kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

মৌলভীবাজার

‘দিনে আমরা নির্মাণ করতাম, রাতে ছাত্রসংঘ ভাঙত’

আবদুল হামিদ মাহবুব মৌলভীবাজার   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘দিনে আমরা নির্মাণ করতাম, রাতে ছাত্রসংঘ ভাঙত’

১৯৫২ সালে ভাষার দাবিতে ঢাকার রাজপথে সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার শহীদ হওয়ার প্রায় এক যুগ পরে তাঁদের স্মরণে মৌলভীবাজারে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এই শহীদ মিনার নির্মিত হয় মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে। দীর্ঘ এক যুগ শহীদ মিনার নির্মিত না হলেও সেই ’৫২-এর পর থেকে প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারি স্কুলছাত্ররা তৎকালীন শিশু পার্কে (বর্তমান মেয়র চত্বর) জমায়েত হয়ে ভাষাশহীদদের স্মরণে সভা-সমাবেশ করত।

শহরের প্রবীণ ব্যক্তি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ কে ফজলুল হক বলেন, ‘ভাষার দাবিতে ঢাকায় ছাত্ররা নিহত হওয়ার খবর মৌলভীবাজারে পৌঁছে দুই দিন পর। আমি তখন মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র সিরাজুল ইসলাম (পরবর্তীতে হাইকোর্টের বিচারপতি হয়েছিলেন) ক্লাসে ক্লাসে গিয়ে এই খবর জানান। তিনি ঢাকাফেরত এক বন্ধুর কাছ থেকে খবরটি জেনেছিলেন। আমরা ক্লাস থেকে বের হয়ে তৎকালীন মহকুমা শহরে মিছিল করি। মিছিল দেখে এগিয়ে আসেন সেই সময়ের নামকরা আইনজীবী মো. ইউনুস। পরবর্তীতে তাঁর বাসায় বসে আমরা পোস্টার লিখতাম। সেসব পোস্টার-ফেস্টুন নিয়ে আমরা স্কুলছাত্ররাই ভাষার দাবিতে মিছিল করেছি।’

‘ভাষা আন্দোলনে সিলেট’ গ্রন্থে লেখক তাজুল মোহাম্মদ লিখেছেন, ‘নওবেলাল-এর ’৫২ সালের ১৬ মার্চ সংখ্যা থেকে জানা যায়, ২৫ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের স্থানীয় পার্কে মৌলভী আবদুল আজিজ অ্যাডভোকেটের সভাপতিত্বে এক বিরাট জনসভা হয়। সভায় খুনি নূরুল আমিন সরকারের পদত্যাগ দাবি করে চারটি প্রস্তাবও গৃহীত হয়।’

মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (সাবেক প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য) আজিজুর রহমান বলেন, ‘৫২ সালে আমি পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। ওপরের ক্লাসের ছাত্রদের সঙ্গে মিছিলে গিয়েছি। পরবর্তীতে প্রতিবছর মৌলভীবাজার শিশু পার্কে ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে যে সমাবেশ হতো সেগুলোতে অংশ নিয়েছি। ১৯৫৬ সালে মৌলভীবাজারে কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজ হওয়ার কয়েক বছর পর সেখানে প্রথম শহীদ মিনার নির্মিত হয়।’

মৌলভীবাজার কলেজের ১৯৬৪ সালের ছাত্রসংসদের মিলনায়তন সম্পাদক আলাউর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘মৌলভীবাজারের প্রথম শহীদ মিনার কলেজ ক্যাম্পাসের পশ্চিম দিকের এক কোনায় নির্মিত হয়। আমরা দিনের বেলা শহীদ মিনারের কাজ করতাম; রাতের বেলা ছাত্রসংঘের ওরা সেটা ভেঙে ফেলত। এভাবে কয়েকবার আমাদের শহীদ মিনার বানাতে হয়েছে। সেই সময় কলেজ সংসদের ভিপি ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের গজনফর আলী চৌধুরী, জিএস কাজী ফেরদৌস আহমদ। শহীদ মিনার নির্মাণের পর সেই বছর পালিত শহীদ দিবস ছিল মৌলভীবাজারবাসীর জন্য খুবই স্মরণীয় ঘটনা। সে সময় শহরে লোকবসতি অনেক কম ছিল। তার পরও প্রভাতফেরি করে হাজারের অধিক ছাত্র-জনতা শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছিল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা