kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

গণহত্যার তদন্ত

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার নির্দেশ আইসিসির

মেহেদী হাসান   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার নির্দেশ আইসিসির

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়, বিশেষ করে নিপীড়িত লোকজনের কাছে আদালতের তথ্য পৌঁছানো এবং যোগাযোগের কাঠামো সৃষ্টির নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতের (আইসিসি) তৃতীয় প্রাক-বিচারিক আদালত। গত ১৪ নভেম্বর আইসিসির রোম সংবিধির আলোকে রোহিঙ্গা নিপীড়নের তদন্ত শুরু করার অনুমতি দেওয়ার পটভূমিতে আইসিসির কৌঁসুলির আবেদনের পর গত ২০ জানুয়ারি তৃতীয় প্রাক-বিচারিক আদালত ওই নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে এরই মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে আইসিসির কৌঁসুলির দপ্তর। আইসিসির তথ্য যোগাযোগ কাঠামো সৃষ্টির মধ্য দিয়ে মূলত মাঠপর্যায়ে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে কৌঁসুলির দপ্তরের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে।

জানা গেছে, আইসিসির কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা আইসিসির তৃতীয় প্রাক-বিচারিক আদালতের কাছে আবেদনে বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের কাছে আইসিসির সঠিক তথ্য পৌঁছানো এবং আইসিসির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের যোগাযোগ কাঠামো সৃর্িষ্ট করা প্রয়োজন। আইসিসির তৃতীয় প্রাক-বিচারিক আদালত তদন্ত শুরু করার অনুমতি দেওয়াসংক্রান্ত আদেশে বলেছিলেন, আইসিসির কৌঁসুলির আবেদন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া তদন্তের সুযোগসংক্রান্ত ব্যাপক তথ্যের ভিত্তিতে আদালত ওই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

আইসিসির কৌঁসুলি তাঁর এবারের আবেদনে উল্লেখ করেছেন, তদন্ত শুরু করার অনুমতি দেওয়ার সময় আদালত সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের উৎসাহিত করতে দিকনির্দেশনা দেওয়ার যথার্থতার কথা বলেছে। এ ছাড়া তদন্ত শুরু করার অনুমতি দেওয়ার আগে নিপীড়িত রোহিঙ্গারা আদালতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের তথ্য-উপাত্তগুলোতে অপরাধ তদন্তের বড় সুযোগ রয়েছে।

আদালত তাঁর সিদ্ধান্ত, নির্দেশনা ও কাজের পরিধি নিপীড়িত ও ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের অনুধাবনের গুরুত্বও অনুধাবন করেন। এ ছাড়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাশা ও উদ্বেগগুলো আদালতের সব শাখার বোঝার জন্যও যোগাযোগ কাঠামো থাকা প্রয়োজন।

আইসিসির কৌঁসুলি বলেছেন, কার্যকর ও ফলপ্রসূ তদন্ত এবং অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার ব্যাপারে তাঁর বাধ্যবাধকতা আছে। নিপীড়িত ব্যক্তি ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের স্বার্থে, আদালতের সীমিত সম্পদের আরো কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সুরক্ষায় তথ্য যোগাযোগ কাঠামো সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

আইসিসির তৃতীয় প্রাক-বিচারিক আদালত আইসিসির কৌঁসুলির আবেদন মঞ্জুর করে তাঁর সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয়ের ভিত্তিতে যতটা সম্ভব কার্যকর যোগাযোগ কাঠমো সৃষ্টি করতে রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালত (আইসিজি) গত ২৩ জানুয়ারি জেনোসাইড বা গণহত্যা থেকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় চারটি অন্তর্বর্তী আদেশ দিয়েছেন। আইসিজে রাষ্ট্রের জবাবদিহি এবং আইসিসি ব্যক্তিগত অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা