kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

করোনাভাইরাস

জাপান বিনা মূল্যে ৭০ লাখ মাস্ক দিচ্ছে

► বিদেশযাত্রা বাতিল করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
► বাংলাদেশে কোনো চীনা নাগরিক আক্রান্ত হননি : চীনা রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জাপান বিনা মূল্যে ৭০ লাখ মাস্ক দিচ্ছে

করোনাভাইরাস থেকে রক্ষায় জাপান সরকার বাংলাদেশকে শিগিগিরই ৭০ লাখ মাস্ক বিনা মূল্যে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বৃহস্পতিবার নিজ মন্ত্রণালয়ে তাত্ক্ষণিক এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এ কথা জানান। তবে সবার মাস্ক ব্যবহারের প্রয়োজন নেই বলে তিনি জানান।

সেই সঙ্গে আপাতত আর কাউকে উহান থেকে না আনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। বরং সেখানেই কোয়ারাইন্টাইনে থাকা ভালো বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গত কয়েক দিন ধরে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ (আইইডিসিআর) বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞরাও বলছেন ব্যাপকভাবে সবার মাস্ক ব্যবহার দরকার নেই। কেবল কারো যদি ইনফ্লুয়েঞ্জা থাকে বা জ্বর-সর্দি কাশি গলা ব্যথার উপসর্গ থাকে তবেই অন্যকে রক্ষায় মাস্ক ব্যবহার করা যায়। অথবা কোনো পরিবারে কেউ এমন কোনো উপসর্গে আক্রান্ত হলে তাঁরাও ব্যবহার করতে পারেন।

ওই ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের স্বাস্থ্য খাত পূর্ণ সজাগ রয়েছে। এরই মধ্যে দেশের সব নৌবন্দর ও স্থলবন্দর, বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় স্ক্যানিং মেশিন বসানো হয়েছে। অধিক সতর্কতার জন্য চীনের উহান থেকে বাংলাদেশে আসা চীনা নাগরিকদের অবতরণ ভিসা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। উহান থেকে ফেরত ৩১২ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আশকোনা হজ ক্যাম্পে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারাইন্টাইনে রাখা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার একটি সভায় যোগ দিতে ১ ফেব্রুয়ারি জেনেভা যাওয়ার কর্মসূচি ছিল স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও সচিব আসাদুল ইসলামের। করোনাভাইরাসসংক্রান্ত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওই সফর বাতিল করেছেন। তবে সচিবকে পাঠানো হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব সিরাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল বিকেলে পূর্বনির্ধারিত সময় দেওয়া অনুযায়ী আশকোনা হাজি ক্যাম্পে কোয়ারাইন্টাইনে থাকা চীনফেরত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বজনরা কেউ আইইডিসিআরে আসেননি।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘কোয়ারাইন্টাইনকৃত যাত্রীদের পরিবারের সদস্য ও অভিভাবকদের উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ জানিয়েছি।’ তিনি জানান, অভিভাবকদের কেউ কেউ আশকোনা কোয়ারাইন্টাইন কেন্দ্রের প্রধান ফটকে অবস্থান করছেন। তাঁদের উদ্বেগ কাটাতে আইইডিসিআরে অভিভাবকদের নিয়মিতভাবে প্রতিদিন বিকেল ৩টায় যাত্রীদের স্বাস্থ্যগত তথ্য অবহিত করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একটি দল আশকোনা কোয়ারাইন্টাইন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তাঁরা কোয়ারাইন্টাইনকৃত উহানফেরত যাত্রীদের স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সেবার ব্যবস্থাপনা দেখেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

সর্বশেষ হিসাবে আশকোনা হাজি ক্যাম্পে কোয়ারাইন্টইনে আছেন ৩০০ জন, কুর্মিটোলা হাসপাতালে একজন ও সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আছেন ১১ জন।

বাংলাদেশে অবস্থানরত কোনো চীনা নাগরিক আক্রান্ত হননি : চীনে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত চীনা কোনো নাগরিক এখনো এই ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। গতকাল ঢাকার চীনা দূতাবাসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই ভাইরাস প্রতিরোধে চীন সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশের কোনো কোনো গণমাধ্যম এ নিয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, যা সঠিক নয়।’ তিনি জানান, চীনেও কোনো বাংলাদেশি নাগরিক এই ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। বাংলাদেশ সরকার চীনা নাগরিকদের জন্য সাময়িকভাবে অবতরণ ভিসা বন্ধ করেছে, সেটা সঠিক সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে আট হাজার চীনা নাগরিক কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই নববর্ষের ছুটিতে চীন গেছেন। এখন তাঁদের ফিরতে কিছুটা দেরি হতে পারে। ফলে এসব প্রকল্পকাজ শেষ হতে দেরি হতে পারে।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা