর করা প্রমোদতরি ডায়মন্ড প্রিন্সেসে আরো ৯৯ জনের শরীরে নতুন করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জাহাজটিতে ৪৫৪ জন কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হলো। জাহাজে নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় তিন হাজার সাত শতাধিক যাত্রী ও নাবিক নিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইয়োকোহামা বন্দরে নোঙর করে ডায়মন্ড প্রিন্সেস।

জাহাজটিতে ৫০টি দেশের যাত্রী ও নাবিক রয়েছে। তাদের মধ্যে রবিবার রাতে তিন শতাধিক মার্কিন নাগরিককে দুটি ফ্লাইটে করে নিজ দেশে সরিয়ে নিয়েছে ওয়াশিংটন। বিশেষ বাসে করে তাদের টোকিওর বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। পরে তাদের বহন করা দুটি ফ্লাইট রবিবার রাতেই যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়ার দুটি বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেখানে তাদের ১৪ দিন করে কোয়ারেন্টাইন (সম্ভাব্য রোগমুক্ত করার ব্যবস্থা) করা হবে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

জাহাজ ত্যাগের আগে মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে সারাহ অ্যারানা নামের এক নারী বলেন, ‘আমি যাওয়ার ব্যাপারে খুবই আনন্দিত ও প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের সঠিক মাত্রার কোয়ারেন্টাইন দরকার। এটা ঠিক সে রকম নয়।’

তবে কিছু আমেরিকান জাহাজটি ছাড়তে রাজি হননি। তাঁদের একজন ম্যাট স্মিথ টুইটারে বলেছেন, ‘আমার স্বাস্থ্য বেশ ভালো। আমার দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টাইনও প্রায় শেষ। তাহলে একদল সম্ভাব্য আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে কেন আমি একই বাসে ও বিমানে উঠতে যাবো?’

জাপানে অবস্থিত রুশ দূতাবাস গতকাল জানিয়েছে, এই জাহাজে তাদের এক নাগরিকও কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছে। এই নারীকে জাপানের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।

করোনাভাইরাস ঠেকাতে দেশে দেশে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চলছে। এর মধ্যে গতকাল জাপান সরকার দেশে সব ধরনের জনসমাগম, এমনকি জাপানের নতুন সম্রাটের জন্মদিন উদ্যাপন বাতিল করেছে। জনগণকে ভিড় এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে। চীনে পার্লামেন্ট অধিবেশন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আগামী এপ্রিলে চীনের সবচেয়ে বড় গাড়ি প্রদর্শনীর আয়োজন স্থগিত করা হয়েছে। 

চিকিৎসায় সুস্থ রোগীদের প্লাজমা ও হারবাল ওষুধ : চীনের হারবাল জাতীয় ঐতিহ্যবাহী চীনা মেডিসিন (টিসিএম) প্রয়োগ করে নতুন করোনাভাইরাসের চিকিৎসায় সুফল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির টিসিএম বিষয়ক জাতীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা লি ইয়ু। তিনি জানান, ১০টি প্রদেশে ‘কিংফেই পাইদুতাং’ নামের টিসিএম ওষুধ প্রয়োগ করে ৭০১ জনের ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কভিডের লক্ষণ দূর হয়েছে ৫১ জনের এবং উন্নতির মধ্যে রয়েছে ২৬৪ জন। এ ছাড়া ২১২ জন স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।

এ ছাড়া কভিড থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের প্লাজমা প্রয়োগ করেও চিকিৎসায় সাফল্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে হুবেই প্রাদেশিক রাজধানী উহানের একটি হাসপাতাল। জিয়াংজিয়া ডিস্ট্রিক্ট ১ পিপল’স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জিনহুয়াকে জানায়, সুস্থ হওয়া ২০ জন করোনাভাইরাস রোগী মারাত্মক কভিড আক্রান্তদের জন্য প্লাজমা দান করেছে। ইতিমধ্যে মুমূর্ষু অবস্থায় থাকা ১২ জনকে এই প্লাজমা চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা উন্নতির দিকে। সূত্র : আলজাজিরা, এএফপি, বিবিসি ও সিনহুয়া।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা