kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আধিপত্যের টক্করেও বিজয়ী বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আধিপত্যের টক্করেও বিজয়ী বাংলাদেশ

খেলোয়াড়রা মিলে মানববৃত্ত তৈরি করে দাঁড়িয়েছেন আর এর মাঝখানে স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ রিচার্ড স্টনিয়ের। শুরু হয়ে গেল নাচ। নাচতে নাচতে গা-গরম করে নেওয়ার দৃশ্য বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পরও দেখা গেছে।

ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের আগে গা-গরমের নাচ হয়ে গেছে বিশ্বজয়েরও উদ্যাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সাফল্য উদ্যাপনের নাচ দিয়ে খুব আলোচিত হয়েছিল ২০১৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলও। সেই দলের খেলোয়াড় শামার স্প্রিঞ্জারের নামে নাচের নামকরণও হয়েছিল, ‘স্প্রিঞ্জার ডান্স’।

নামকরণ একটি হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নাচেরও। অবশ্য যুব বিশ্বকাপের ভেন্যু দক্ষিণ আফ্রিকা বলেই কিনা, নাচটি আফ্রিকান প্রভাবমুক্ত নয়। এ রকম নাচ মূলত আফ্রিকান ফুটবলাররাই নেচে থাকেন। বিশেষ করে গোল করার পরে কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে গিয়ে সদলবলে গোল হয়ে নাচার দৃশ্য নিশ্চিতভাবেই আপনি অনেক দেখেছেন। এবং সেটি আফ্রিকার বিভিন্ন ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের। সেই নাচে মশগুল এবার বাংলাদেশের যুবারাও। গত পরশু রাতে বিশ্বকাপ জেতার পর পুরো দল যখন নাচে মাতোয়ারা, তখনই ফোনে ধরা হলো দলের সঙ্গে থাকা বিসিবির জুনিয়র নির্বাচক কমিটির সদস্য হাসিবুল হোসেনকে। নিজে না বলে নাচের নামটি বলতে তিনি ডেকে নিলেন স্টনিয়েরকে, ‘এর নাম রাকিবুল ড্যান্স।’

এই বাঁহাতি স্পিনারও বিশ্বকাপ জয়ে দলের অগ্রযোদ্ধা। বল হাতে টুর্নামেন্টজুড়েই সফল রাকিবুল। ফাইনালে ব্যাট হাতেও ২৫ বলে খেলেছেন অপরাজিত ৯ রানের ছোট্ট কিন্তু ইতিহাস নির্ধারণী এক ইনিংস। জয়সূচক রানও এসেছে তাঁর ব্যাট থেকেই। তার আগে মেরেছিলেন জয় প্রায় নিশ্চিত করা এক বাউন্ডারিও। অধিনায়ক আকবর আলীর সঙ্গে গড়েছেন দারুণ এক পার্টনারশিপও। এর সঙ্গে উদ্যাপনের নাচ আবিষ্কারের কৃতিত্বও এখন পাচ্ছেন এই তরুণ। যদিও সেটি নিয়ে ভিন্ন এক দাবি আছে দলের আমোদপ্রিয় ফিল্ডিং কোচ ফয়সাল হোসেনের, ‘আরে দুষ্ট ছেলের দল আমাকে নকল করেই এই নাচটি বের করেছে।’

বিশ্বজয়ের আনন্দে সেই কৃতিত্ব হাতছাড়া হতে দেখা ফয়সাল উদ্যাপনেও সঙ্গ দিয়েছেন শিষ্যদের। জয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ এসে উপস্থিত হওয়ার আগে নখ-কামড়ানো উত্তেজনায়ও দলের আর সবার মতো টগবগ করে ফুটেছেন। একসময় হারের সম্ভাবনাও উঁকি দিয়েছিল। যদিও ফয়সাল বলছেন, তাঁদের তবু বিশ্বাস ছিল। সেই বিশ্বাসের ভিত কে জানেন? শুনুন তাঁর মুখেই, ‘৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হয়তো অনেকেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছিলেন যে এবারও বোধ হয় এশিয়া কাপ ও ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের মতোই ওরা ভেঙে পড়ছে। কিন্তু আমাদের দলের এই বিশ্বাসটা ছিল, যতক্ষণ আকবর আলী উইকেটে আছে, এই ম্যাচ আমরা হারছি না। আকবর এশিয়া কাপে ভুল করেছে। এবার সে একই ভুল আরেকবার না করার ক্ষেত্রে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল।’ অপরাজিত ৪৩ রানের ইনিংসে ম্যাচ বের করা আকবর নিজেও কাল বলেছেন সে কথা, ‘আমার কিছু খারাপ ম্যাচ ছিল। কিছু ক্লোজ ম্যাচ হেরেছিলাম। ওই ম্যাচগুলোতে যে ভুলগুলো করেছিলাম, সেই ভুলগুলো যেন আর না হয়।’ সেই ভুল না করা বিশ্বজয়ী অধিনায়ক আকবর তাঁর দল নিয়ে দেশে ফিরছেন আগামীকাল বিকেলে। গতকাল ফাইনালের ভেন্যু পচেফস্ট্রুম ছেড়ে তাঁরা গেছেন জোহানেসবার্গে। সেখান থেকে আজ স্থানীয় সময় রাতে ট্রফি নিয়ে ঢাকার উড়ানে চড়ে বসবেন যুব ক্রিকেটাররা।

বিশ্বকাপ জেতার পরপরই তাদের সঙ্গে একটু লেগে গিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেটারদের। যদিও সেটিকে স্বাভাবিকই মনে হয়েছে ফয়সালের, ‘দেখুন, এই পর্যায়ের ক্রিকেটে তো ওদেরই আধিপত্য ছিল এত দিন। চারবারের চ্যাম্পিয়ন। ওরাও তো হারতে চায় না। তবে আমরাও যে হারতে চাই না, সেটিও তো প্রমাণ করলাম। তোমরা যত বড় দলই হও, আমরাও টক্কর দিতে এসেছি।’ উদ্যাপনের নাচে মজে যাওয়ার আগে আধিপত্যের টক্করেও বিজয়ী বাংলাদেশ। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা