kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বিতর্কিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওয়ার্ডেই হামলার ঘটনা বেশি

লায়েকুজ্জামান   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিতর্কিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওয়ার্ডেই হামলার ঘটনা বেশি

বিতর্কিত কাউন্সিলর প্রার্থীদের ওয়ার্ডেই সর্বাধিক হামলার ঘটনা ঘটছে। চাঁদাবাজি, মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দেওয়া, জমি দখলসহ নানা অভিযোগে বিতর্কিত বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে লড়ছেন এবার। এসব প্রার্থীর মধ্যে অনেকে আবার বর্তমান কাউন্সিলর। আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এই বিতর্কিতদের বেশ কয়েকজনকে সমর্থন দেয়নি। সমর্থন না পাওয়া বিতর্কিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আবার বেশ কয়েকজন বিতর্কিত প্রার্থী এবারই প্রথম দলীয় সমর্থন পেয়েছেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচার শুরুর পর থেকে দেখা যায়, এসব বিতর্কিত কাউন্সিলর প্রার্থীর ওয়ার্ডেই সর্বাধিক হামলা-পাল্টাহামলার ঘটনা ঘটছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান নাঈম। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ তাঁকে সমর্থন দেয়নি। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন শফিউদ্দিন মোল্লা পনু। গত রবিবার দুপুর ১২টায় শফিউদ্দিন মোল্লার দুই ভাই সেলিম মোল্লা ও জুবায়ের মোল্লা এবং ভাতিজা রবিন মোল্লা নির্বাচনী প্রচারে নামলে তাঁদের ওপর হামলা চালায় বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমান নাঈমের ক্যাডার বাহিনী। হামলায় এই তিনজনই আহত হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সমর্থন পাওয়া শফিউদ্দিন মোল্লা পনু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার পক্ষে প্রচার চালানোর সময় বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমান নাঈমের ক্যাডাররা আমার দুই ভাই ও ভাইপোর ওপর হামলা চালায়। আহত অবস্থায় তাদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আমি এখনো মামলা করিনি। তবে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুর রহমান নাঈম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এগুলো ভিত্তিহীন অভিযোগ। আমার কোনো লোক কারো ওপর হামলা চালায়নি।’

ডিএনসিসির ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন আবদুর রউফ নান্নু। জমি দখল করে বিপণিবিতান নির্মাণসহ একাধিক অভিযোগে তিনি বিতর্কিত। সরকারি গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিবরণ উঠে এসেছে। ওই ওয়ার্ডে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন পল্লবী থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা। জনপ্রিয়তায় এগিয়ে থাকা রানাকে থামিয়ে দিতে প্রথমে হত্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার পর গত ২২ জানুয়ারি দুপুরে পল্লবীর মিল্লাত বিহারি ক্যাম্পের সামনে একদল সশস্ত্র ক্যাডার রানার ওপর হামলা চালিয়ে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেয়। ওই হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন জুয়েল রানার পাঁচজন নারী কর্মী।

ডিএনসিসির ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন তোফাজ্জেল হোসেন টেনু। ওই ওয়ার্ডে প্রতিপক্ষের ওপর প্রতিনিয়ত হামলার ঘটনা ঘটছে। প্রচার মাইক ভাঙচুর করা হয়েছে আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী লিমন চৌধুরীর। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রূপনগর থানায় তিনি জিডি করেছেন। আর আরেক প্রার্থী শেখ নাছির উদ্দিন  জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন।

ডিএনসিসির ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উত্তরার রয়েল ক্লাবের পরিচালক শেখ সোহেল। নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে এই ধনাঢ্য প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম যুবরাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শেখ সোহেল প্রতিনিয়ত আমার কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে, পোস্টার-ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আহমেদ ইমতিয়াজ মন্নাফী। ওই ওয়ার্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রার্থী মেহেরুন্নেছার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। মেহেরুন্নেছা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকেরাই এই হামলা চালিয়েছে। আমি ইসিতে লিখিত অভিযোগ করেছি।’ মেহেরুন্নেছার বাড়িতে হামলার কথা নিশ্চিত করেছেন ওয়ারী থানার ওসিও।

ডিএসসিসির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ফের আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন হাসিবুর রহমান মানিক। ফুটপাত থেকে শুরু করে পরিবহনসহ অন্যান্য খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিতর্কিত তিনি। গত রবিবার রাতে ওই ওয়ার্ডে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় আহত হয়েছেন হাসিবুর রহমান মানিক।

কালের কণ্ঠকে মানিক বলেন, ‘কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তবে বিদ্রোহী প্রার্থী শিহাবউদ্দিন রসির লোকেরা আমার ওপর অতর্কিত হামলা করেছে।’

হামলার কথা অস্বীকার করে শিহাবউদ্দিন রসি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হাসিবুর রহমান মানিক সম্পর্কে এলাকার সবাই জানে। তাঁর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও সবাই অবগত। তাঁর কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে কে না কে হামলা করেছে আমার জানা নেই। এখন দোষ চাপাচ্ছেন আমার ওপর।’

ডিএসসিসির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থী সাইদুর রহমান রতন ও বিল্লাল সরদার। এই দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারের সময় কর্মীদের ওপর দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলা চালিয়ে হাতের আঙুল ভেঙে দেওয়া হয়েছে বিল্লাল সরদারের। ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছেন মোহাম্মদ হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে ফুটপাতে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। কালের কণ্ঠকে মোহাম্মদ হোসেন বলেন, ‘এ ওয়ার্ডে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।’

বিদ্রোহী প্রার্থী বিল্লাল সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হামলার ঘটনা কামরাঙ্গীর চর থানার ওসিকে জানানো হয়েছে।’

কামরাঙ্গীর চর থানার ওসি মশিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘হামলার কিছু ঘটনা ঘটেছে এটা ঠিক। তবে এখন নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।’

ডিএসসিসির আরো বিতর্কিত প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ৬৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাহমুদুল হাসান পলিন ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের আনিসুর রহমান। এঁদের বিরুদ্ধেও প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালানো, নির্বাচনী ক্যাম্প ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা