kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

১৯ দফার ইশতেহার দিলেন তাবিথ

নগর সরকার গঠনে জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নগর সরকার গঠনে জোর

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) নির্বাচনে বিজয়ী হলে নগর সরকার গঠন করার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত মেয়র পদপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। গতকাল সোমবার রাজধানীর গুলশানে ইমানুয়েলস ব্যাংকুয়েট হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। ইশতেহারে দূষণমুক্ত, নারী-শিশু ও প্রতিবন্ধীবান্ধব ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য, পাবলিক টয়লেট, মশক নিয়ন্ত্রণ, গণপরিবহন, সড়ক নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সমন্বিত পরিকল্পনায় ঢাকা উত্তরকে একটি ইন্টেলিজেন্ট সিটি হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে ইশতেহারে। অপরাধ দমন ও বিনোদন এবং সহজলভ্য নিরাপদ আবাসনকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এতে।

নগর সরকার গঠনের বিষয়ে বিএনপি মেয়রপ্রার্থী তাবিথ বলেন, ‘নগর প্রশাসন করে নাগরিক সেবা ওয়ার্ড পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে। নগর সরকার গঠন করে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা সিটিতে মশার উপদ্রব একটি অন্যতম সমস্যা। বর্তমান সরকার ও মেয়ররা মশা নিধনে ব্যর্থ হয়েছেন। আমি নির্বাচিত হলে মশা নিধনে বছরব্যাপী কার্যক্রম গ্রহণ করব। যানজট নিরসনে কাজ করব। বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেব।’

নারীবান্ধব শহর গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘ঢাকাকে নারীবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলা হবে। নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালু করা হবে। আধুনিক ডে কেয়ার সেন্টার ও বিশেষ নারী সেল গঠন করা হবে। প্রতিবন্ধীবান্ধব আইন প্রয়োগ ও রাত্রীকালীন আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নারীদের মাতৃত্বকালীন ও পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুদের বিনা খরচে চিকিৎসা দেওয়া হবে। নারী ও শিশুদের জন্য মানসিক পরিচর্যাকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। নারী শ্রমিকদের জন্য আবাসন ও যাতায়াতব্যবস্থা করা হবে।’

ঢাকাকে ইন্টেলিজেন্ট শহর বানানোর পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তির ব্যবহার সারা দুনিয়ায় বেড়েছে। ঢাকাকেও ইন্টেলিজেন্ট শহর হতে হবে। বিশ্বে ইন্টেলিজেন্ট শহর হচ্ছে, এটা নতুন ট্রেন্ড। আর্টিফিশয়াল ইন্টেলিজেন্স টেকনোলজি আছে, ড্রোন, ইন্টারনেটসহ আধুনিক প্রযুক্তি আছে, এগুলো সব কাজে লাগালেই ইন্টেলিজেন্ট শহর করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হলে ৬০ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাসা ভাড়া নির্ধারণ ও আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাচেলর স্টুডেন্টস হাউজিং, চাকরিজীবী নারীদের আবাসনের জন্য সুপরিকল্পিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিদ্যমান সংকট সমাধান করা হবে।’

বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেন, ‘স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা আজ কোন দশায় পৌঁছেছে। সময়ের ব্যবধানে এখানে দুর্যোগ নামে, দুর্বিপাক আসে, অনেক কিছু তছনছ করে দিয়ে যায়। কিন্তু বিপর্যয়ই শেষ কথা নয়। প্রতিটি দুর্যোগ শেষেই আমাদের সাহসী-সংগ্রামী মানুষেরা মিলিতভাবে উঠে দাঁড়ায়।’ সরকারবিরোধী অবস্থানে থেকে ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ বলেন, ‘জনগণ পাশে থাকলে আমার দেওয়া ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে পারব।’

নির্বাচিত হলে ৯০ ঘণ্টার মধ্যে কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার ৯০ দিন পর কার্যক্রম শুরু করতে হয়। কিন্তু আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, ৯০ দিন নয়, মেয়র নির্বাচিত হলে ৯০ ঘণ্টাও অপেক্ষা করতে হবে না। প্রথম দিন থেকেই সেবা কার্যক্রম শুরু করব।’ ঢাকা শহরের ডেঙ্গু এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগস্ট মাস থেকে ডেঙ্গু মোকাবেলায় আমরা সচেতনতায় কাজ করেছি। যদি ১ এপ্রিল থেকে ক্ষমতায় যেতে পারি, তাহলে আমরা প্রথমে লার্ভা নিধনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এটা প্রথম দিন থেকে শুরু করব।’

ক্ষমতায় এলে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, ‘আমরা এখনো দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হিসেবে আছি। তাই দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে আমরা ১ তারিখে নির্বাচিত হয়ে নগরবাসীকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করব। আর এ জন্য যেটি প্রয়োজন সেটির জন্য যা যা করণীয়, আমরা করব।’

ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে যে সমন্বয় দরকার সেটি কিভাবে করবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তাবিথ বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, ভোটারবিহীন সরকারের অধীন সমন্বয়হীনতা থাকলেও আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসব। তাই আমরা সমন্বয়ের জন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, এর সবটুকুই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে করব।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, মো. শাহজাহান, বরকতউল্লা বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রমুখ।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা