kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

মুজিববর্ষে সব ঘর আলোকিত হবে

► প্রযুক্তিনির্ভর জাতি গড়তে চাই
► বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদী ভূমিকা ছিল শিল্পী-সাহিত্যিকদের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মুজিববর্ষে সব ঘর আলোকিত হবে

মুজিববর্ষের মধ্যে দেশের সব মানুষকে বিদ্যুতের আওতায় আনার মাধ্যমে প্রতিটি ঘরকে আলোকিত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, প্রযুক্তিনির্ভর একটি জাতি গড়ে তুলতে চায় তাঁর সরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পর শিল্পী-সাহিত্যিকরা প্রতিবাদী ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন ও বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন, রাজশাহীতে শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন এবং বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের মাসব্যাপী নাট্যোৎসবের উদ্বোধনীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

৪০ জেলা এখন শতভাগ বিদ্যুতের আওতায়

বর্তমানে দেশের ৯৬ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘৬৪টা জেলা আমাদের। সেখানে ৪০টা জেলায় এখন শতভাগ বিদ্যুৎ হয়ে গেল। ৪১০টা উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুৎ আমরা দিতে পারলাম। বাকি যেগুলো আছে ইনশাআল্লাহ এই মুজিববর্ষে আমরা আমাদের সব ঘরে আলো জ্বালব। এ লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

অনুষ্ঠানে উদ্বোধন করা শতভাগ বিদ্যুতায়িত সাত জেলা হলো—ঢাকা, ফেনী, গোপালগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, জয়পুরহাট ও মেহেরপুর। ১৮ জেলায় ২৩ উপজেলা হলো—বাগেরহাট সদর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর, মেহেরপুরের আলমডাঙ্গা, কুমিল্লার দেবীদ্বার ও মোহনগঞ্জ, দিনাজপুরের খানসামা, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, যশোরের সদর ও মণিরামপুর, খুলনার তেরখাদা, কুষ্টিয়ার মিরপুর, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও জুরী, নওগাঁর বদলগাছি ও পত্নীতলা, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, নীলফামারীর জলঢাকা, শেরপুরের নকলা ও ঝিনাইগাতী, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল এবং সুনামগঞ্জের ছাতকও শতভাগ বিদ্যুত্তায়িত হিসেবে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ ছাড়া ফেনীতে ১১৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন

প্রতিযোগিতাময় বিশ্বে তথ্য-প্রযুক্তির জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন প্রজন্মকে সেই শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার কথা বলেছেন। গতকাল রাজশাহীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্কে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই লক্ষ্যের কথা জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আমাদের নতুন প্রজন্ম যারা তাদের এমনভাবে শিক্ষিত করতে চাই, যেন প্রতিযোগিতাময় বিশ্বের সঙ্গে তারা তাল মিলিয়ে চলতে পারে। সে জন্য প্রযুক্তি শিক্ষাটা একান্তভাবে দরকার।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বা কর্মসংস্থান বাড়ানোর জন্য নতুন নতুন ক্ষেত্র প্রয়োজন। যে কারণে আমরা বাংলাদেশের প্রায় সব ক্ষেত্র যেগুলো আগে সরকারি ছিল, সেগুলো বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দিই, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।’

প্রযুক্তির ব্যাপকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর একটা জাতি-গোষ্ঠী গড়ে তুলতে চাই। আমাদের নতুন প্রজন্ম যেন আরো বেশি আগ্রহী হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা কম্পিউটার শিক্ষা, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম করে দিচ্ছি। শুধু নিজেদের শিক্ষার জন্য না। রপ্তানি খাতেও ডিজিটাল ডিভাইস অনেক বেশি অবদান রাখতে পারে। আমাদের ছেলে-মেয়েরাও ঘরে বসে এখানে বসে শিখে শুধু অনলাইনে তারা এখন আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে অনেক অর্থ উপার্জন করতে পারছে। সেই সুযোগটা আমরা সৃষ্টি করতে চাই।’

মাসব্যাপী নাট্যোৎসবের উদ্বোধন

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন আয়োজিত মাসব্যাপী নাট্যোৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পঁচাত্তরের স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের পর নির্মলেন্দু গুণের যে কবিতাটা...এই কবিতাটা যেন শুধু ৭ই মার্চের ভাষণের কথা না, বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে উদ্ভাসিত হয়েছিল।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর কবি-সাহিত্যিকরা তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে একদিকে জাতির পিতার হত্যার প্রতিবাদ ও অন্যদিকে জাতির পিতার অবদানের কথা নির্ভয়ে তুলে ধরেছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘তখনকার সময় যখন কেউ কথা বলার সাহস পায়নি তখন আমাদের কবি, শিল্পী-সাহিত্যিকরা এসেছিলেন এগিয়ে। তাঁরাই কিন্তু কবিতার মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছিলেন একদিকে প্রতিবাদের ভাষা, অন্যদিকে জাতির পিতার যে অবদান, সেই কথা।’

দেশের উন্নয়নযাত্রায় সংস্কৃতিচর্চাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুগে অনেক সময় দেখা যায় মাদক, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ একটা পরিবার, একটা সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। আমাদের শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে যুবসমাজ তাদেরকে যদি আমরা সঠিক পথে নিয়ে আসতে চাই তাহলে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এসব দিকে যত বেশি তাদের আমরা সম্পৃক্ত করতে পারব ততই তাদের সুপথে আনতে পারব।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা