kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ঢাকা ওয়াসার পানির দাম প্রায় দ্বিগুণ করার তোড়জোড়

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকা ওয়াসার পানির দাম প্রায় দ্বিগুণ করার তোড়জোড়

ঢাকা ওয়াসার পানির মান নিয়ে রাজধানীবাসীর হাজারো অভিযোগের মধ্যেই সেবাটির দাম প্রায় দ্বিগুণ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। পানির উৎপাদন খরচ এবং প্রকল্পের ঋণের সঙ্গে আয় সমন্বয় করতে পানির দাম বাড়াতে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াসা। পানির দাম বাড়ানোর নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করা না হলেও যেকোনো সময় সে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

এদিকে নগরবাসীর সক্ষমতা ও ক্রয়ক্ষমতা যাচাই না করে পানির দাম বাড়ানোর পরিকল্পনাকে অযৌক্তিক মনে করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। 

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি এক হাজার লিটার পানির জন্য ১১ টাকা ৫৭ পয়সা পরিশোধ করেন আবাসিক গ্রাহকরা। তা বাড়িয়ে ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগে এক হাজার লিটার পানির বর্তমান দাম ৩৭ টাকা চার পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি হাজার লিটারে আবাসিক সংযোগে আট টাকা ৪৩ পয়সা এবং বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগে ২৭ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়ছে। পানির দামের পাশাপাশি পয়োনিষ্কাশন সংযোগের আওতায় থাকা গ্রাহকদের ওই বিলও দ্বিগুণ করা হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী তাকসিম এ খান প্রকল্প বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সমন্বয় করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে প্রতি হাজার লিটার পানির দাম আবাসিক সংযোগে ২০ টাকা এবং বাণিজ্যিক শিল্প সংযোগে ৬৫ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওয়াসার পরিচালন ব্যয় বাড়ায় এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য পানির দাম বাড়ানো জরুরি বলে মন্ত্রণালয়কে জানায় ঢাকা ওয়াসা। এরপর গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকা ওয়াসার পানির প্রকৃত উৎপাদন খরচ এবং সংস্থাটির ঋণের পরিমাণ জানতে চাওয়া হয় স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে। ওই সময় ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাব দিয়েছে সংস্থাটি।

মন্ত্রণালয়ের চিঠির জবাবে গত ১৬ জানুয়ারি ওয়াসা জানায়, বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ঋণ বাবদ ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া পড়েছে। এ ছাড়া প্রতি হাজার লিটার পানির উৎপাদন খরচ পড়ে ২৫ টাকা।

এ ব্যাপারে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়ার সময় আমি দেশে ছিলাম। গত বুধবার সন্ধ্যায় আমি ঢাকায় এসেছি। আমার অনুপস্থিতিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানের জবাব দিয়েছেন। কত টাকা বাড়ানো হবে এবং কবে থেকে বাস্তবায়ন করা হবে সে ব্যাপারে আমি খোঁজ নিয়ে জানাতে পারব।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ঢাকা ওয়াসার পানির সংযোগ রয়েছে তিন লাখ ৯০ হাজার ৬৫১টি। এই সংযোগ থেকে এক কোটির বেশি মানুষ পানি ব্যবহার করে। বর্তমানে ঢাকায় দৈনিক পানির উৎপাদন ২৪৫ কোটি লিটার। নগরবাসীর মোট চাহিদা ২৩০ থেকে ২৩৫ কোটি লিটার। ওয়াসাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এবং জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা জরুরি বলে মনে করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ওয়াসার পানির উৎপাদন ব্যয় বেশি। বাণিজ্যিক এই সংস্থাটিকে স্বাবলম্বী করা না গেলে ভালো সেবা পাওয়া যাবে না। ওয়াসার পাঠানো প্রস্তাব সভায় উঠেছে। তবে এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। কবে থেকে দাম বাড়ানো হবে সে তারিখ ঠিক করা হয়নি।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশের শহরে পানির দাম বেশি। ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে পানির দাম আমাদের তুলনায় অনেক বেশি। তাই দাম বাড়ানোর বিষয়টি অযৌক্তিক নয়।’

উল্লেখ্য, ঢাকা ওয়াসা গড়ে প্রতিবছর এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা বিল আদায় করে। এ ছাড়া পয়োনিষ্কাশন সংযোগের আওতায় থাকা এলাকার গ্রাহকদের কাছ থেকে সংস্থাটি ৩০০ কোটি টাকা বিল আদায় করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পানি ও পয়োনিষ্কাশন বাবদ ওয়াসার আয় প্রায় দ্বিগুণ হবে।

ওয়াসার পানির দাম বাড়লে নগরবাসীর মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন নগর বিশেষজ্ঞরা। পানির দাম বাড়ানোর চেয়ে দুর্নীতি ও সিস্টেম লস কমানো উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।

নগর বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়ার কোনো দরকার নেই। প্রয়োজনে সরকার ভর্তুকি দেবে। কিন্তু নগরবাসীর সক্ষমতা এবং ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় না নিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। দাম না বাড়িয়ে ওয়াসার উচিত সিস্টেম লস ও দুর্নীতি কমানো।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা