kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নতুন করোনাভাইরাসের নাম হলো কভিড-১৯

ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংক্রমণ!

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সংক্রমণ!

চীনে নতুন করোনাভাইরাস আক্রান্ত আরো ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা এক হাজার ১১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে টানা দুই দিন নতুন করে আক্রান্ত হওয়ার হার কমেছে। দেশটিতে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ১৫ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৬৫৩ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নতুন করোনাভাইরাসটির নাম দিয়েছে কভিড-১৯। সংস্থাটি চীনের মূল ভূখণ্ডে সংক্রমণ কমায় বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ানো কভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে। তবে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রধান বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, চীনে চলতি ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত ভাইরাসটির সংক্রমণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে।

অন্যদিকে চীন যেখানে রোগটির বিস্তার রোধে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে জাপানি উপকূলে কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রমোদ তরি ডায়মন্ড প্রিন্সেসে নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৪ জনে পৌঁছেছে। চীনের বাইরে এটাই একসঙ্গে একই স্থানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের ঘটনা। চীন সফর ছাড়া সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ব্রিটেনেও।

চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন গতকাল বুধবার জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত নতুন করে ৯৭ জন মারা গেছে। তাদের মধ্যে ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে কোভিড-১৯-এর উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশে। একই সময় পর্যন্ত নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ১৫ জন। আর দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৬৫৩ জনে। এ নিয়ে টানা দুই দিন ধরে আড়াই হাজারের কম মানুষ আক্রান্ত হয়। আগের দিন সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছিল দুই হাজার ৪৭৮ জন।

অন্যদিকে গত মঙ্গলবার জেনেভায় বিশ্বে প্রথমবারের মতো আয়োজিত কোভিড-১৯ বিস্তার প্রতিরোধী সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ করে বলেছেন, বিশ্বের জন্য এই ভাইরাস খুবই ভয়ংকর হুমকি। তিনি প্রতিটি স্থান থেকে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা প্রতিরোধহীন নই। আমরা যদি বিনিয়োগ করি...তাহলে এর প্রকোপ বন্ধ করতে আমাদের বাস্তবিক সুযোগ রয়েছে।’ পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, (প্রতিরোধ করা না হলে) এই ভাইরাস যেকোনো সন্ত্রাসী তৎপরতার চেয়েও ভয়াবহ পরণতি বয়ে আনবে।

চীনে ভাইরাসটির বিস্তার রোধে এর উৎপত্তিস্থল হুবেই প্রদেশে লাখ লাখ মানুষকে ঘরবন্দি করে রাখা হয়েছে। চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে রাজধানী বেইজিংসহ বেশ কিছু নগর ও প্রদেশে। এর মাধ্যমে বিদেশিরাও যেমন আটকা পড়েছে, তেমনি অনেক দেশই চীন সফর করা ব্যক্তিদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে। সব মিলিয়ে একটি ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। টানা দুই দিনের মতো আক্রান্তের সংখ্যা কম হয়েছে, বিশেষ করে হুবেই প্রদেশে, যা তাৎপর্যপূর্ণ। আর এই প্রদেশের বাইরে গত এক সপ্তাহ ধরে আক্রান্তের সংখ্যাও কম।

তবে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ঝোং নানশান বলেন, প্রকৃতপক্ষে নতুন করে আক্রান্তের ঘটনা খুব ধীরলয়ে কমছে। উহানে মেডিক্যাল স্টাফদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে তিনি আরো বলেন, এখনই এটাকে টার্নিং পয়েন্ট বলা যাবে না। তবে এটা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে শেষের দিক পর্যন্ত নতুন করোনাভাইরাস সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে।

জাপানি জাহাজে সংক্রমণ বাড়ছে : চীনের বাইরে নতুন করোনাভাইরাসের সবচেয়ে বড় গুচ্ছ সংক্রমণের (বিগেস্ট ক্লাস্টার ইনফেকশন) ঘটনা ঘটল জাপানি জাহাজে। জাপানের ইয়োকাহামা বন্দরে সাড়ে তিন হাজারের বেশি যাত্রী নিয়ে অবস্থান করা জাহাজটিকে বর্তমানে কোয়ারেন্টাইন (রোগ দূরীকরণে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা) করা হচ্ছে। সেখানে গতকাল বুধবার পরীক্ষায় আরো ৩৯ জনের দেহে কোভিড-১৯ ভাইরাস ধরা পড়েছে। এ নিয়ে জাহাজটিতে ১৭৪ জনের দেহে কোভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২০ মার্কিন নাগরিক রয়েছে।

চীন ভ্রমণ ছাড়া সংক্রমণ ব্রিটেনেও : জাপানি জাহাজ ও সিঙ্গাপুরের পর ব্রিটেনেও চীন সফর ছাড়াই কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে ব্রিটেনে। সেখানে এক ব্রিটিশ আরো অন্তত ১১ জনের দেহে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটিয়েছেন বলে জানা গেছে। ৫৩ বছর বয়স্ক ওই ব্যক্তি সম্প্রতি সিঙ্গাপুর সফর করেন বলে জানা গেছে। সূত্র : এএফপি, নিউ ইয়র্ক টাইমস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা