kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

ফিটনেস ও নিবন্ধনবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান

প্রতিটি জেলায় টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ

টাস্কফোর্স প্রয়োজন মনে করলে চালককে গ্রেপ্তার, গাড়ি জব্দ করতে পারবে—হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিটি জেলায় টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ

সারা দেশে নিবন্ধিত ফিটনেসবিহীন, অনিবন্ধিত এবং চলাচলের অযোগ্য গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা, তদারকি ও সেগুলোর চলাচল বন্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে দেশের সব জেলায় একটি করে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ও বিআরটিএর তত্ত্বাবধানে গঠিত এই টাস্কফোর্স নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বিআরটিএর প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠন করতে বলা হয়েছে। জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র এবং সড়ক পরিবহন সচিবের প্রতি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া টাস্কফোর্সের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিতে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, সড়ক আইন-২০১৮ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে টাস্কফোর্স। প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট চালককে গ্রেপ্তার, গাড়ি জব্দ ও জরিমানা করতে পারবে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ আদেশ দেন। এ আদেশ বিষয়ে তিন মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া আগামী ১ জুন পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। বিআরটিএর

পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মইন আলম ফিরোজী ও অ্যাডভোকেট রাফিউল ইসলাম।

গতকাল শুনানিকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) এর আইনজীবী আদালতে বলেন, মহাসড়কগুলোতেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এ মহাসড়কের দিকে আগে নজর দেওয়া দরকার। সারা দেশে একসঙ্গে কাজ না করে আগে মহাসড়ক নিয়ে আদেশ দিলে তা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। তিনি বলেন, আইনে বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া পুলিশও ব্যবস্থা নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করায় শৃঙ্খলা আসছে না। তাই সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা যেতে পারে। এ টাস্কফোর্স গঠন করা হলে কাজ করা সহজ হবে।

শুনানিকালে আদালত বলেন, আমাদের যে পরিমাণ রাস্তা রয়েছে, সেই রাস্তার অনুপাতে গাড়ির নিবন্ধন দেওয়া উচিত। বিষয়টি বিআরটিএকে ভেবে দেখতে হবে। তা না হলে একসময় রাস্তায় চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। শুনানি শেষে আদালত আদেশ দেন।

আদেশের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিন উদ্দিন মানিক সাংবাদিকদের বলেন, জনবল সংকটের কারণে ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে পারছে না বিআরটিএ। তাই টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশনা চান বিআরটির আইনজীবী। এ কারণে হাইকোর্ট টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। এ টাস্কফোর্স ফিটনেসবিহীন, রেজিস্ট্রেশনবিহীন চালককে গ্রেপ্তার, জরিমানা ও গাড়ি ডাম্পিং করতে পারবে।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়ে গত বছর ২৩ মার্চ একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব। এরপর হাইকোর্ট গত বছর ২৭ মার্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে সারা দেশে ফিটনেসবিহীন ও নিবন্ধনহীন যানবাহন এবং লাইসেন্সবিহীন চালকের তথ্য জানাতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি রুল জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় একের পর এক আদেশ দিচ্ছেন আদালত।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা