kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

বসন্ত বাতাসে উড়ল মধুরেণ ভালোবাসার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বসন্ত বাতাসে উড়ল মধুরেণ ভালোবাসার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার বকুলতলায় জাতীয় বসন্ত উৎসবে নৃত্য পরিবেশন। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

একে তো নাচনে বুড়ি, তার ওপর ঢোলের বাড়ি; হুজুগে বাঙালির ক্ষেত্রে এ কথা বেশ যায়। বাঙালির দরকার শুধু উপলক্ষ। দিনটি ছিল তেমনই; সাপ্তাহিক ছুটির দিন, আবার পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। যেন একের ভেতর তিন! ফলে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডেমি, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বইমেলাসহ গোটা এলাকায় ছিল জনসমুদ্র। গতকাল শুক্রবার দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বসন্ত বাতাসে উড়ল যেন ভালোবাসার মধুরেণ।

কুয়াশার আঁচল সরিয়ে ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম সূর্য গতকাল ভরিয়ে দিয়েছে আকাশ। আনন্দের আভা ছড়িয়েছে নানা শ্রেণির মানুষের মনে, ভূষণে ও বসনে। মিষ্টিমধুর হাওয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষ ঘুরে বেড়িয়েছে প্রিয়জনকে নিয়ে। কেউ পরেছে ফাল্গুনের বাসন্তী রঙের পোশাক, কেউ পরেছে ভালোবাসার লাল রঙের পোশাক। শুধু লাল ও হলুদ নয়, এই দুটি আয়োজন ঘিরে নগরবাসীর পরনে শোভা পায় বহু বর্ণিল পোশাক। সেজেগুজে তরুণ-তরুণীরা ঘুরে বেড়ায় নানা স্থানে।

গতকাল রাজধানীতে বসন্তবরণের উদ্যোগ নেয় জাতীয় বসন্ত উদ্যাপন পরিষদ। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় সকাল থেকেই শুরু হয় নানা আয়োজন। বকুলতলা সেজেছে বাসন্তি আর ভালোবাসার রঙে। সকাল ৭টায় সুস্মিতা দেবনাথ ও তাঁর দলের কণ্ঠে ধ্রুপদি সংগীতের মূর্ছনায় শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পরে সম্মিলিত নৃত্য পরিবেশন করেন পূজা সেনগুপ্তা ও তাঁর দল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বকুলতলায় বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। গান, কবিতা আর সম্মিলিত নৃত্যে চলতে থাকে বসন্ত উদ্যাপন।

উৎসব প্রাঙ্গণে কথা হয় উদ্যাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইটের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বসন্ত উৎসব উদ্যাপনের প্রধান লক্ষ্য, নগরবাসীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করা। সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আমরা বাঙালি সংস্কৃতির বিষয়ে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করতে চাই। তারা যেন শেকড় সন্ধানী হয়। বসন্ত উদ্যাপন আমাদের সংস্কৃতির অংশ।’

ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমেদ লিসা বলেন, বসন্ত উৎসব হয়তো অন্য অনেক দেশেই উদ্যাপিত হবে। কিন্তু ষড়ঋতু সবখানে এত স্পষ্ট নয়। ঋতুবৈচিত্র্যের দেশে ভালোবাসা আর ঋতু উৎসবে এসে আমরা শপথ নিই, যেন ভালোবাসার মধ্য দিয়ে এই প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষা করে আমরা তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে পারি। সম্প্রীতির বন্ধনে একে অপরকে বেঁধে রাখতে পারি।

বসন্ত মানেই রং, রঙের খেলা। নিজেদের রঙিন করে উৎসবে যোগ দিয়েছেন সব বয়সের মানুষ। মেয়েরা সেজেছেন বাসন্তী শাড়ির সঙ্গে হলুদ গাঁদার ফুলে, আর ছেলেরা সেজেছেন আবির রঙের পোশাকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে চারুকলা। এ ছাড়া ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবর, উত্তরার রবীন্দ্র সরণি ও বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা) মঞ্চে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে বসন্তবরণ উৎসব।

বিকেলের পর থেকে শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসিতে স্রোতের মতো আসতে থাকে মানুষ। সন্ধ্যা নাগাদ গোটা এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। জনসমুদ্রের এই ঢেউ আছড়ে পড়ে পাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। তরুণ-তরুণী থেকে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিড় করে মেলায়। প্রিয়জনকে অনেকে বই উপহার দেয়। বই, বসন্ত ও ভালোবাসায় কাটে নগরবাসীর অন্য রকম একটি দিন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা