kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্রিফিং, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য

চীন থেকে এখনই ফিরতে পারছে না বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



চীন থেকে এখনই ফিরতে পারছে না বাংলাদেশিরা

করোনাভাইরাস ঠেকাতে বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা। গতকাল চীন থেকে আসা যাত্রীদেরও নানা স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর ছাড়া হয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আগামী ৬ ফেব্রুয়ারির আগে চীনের উহানে অবস্থানরত কোনো বাংলাদেশি দেশে ফিরতে পারছেন না। আর সাময়িক কিছু সময় কেউ যেন চীন ভ্রমণ না করেন সে বিষয়ে নিরুৎসাহ করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আন্ত মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এসব কথা বলেন।

অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল ঢাকায় অন্য একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চীনের উহানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা ফিরতে চাইলে তাদের জন্য ফ্লাইট প্রস্তুত আছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার চীন সরকারের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা উহানের সবাইকে দুই সপ্তাহের পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এই ১৪ দিন কাউকে সেখানে ঢুকতে দেবে না, বের হতেও দেবে না। দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ শেষে তারা সিদ্ধান্ত দিলে বাংলাদেশ বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনতে প্রস্তুত আছে।’

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম গতকাল বিকেলে তাঁর ফেসবুকে বলেন, ‘কী ধরনের বিমান আমরা পাঠাব, তা জানতে চেয়েছে চীন। যাঁরা ফিরতে চান, তাঁদের রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়ে গেছে। আমরা দু-এক দিনের মধ্যে সঠিক ধারণক্ষমতার বিমানটি নির্ধারণ করতে পারব ফিরে আসতে চাওয়া মানুষের সংখ্যার মাধ্যমে।’

ফিরিয়ে আনার আগ পর্যন্ত চীনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের সবাইকে চীন সরকারের নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অনুরোধ জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এখন পর্যন্ত কোথাও করোনাভাইরাসের কারণে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশনা দেয়নি। তবে আমরা অধিকতর সতর্কতার জন্য সাময়িক কিছু সময় চীন ভ্রমণে নিরুৎসাহ করছি। আর বাংলাদেশে যে চীনা নাগরিকরা আছেন, তাঁদের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এখনো দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। একজন চীনা নাগরিক ইউনাইটেড হাসপাতালে সাধারণ সর্দি-কাশি-জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। তিনি এখন সুস্থ আছেন এবং নিজ দেশে ফিরে যেতে চান।’

ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়, ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতাল ও সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে বিশেষভাবে আইসোলেটেড ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও  জেলা হাসপাতালে একই রকম আইসোলেটেড ইউনিট প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সব হাসপাতালে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিরাপত্তামূলক উপকরণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৩টি দেশে করোনাভাইরাস প্রবেশ করলেও বাংলাদেশে এখনো কেউ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি। সীমান্ত এলাকার সব কটি ইউনিটে স্ক্যান মেশিন বসানো হয়েছে। প্রতিটি জেলার জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এগুলোর খোঁজখবর রাখছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে আলাদা হটলাইন চালু করা হয়েছে। বিমানবন্দরে বিদেশ থেকে আগত যাত্রীদের হাতে করোনাভাইরাসের সতর্কতা, করণীয় ও যোগাযোগ নম্বর সংবলিত কার্ড দেওয়া হচ্ছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশের স্বাস্থ্য খাতসহ সব কটি ইউনিট একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী আরো জানান, আলোচিত করোনাভাইরাস সার্স ভাইরাসের মতো ভয়াবহ নয়। এই ভাইরাস শীতকালে দেখা দিলেও গরমের সময় এটি টিকতে পারবে না। কাজেই এই ভাইরাস নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

চীনের উহান শহরে অবস্থানরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, উহানে অবস্থানরত ৩১৭ জন শিক্ষার্থীকে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিলেও চীন সরকার ১৪ দিনের মধ্যে সেখান থেকে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় আপাতত তাঁদের আনা যাচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। ১৪ দিনের রেস্ট্রিকশন পিরিয়ড শেষ হলে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।

ব্রিফিংয়ে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক আহমেদুল কবীর, কিটস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রোবেন, বিশ্বব্যাংকের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি শিউ ওয়াং প্রমুখ।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক সাংবাদিকদের জানান, গত ১৫ দিনে দুই হাজার ৩০৮ জন যাত্রীকে স্ক্যান করা হয়েছে।

এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও বিস্তার প্রতিরোধে করণীয় ও প্রস্তুতি নিয়ে একটি বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, ‘বাংলাদেশে এখনো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগী শনাক্ত না হলেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ভাইরাস প্রতিরোধে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে।’ 

ডিসপোজেবল ফেস মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন, আমদানি ও মজুদ বাড়ানোর তাগিদ : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পূর্বপ্রস্তুতিমূলক এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতি, মেডিক্যাল ডিভাইস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যান্ড হসপিটাল ইকুইপমেন্ট ডিলারস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সার্জিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ও ডায়াগনস্টিকস রি-এজেন্ট অ্যান্ড ইকুইপমেন্টস ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রতিনিধি, ঔষধ উৎপাদনকারী ও মেডিক্যাল ডিভাইস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দেশীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অ্যান্টিভাইরাল মেডিসিনের পর্যাপ্ত উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ডিসপোজেবল ফেস মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, হ্যান্ড স্যানিটাইজার  উৎপাদন, আমদানি ও মজুদ বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের পণ্য আপাতত রপ্তানি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে গতকাল রাতে আইইডিসিআর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত কয়েক দিনে চীন থেকে বাংলাদেশে আসা মোট তিন হাজার ১৪ জনের শরীর স্ক্যান করা হয়েছে। স্ক্যান করা কারো শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়নি। এ ছাড়া আইইডিসিআরের হটলাইনে মোট ১৬ জন কল করে করোনাভাইরাস সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। আর ছয়জন সরাসরি আইইডিসিআরে এসে পরীক্ষা সেবা গ্রহণ করেছেন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা