kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

চসিক ও ৫ সংসদীয় আসনে মনোনয়ন

বিএনপি নেতাদের আগ্রহ কম

শফিক সাফি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিএনপি নেতাদের আগ্রহ কম

জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনে উপনির্বাচন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপি নেতাদের আগ্রহ কম। আগের নির্বাচনগুলোর মতো মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে নেতাদের পরষ্পর প্রতিযোগিতা ও দৌড়ঝাঁপ নেই।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইতোমধ্যে গাইবান্ধা-৩, বাগেরহাট-৪ ও ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচনে তারিখ ঘোষণা করেছে। ২১ মার্চ অনুষ্ঠেয় ওই তিন উপনির্বাচনে মোট সাতজন বিএনপির মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে কেবল ধানমণ্ডি থানা বিএনপির সভাপতি শেখ রবিউল আলম রবি ফরম কিনেছেন। অন্য দুটিতে ফরম বিক্রি হয়েছে তিনটি করে। প্রার্থী চূড়ান্ত করতে আজ সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বৈঠকে বসছে পার্লামেন্টারি বোর্ড।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনশ’ আসনে প্রায় এক হাজার প্রার্থীকে দল প্রাথমিক মনোনয়ন দিতে বাধ্য হয়েছিল। ওই নির্বাচন এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকার দুই সিটির ভোটের পর এটা সহজেই অনুমান করা যায় যে আসন্ন ভোটের ফল কী হবে। তারপরও সরকারের মুখোশ উন্মোচন ও মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে আমরা নির্বাচনে যাচ্ছি।’

দলের একাধিক সিনিয়র নেতা বলেন, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দুটি উদ্দেশ্য বিএনপির। প্রথমত, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জয়ী হয়ে দলের শক্তি ও জনপ্রিয়তার বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, মানুষ ভোট দিতে না পারলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। যেহেতু সরকার প্রশাসনের সহায়তায় ভোট জালিয়াতি করবেই তাই অনেক নেতাই এবার প্রতিযোগিতা করতে চাচ্ছেন না।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু জানান, আজ সোমবার সন্ধ্যায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শেষে তফসিল ঘোষিত তিন উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, ঢাকা-১০ আসনের উপনির্বাচনে রবিই মনোনয়ন পাচ্ছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও দল থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের এক পর্যায়ে গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ায় নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। আশা করছি কাল (আজ) ধানের শীষের চূড়ান্ত মনোনয়নের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাব।’

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্যাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ডা. মইনুল হাসান সাদিক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা রফিকুল ইসলাম রফিক ও সদস্য ড. মিজানুর রহমান মাসুম মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘মনোনয়ন দৌড়ে ডা. সাদিক এগিয়ে আছেন বলে শুনেছি।’

বাগেরহাট-৪ (মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন পেতে জেলার নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন, মৎস্যজীবী দলের কেন্দ ীয় নেতা ড. কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও মনিরুল হক মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। সূত্র জানায়, কাজী খায়রুজ্জামান শিপন হাইকমান্ডের লবিংয়ে এগিয়ে আছেন।

এদিকে চসিক নির্বাচনে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনই প্রার্থী হচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের নাম শোনা গেলেও সর্বশেষ দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বৈঠকে তা বাতিল হয়ে যায়।

বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠকে বলেন, চূড়ান্ত না হলেও ডা. শাহাদাত হোসেনই চসিকে ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা