kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ চৈত্র ১৪২৬। ৩১ মার্চ ২০২০। ৫ শাবান ১৪৪১

চসিক ও ৫ সংসদীয় আসনে মনোনয়ন

নেতৃত্বের ভারসাম্যে গুরুত্ব আ. লীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নেতৃত্বের ভারসাম্যে গুরুত্ব আ. লীগের

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদের পাঁচটি আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে তাদের ভাবমূর্তি, সংগঠনের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে সংসদীয় আসনগুলোতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন এমন নেতারাই মনোনয়ন পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব পাওয়া নেতারা। শুধু ঢাকা-১০ আসনে একজন ব্যবসায়ী নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকায় আওয়ামী লীগের নানা তৎপরতায় তাঁর দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

গত শনিবার আওয়ামী লীগের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের এক যৌথ সভায় চসিক নির্বাচনে প্রার্থী মনোনীত করা হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরীকে। আর পাঁচটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ঢাকা-১০; আমিরুল আলম মিলন, বাগেরহাট-১; শাহীন চাকলাদার, যশোর-৬; সাহাদারা মান্নান, বগুড়া-১; উম্মে কুলসুম স্মৃৃতি, গাইবান্ধা-৩।

চসিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দলটির স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মনোনয়ন বোর্ডের মাননীয় সদস্যরা মনে করেছেন চসিকে প্রার্থী পরিবর্তন দরকার। তাঁরা মনে করেন, পুরনো আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম চৌধুরীর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকার কারণে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।’

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, রেজাউল করিম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রলীগের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়। চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চসিক মেয়র আ জ ম নাছিরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বেশির ভাগ নেতারই দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে সংগঠনের মধ্যে শৃঙ্খলা ফেরানো ও ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরিতে রেজাউল করিম চৌধুরীকে সুবিধাজনক বিকল্প মনে করেছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়। রেজাউল একসময়ে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।

ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ২০১৭-২০১৯ মেয়াদে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। এর আগের মেয়াদে তিনি সংগঠনটির সহসভাপতি ছিলেন। মহিউদ্দিন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনেরও (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি। ওনার্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন বেশ কয়েকটি ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছেন।

আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানায়, মহিউদ্দিনের ঢাকা-১০ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্তমান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনির্বাচিত মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে সখ্য রয়েছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যবসায়ী এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য ও সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজে মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই যুক্ত ছিলেন। ফলে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায় তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছে। সূত্র বলছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে ভবিষ্যতে তাঁকে মন্ত্রিসভায়ও দেখা যেতে পারে।

বাগেরহাট-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য আমিরুল আলম মিলন। তিনি প্রায় দেড় যুগ ধরে মোরেলগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এর আগে তিনি প্রায় ১৫ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘদিন সংগঠনকে নেতৃত্ব দেওয়া এবং এলাকায় বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা থাকার কারণে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

যশোর-৬ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই যশোরের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। সেখানকার রাজনীতিতে তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া-১ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন প্রয়াত সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের স্ত্রী সাহাদারা মান্নান। তিনি সারিয়াকান্দি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বগুড়া জেলা পরিষদের সদস্য। স্বামী সংসদ সদস্য শুধু এই পরিচয়ই নয়, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যক্ষ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন। আর প্রয়াত নেতা আব্দুল মান্নানের প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহানুভূতিও রয়েছে। সে বিষয়টিও সাহাদারা মান্নানের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব রেখেছে।

গাইবান্ধা-৩ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক উম্মে কুলসুম স্মৃতি। তিনি এর আগে কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরেই কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে যুক্ত আছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মধ্যে তিনিই একমাত্র নারী সাধারণ সম্পাদক।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা