kalerkantho

মঙ্গলবার । ৭ বৈশাখ ১৪২৮। ২০ এপ্রিল ২০২১। ৭ রমজান ১৪৪২

বিশেষজ্ঞ মত

উৎসব হলো না কেন, খুঁজে বের করতে হবে

আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে




উৎসব হলো না কেন, খুঁজে বের করতে হবে

আমি গ্রিন রোডের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছে। সেখানে অনেক ভোটারের উপস্থিতি দেখেছি। কিন্তু সার্বিকভাবে ভোটের পরিস্থিতির যে খবর পাওয়া গেছে তাতে অনেক কেন্দ্রেই মনে হচ্ছে ভোটারের উপস্থিতি বেশ কম ছিল। এই বিষয়টা খতিয়ে দেখতে হবে।

কারণ আমাদের দেশের মানুষ ভোটকে উৎসব হিসেবে নেয়। এই ক্ষেত্রে কেন হলো না? ইভিএমে ভোট দেওয়ার বিষয়টি কোনো ভীতি হিসেবে কাজ করেছে কি না, সেটা দেখা যেতে পারে। এবার যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে সেটা অন্য সময় হয় না।

নির্বাচনের প্রচারাভিযান খুব ভালো হয়েছে। ওই সময়ের প্রচারের চিত্র দেখে মনে হয়েছে, ভোটকেন্দ্রেও উৎসবমুখর পরিস্থিতি থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তা দেখা যায়নি। কেন এমন পরিস্থিতি হলো তা খুঁজে বের করতে হবে। গণমাধ্যমসহ নীতিনির্ধারকরা এটা নিশ্চয় ভেবে দেখবেন।

আমার কাছে একটি বিষয় মনে হয়েছে, ঢাকায় প্রায় সবাই ভাড়াটিয়া। তাঁদের অনেকে এক এলাকার ভোটার হলেও এখন হয়তো থাকেন অন্য এলাকায়। ভোটের দিন যদি গণপরিবহন বন্ধ থাকে তাহলে ওই সব ভোটার কিভাবে ভোটকেন্দ্রে যাবেন? ঢাকার মতো বড় শহরে ভোটের দিন গণপরিবহন বন্ধ রাখা কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখতে হবে।

আমার ভোটকেন্দ্রের পাশাপাশি আরেকটি কেন্দ্রে আমি গিয়েছিলাম। সেখানে অনেক ভোটারের উপস্থিতি দেখে খুব ভালো লাগল। এই ক্ষেত্রে যাঁরা নির্বাচনে অংশ নেন অর্থাৎ প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটারদের সম্পর্কও বড় একটি কারণ বলে আমার মনে হয়। আমার মনে হয়েছে, আমাদের এলাকায় যাঁরা (কাউন্সিলর) প্রার্থী হয়েছেন তাঁদের সঙ্গে ভোটারদের সম্পর্ক অনেক ভালো। এ কারণে হয়তো ভোটাররা দল বেঁধে ভোটকেন্দ্রে এসেছেন।

ভবিষ্যতে নির্বাচনে যাতে ভোটার উপস্থিতি বাড়ে তার জন্য নির্বাচনী সাক্ষরতা অভিযান পরিচালনা করতে হবে। নির্বাচনী সাক্ষরতা থাকলে মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসতে উৎসাহী হবে। গণতন্ত্রের অন্যতম মূল বিষয় হচ্ছে ভোট। ভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এর জন্য ভোটার উপস্থিতি খুবই প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়ায় সব রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশনকে কাজ করতে হবে।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য