kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

ইশরাকের ১৩ দফায় ১৪৪ প্রতিশ্রুতি

ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিক বাসযোগ্য ঢাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঐতিহ্য ধরে রেখে আধুনিক বাসযোগ্য ঢাকা

ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক বাসযোগ্য ঢাকা গড়াকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। নাগরিক সেবা নিশ্চত, নাগরিক বিনোদনের ব্যবস্থা, নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ ১৩ দফায় ১৪৪টি প্রতিশ্রুতিসংবলিত ইশতেহার ঘোষণা করেছেন তিনি। ইশতেহারে রাজধানীর পরিবেশ উন্নয়ন, বনায়ন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি যানজট নিরসনে পুরনো ও নতুন ভাবনার সমন্বয় লক্ষ করা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ইশতেহার ঘোষণা করেন ইশরাক।

ইশতেহারে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চত করা, সমাজসেবা কার্যক্রমে জোর দেওয়া, জননিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতার শক্তি পুনরুদ্ধার, গ্রন্থাগার ও জাদুঘর স্থাপন, নাগরিক পরিকল্পনা ও প্রশাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দফাগুলো ছাড়াও দুর্নীতিমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক সেবা, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ার জন্য কাজ করা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মানবাধিকার রক্ষা এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সম্মিলনে মাদকমুক্ত, মশা ও জলাবদ্ধতামুক্ত, ভারসাম্যমূলক ও পরিবেশসম্মত বিশ্বমানের বাসযোগ্য অত্যাধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি রক্ষার কথা বলেছেন ইশরাক।

বারবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও রোড ডিভাইডার ভাঙার ফলে সম্পদের ক্ষতি ও জনদুর্ভোগ বন্ধ করা, ফুটপাত ও ফ্লাইওভারের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, পথচারী পারাপারে জেব্রাক্রসিংগুলোতে ডিজিটাল পুশ বাটন ও সিগন্যালিং সিস্টেম চালু, নারীদের পৃথক ও নিরাপদ বাস সার্ভিস চালু, যানজট নিরসনে আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল নির্মাণ, দ্রুতগামী ইলেকট্রিক্যাল বাস সার্ভিস ও স্মার্ট বাসস্টেশন নির্মাণ ছাড়াও যোগাযোগব্যবস্থায় ৫০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির এই মেয়র পদপ্রার্থী।

একইভাবে নাগরিক স্বাস্থ্যসেবায় পার্ক ও ব্যায়ামাগারে অত্যাধুনিক প্রাইমারি হেলথ চেকআপ সেন্টার স্থাপন, বিষ ও ফরমালিনমুক্ত খাদ্যপণ্য নিশ্চিতকরণ, নিয়মিত মশক নিধন কর্মসূচি পালন, মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন, যুবসমাজের জন্য ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা, কমিউনিটি হাসপাতালগুলোতে নারীদের মাতৃত্বকালীন এবং পাঁচ বছর পর্যন্ত সব শিশুর বিনা খরচে চিকিৎসা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া নাগরিক বিনোদনের কথা মাথায় রেখে বুড়িগঙ্গা দূষণমুক্ত করা, নদীর তীরে ওয়াকওয়ে নির্মাণ, পুরান ঢাকার ঐতিহ্য ও স্থাপনাশৈলী অক্ষুণ্ন রেখে সংস্কার ও আধুনিক পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করা, ডিএসসিসির অধীনে থাকা উন্মুক্ত উদ্যানগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা, বেদখলে থাকা উদ্যান, খাল ও নদী উদ্ধার, ক্রীড়া উন্নয়নে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইশরাক।

ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে আরো রয়েছে, বিভিন্ন স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে নৈশ শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা, এলাকার উন্নয়নে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্পৃক্তকরণ, শিক্ষার্থীদের চলাচলে অত্যাধুনিক স্টুডেন্ট বাস সার্ভিস চালু, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নগর শিক্ষাবৃত্তি’ চালু করাসহ শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়ন।

একই সঙ্গে পরিবেশসম্মত রাজধানী গড়তে নগরে ধুলাবালি ও শব্দদূষণ প্রতিকারে আধুনিক ব্যবস্থা, দূষণমুক্ত নগর গড়ে তুলতে সোর্স কন্ট্রোল, ডিএসসিসির জায়গায় বৃক্ষরোপণ ও নগর কৃষি ব্যবস্থা চালু করা ছাড়াও তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিতে জনগণকে সম্পৃক্তকরণ, বয়স্কদের জন্যে ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সার্ভিস চালু করা, ই-বর্জ্যসহ যাবতীয় ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম গড়ে তোলা, জনসচেতনতামূলক কমিউনিটি রেডিও স্টেশন স্থাপন ছাড়াও কয়েকটি স্মার্ট স্কুল স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ইশতেহারে রাজধানীবাসীর ট্যাক্সের টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে, কতটা অগ্রগতি হচ্ছে ইত্যাকার সব বিষয় বছরে কমপক্ষে দুইবার সবার সামনে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন ইশরাক।

ইশতেহার ঘোষণাকালে ইশরাক হোসেন আরো বলেন, ‘আমার বাবা সাদেক হোসেন খোকার অসমাপ্ত কাজ শেষ করে আপনাদের বাসযোগ্য ঢাকা উপহার দিতে চাই। এই শহরে আমার বেড়ে ওঠা, আপনারাই আমার স্বজন। আমি জানি, আপনাদের চারপাশে রয়েছে অনেক সমস্যা, অনেক অসমতার উদাহরণ। কিন্তু সমস্যার উল্টো পিঠেই আছে সমাধান। খুঁজে নিতে হবে সেগুলো। আমার স্বপ্ন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সম্মিলনে একটি আধুনিক ঢাকা গড়া। আমি মনে করি, আদর্শ শহর হচ্ছে যেখানে চাওয়ার আগে উত্তম নাগরিক সেবা নাগরিকের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। আমি রাজধানীবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, আপনাদের অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা হবে।’

ইশতেহার উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ বিএনপি, ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা