kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

মির্জা ফখরুল বললেন

সরকার ফের একতরফা নির্বাচন করতে চলেছে

ভয়ভীতি সন্ত্রাস ইভিএম জনরায়কে বাধাগ্রস্ত করতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩১ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সরকার ফের একতরফা নির্বাচন করতে চলেছে

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতাদের বক্তব্যে নির্বাচনের পরিবেশ গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকেই চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সরকার একতরফা নির্বাচন করতে চলেছে।

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাকে রোধ করার শক্তি এই দখলদারী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের নেই।’ নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরির জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা যেন নির্ভয়ে সুষ্ঠু পরিবেশে তাদের মতামত দিতে পারে তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন। অন্যথায় দেশের জনগণ কোনো দিন আপনাদের ক্ষমা করবে না। সংবিধান লঙ্ঘন ও জনগণের অধিকার হরণের অভিযোগে আপনাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ভয়ভীতি, সন্ত্রাস ও ইভিএমে (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) কারচুপির মাধ্যমে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জনগণের রায়কে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। তিনি বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য থেকে এটা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে, আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের ঢাকায় জড়ো করে ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে। পুলিশও একই ভূমিকা পালন করে চলেছে। এরই মধ্যে বিএনপির অনেক সাবেক সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় নেতা চিকিৎসার জন্য অথবা ব্যাবসায়িক কাজে ঢাকায় এসেছিলেন, তাঁদের বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করে আগের মতো একতরফা নির্বাচন করতে চলেছে। ঢাকায় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে। এভাবে ভোটের এক দিন আগে তল্লাশির নামে পুলিশ একই কায়দায় নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গেছে।’

বিএনপির মহাসচিব ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ধানের শীষের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওপর হামলা, তাঁদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করেন। বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পুলিশের তল্লাশি ও মামলা-গ্রেপ্তারের ঘটনার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

ফখরুল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের অযোগ্যতা, উদাসীনতায় ও সরকারের নির্দেশ ছাড়া তাদের কোনো কাজ করার শক্তি নেই। এই নির্বাচনটাকেও তারা সেইভাবে পুরোপুরি একটা দলীয়করণের নির্বাচন করতে চলেছে।’ তিনি দাবি করেন, দুই সিটিতে পনেরো-ষোলো শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ করা হয়েছে, ইসি কোনো রকমের ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ক্রমাগত নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে চলেছেন, রঙিন পোস্টার লাগিয়েছেন, ফুটপাতের ওপর নির্বাচনের অফিস নির্মাণ করেছেন এবং সর্বশেষ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যে উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁদের মন্ত্রী-নেতারা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাতে নির্বাচনের পরিবেশ ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকেই চলে গেছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ভোটের ঠিক এক দিন আগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ একটি অনুষ্ঠান করে নির্বাচনকে সম্পূর্ণভাবে তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। এটা নির্বাচনের আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনকে বলার পরে তারা আমাদের বলেছে, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সভা হতে বাধা নেই, তবে ভোট চাইতে পারবে না।’

ইভিএম প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে সব মহল আপত্তি জানিয়েছে। আমরাও এর তীব্র বিরোধিতা করেছি এবং এখনো করছি। তার পরও নির্বাচন কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে অটল এই কারণে যে ভোট নিয়ন্ত্রণের এটা নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা।’

ঢাকা সিটি নির্বাচনে বিএনপি কী মুনাফা করতে চায়—এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের উপস্থিতি, আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়েছি, ভোট চাইছি, ধানের শীষকে সামনে নিয়ে আসছি, একটা পরিবেশ তৈরি করতে কিছুটা হলেও সক্ষম হয়েছি। আমাদের জনগণ বেরিয়ে আসছে, এটা সবচেয়ে বড় মুনাফা।’

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবীর খোকন, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মীর শরাফত আলী সপু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়ে এইচ টি ইমামের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয় : নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমামের বক্তব্য প্রমাণ করে, তারা একটি ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন করার উদ্দেশ্য নিয়ে সব কাজ করছে এবং কোনো অবজারভার তারা রাখতে চাচ্ছে না—এটা তারই একটা নিদর্শন। গত জাতীয় নির্বাচনেও তারা এটা করেছিল। তারা অবজারভারদের আসতে দেয়নি, সরকার তাঁদের ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিল। তাদের মূল যে একটা পরিকল্পনা তারা ফলস ইলেকশন করবে, কারচুপি করবে, ফলাফল তাদের পক্ষে নেবে—পুরো প্রশাসনকে ব্যবহার করে তারা এটা করেছিল। এবার তারা সেই উদ্দেশ্যেই এসব কথা বলছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল এসব কথা বলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা