kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

সিঙ্গাপুরে আরো দুই বাংলাদেশি আক্রান্ত

► চীনে হঠাৎ মৃত্যু ও আক্রান্তের হারে উল্লম্ফন, এক দিনে ২৫৬ মৃত্যু
► হুবেইয়ের পরিস্থিতি ভয়াবহ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সিঙ্গাপুরে আরো দুই বাংলাদেশি আক্রান্ত

নতুন করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯) সিঙ্গাপুরে আরো দুই বাংলাদেশি আক্রান্ত হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে দেশটিতে চার বাংলাদেশি আক্রান্ত হলেন। নতুন আক্রান্ত দুজনের বয়স ৩০ ও ৩৭ বছর। তাঁরা সেলেটার অ্যারোস্পেস হাইটসে কাজ করেন। আগে আক্রান্ত দুজনও কাজ করতেন একই প্রতিষ্ঠানে। আক্রান্তদের সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশনাল ডিজিজেসে আলাদাভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

গত ডিসেম্বরে নতুন এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে চীনবাসীর জন্য এ পর্যন্ত এক দিনে মৃত্যু ও আক্রান্তের হিসাবে সবচেয়ে ভয়াবহ দিনটি ছিল গত বুধবার। ওই দিন মৃত্যু হয়েছে ২৫৬ জনের; প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল হুবেই প্রদেশেই ওই দিন মারা যায় ২৪২ জন। এ নিয়ে চীনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৬৮ জনে। বুধবার হুবেইয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয় ১৪ হাজার ৮৪০ জন। সব মিলিয়ে প্রদেশটিতে আক্রান্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ২০৬ জন। আর দেশটির অন্যান্য এলাকা মিলিয়ে মোট আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৮৬৪ জনে। রোগ নির্ণয় পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনায় এ উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।

তাঁরা বলছেন, এখন যাদের শরীরে রোগের লক্ষণ প্রকাশিত হচ্ছে, তাদেরও আক্রান্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, যাদের শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যাবে এবং সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ফুসফুসের সংক্রমণ দেখা যাবে তাদেরও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলা হবে। এর আগে যথাযথ পরীক্ষা করে ভাইরাসের উপস্থিতি পেলেই কেবল তাকে আক্রান্ত বলা হতো।

চীনের বাইরেও নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। বিশ্বের ৩০টি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৫০০ জন। এর মধ্যে হংকং ও ফিলিপাইনে মারা গেছে দুজন। তারা চীনের নাগরিক।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তায় বলেছে, বিশ্বকে সন্ত্রাসবাদের থেকেও বড় হুমকি দিচ্ছে এই মহামারি। এই ভাইরাসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নম্বর শত্রু হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। এই ভাইরাসের সংক্রমণ কবে নাগাদ থামবে, তা এখনই বলা মুশকিল। এ ছাড়া ভাইরাসটির টিকা তৈরি করতে ১৮ মাস সময় লেগে যেতে পারে।

গত কয়েক দিন হুবেই প্রদেশে নতুন রোগীর সংখ্যা কমতে থাকায় আশাবাদী হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন চীনা চিকিৎসকরা। তবে রোগ নির্ণয় পদ্ধতি পরিবর্তনের কারণে পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভয়াবহ বলে মনে হচ্ছে। চীনে নতুন করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকা সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ জয় নানশান বলেছিলেন, এ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলতি মাসেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে। তিনি আশা করছেন, এপ্রিলের দিকে বিপদ পুরোপুরি কেটে যাবে।

তবে ডাব্লিউএইচও মনে করছে, নতুন করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শেষ হয়ে আসছে, এমন কথা বলার সময় এখনো আসেনি। যেকোনো সময় পরিস্থিতি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

গত ডিসেম্বরে হুবেইয়ের উহান শহরের একটি বন্য প্রাণীর বাজার থেকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ভাইরাসটি অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা জারি করে ডাব্লিউএইচও।

এ করোনাভাইরাসকে এত দিন নভেল বা নতুন করোনাভাইরাস বা সংক্ষেপে ২০১৯-এনসিওভি বলা হচ্ছিল। এ ভাইরাস যে রোগ সৃষ্টি করছে তার নতুন নাম দেওয়া হয়েছে কভিড-১৯ (করোনাভাইরাস ডিজিজ)। এখন পর্যন্ত এ রোগের চিকিৎসায় কার্যক্রর কোনো পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়নি।

হুবেই কমিউনিস্ট পার্টি প্রধানকে অব্যাহতি : এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে হুবেই প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রধানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, কমিউনিস্ট পার্টির হুবেই প্রধান জিয়াং চাওলিয়াংকে অব্যাহতি দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। তাঁর পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাংহাইয়ের মেয়র ইং ইয়ং।

এর আগে হুবেই স্বাস্থ্য কমিশনে নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক ঝ্যাং জিন ও কমিশনের পরিচালক লিউ ইয়ানজিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ দুই পদের দায়িত্বভার পেয়েছেন চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের উপপরিচালক ওয়্যাং হেশেং। আর অনুদান পরিচালনায় অবহেলার দায়ে হুবেই রেড ক্রসের উপপরিচালককে অব্যাহতি দেওয়া হয়। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চলাকালীন হুবেই ও অন্যান্য প্রদেশের কয়েক শ ব্যক্তিকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে।

জাপানের প্রমোদতরিতে আক্রান্ত আরো ৪৪ : জাপানে প্রমোদতরি ডায়মন্ড প্রিন্সেসে আরো ৪৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে গতকাল দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ নিয়ে জাহাজটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২১৮ জনে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাতসুনুবু কাতো বলেন, নতুন করে ২২১ জনকে পরীক্ষার পর ৪৪ জনের শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৮ জনে। এ ছাড়া এক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন।

‘অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব সামান্য হতে পারে’ : এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান (আইএমএফ) ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেছেন, চীনে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর এর প্রভাবের কথা এখনই বলা যথেষ্ট আগাম হবে। তবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব ‘সামান্য’ হতে পারে। সিএনবিসি টেলিভিশনকে জর্জিয়েভা বলেন, আইএমএফ আশা করছে অর্থনৈতিক প্রভাব হবে ‘ভি আকৃতির’। এতে চীনের অর্থনীতিতে দ্রুত পতনের পর তা দ্রুত পুনরুদ্ধার হবে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধারণা যথেষ্ট আগাম। কারণ ২০০৩ সালে চীন যখন সার্স ভাইরাসের মহামারির মোকাবেলা করছিল, সেই সময়ের চেয়ে বিশ্ব অর্থনীতি এখন কিছুটা দুর্বল।

ভিয়েতনামে কোয়ারেন্টাইনে ১০ হাজার জন : এদিকে ভিয়েতনামে ছয়জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর একটি এলাকার ১০ হাজার বাসিন্দাকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। রাজধানী হ্যানয় থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের গ্রামাঞ্চল সন লয় ফার্মিং এলাকাটি অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা ২০ দিন অবরুদ্ধ থাকবে। সূত্র : রয়টার্স, এএফপি, বিবিসি, স্ট্রেইটস টাইমস।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা