kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কেন্দ্রে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসছে না

আগে থেকে থাকলে সেগুলো সচল রাখার নির্দেশ ইসির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেন্দ্রে নতুন করে সিসি ক্যামেরা বসছে না

আসন্ন ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হবে, সেগুলোতে সিসি ক্যামেরা থাকলে তা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ওই সব সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটগ্রহণ পরিস্থিতির রেকর্ড রাখতে চায় কমিশন। তবে আগে থেকে সিসি ক্যামেরা নেই এমন কেন্দ্রগুলোতে ভোট উপলক্ষে নতুন করে তা সংযোজন করা হবে না।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর গতকাল মঙ্গলবার কমিশনের সভা শেষে এসব তথ্য জানান। তিনি আরো জানান, জাতীয় সংসদের সম্প্রতি শূন্য হওয়া আসনগুলোর তফসিল নির্ধারণে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ৭ ফেব্রুয়ারি কমিশন পুনরায় বৈঠকে বসবে।

ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘বিএনপি ইভিএম দেখতে না এলে আমরা কী করব? ইভিএমে ভোটের সব কিছুর ডিজিটাল রেকর্ড থাকে। যে কেউ আদালতে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে।’

গাইবান্ধা-৩, ঢাকা-১০, বাগেরহাট-৪, বগুড়া-১ ও যশোর-৬ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন এবং চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গতকাল কমিশনের ৬০তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব নির্বাচনের তফসিল চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান ইসি সচিব।

বৈঠকের পর ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যবহার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা আছে, সেগুলোকে সচল রাখতে বলা হয়েছে। এতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে ওই ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দোষীদের চিহ্নিত করা যাবে। তবে কেন্দ্রগুলোর বুথে কোনোভাবেই যাতে কোনো সিসি ক্যামেরা না থাকে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ইভিএমে কারচুপির কোনো সুযোগ নেই দাবি করে সচিব বলেন, এই মেশিন ওপেন; যে কেউ এসে দেখতে পারে। নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে ইভিএম দেওয়া রয়েছে। ইভিএম প্রদর্শনী ও মক ভোটিং হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতরা দেখেও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিএনপি সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাদের বলেছি আপনারা দেখেন। আমরা ওপেন রেখেছি। তারা তো আসে না। তারা যদি না আসে, আমরা কিভাবে আনব?’

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব মো. আলমগীর বলেন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসাররা নিজের আঙুলের ছাপ দেওয়ার মাধ্যমে ১ শতাংশ ভোটারের ব্যালট ইস্যু করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ভোটারকে চিহ্নিত করার পর তার আঙুলের ছাপ না মিললে ওই কর্মকর্তা নিজের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ব্যালট ইস্যু করবেন। আর এমন ভোটোরের সংখ্যা ১ শতাংশের বেশি হলে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিতে হবে। আরো বেশি লাগলে কমিশনের অনুমতি লাগবে। পরে চাইলে এই ইভিএমের তথ্য জানা যাবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইভিএমে ভোটের তথ্য আমাদের কাছে ডিজিটালি সংরক্ষণ করা থাকে। মামলা করারও সুযোগ রয়েছে। কেউ ইচ্ছা করলে এ নিয়ে আদালতেও যেতে পারেন। কেউ চ্যালেঞ্জ করলে তথ্য দেখানো যাবে।’

আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বড় ধরনের আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে এমন নয়। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে দুটি অতর্কিত ঘটনা ঘটেছে। ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে না জানিয়ে ওই পথসভা হয়েছিল। এ নিয়ে দুই দলের সঙ্গেই কমিশনের কথা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটানোর জন্য বলা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারকেও নির্দশনা দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে মাইকিং ও লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক ইলেকশনে এটা কন্ট্রোল করা কঠিন। তবে কমিশন ভবিষ্যতে এ নিয়ে চিন্তা করবে।

সিটি নির্বাচনে দলীয় ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, ‘যে নীতিমালা বহাল আছে, সেই নীতিমালা অনুযায়ী দিচ্ছি। যারা ইসিতে নিবন্ধিত, তাদেরকেই কার্ড দেওয়া হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা