kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

ব্যাংক কম্পানি আইন সংশোধন করতে হবে

ড. আহসান এইচ মনসুর

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ব্যাংক কম্পানি আইন সংশোধন করতে হবে

ব্যাংকগুলোর মালিকানা শিল্পপতিদের হাতে। যাঁরা ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। ঋণ নেওয়ার জন্যই ব্যাংকের মালিকানা নিয়েছেন তাঁরা। আগে নিজের ব্যাংক থেকে তাঁরা বেশি ঋণ নিতেন। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের রুলসের কারণে এখন আর নিজ ব্যাংক থেকে ইচ্ছামতো ঋণ নিতে পারছেন না। এ পর্যন্ত নিজ ব্যাংক থেকে মাত্র এক হাজার কোটি টাকার মতো ঋণ নিয়েছেন পরিচালকরা। কিন্তু পরস্পর ভাগাভাগির ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে বিপুল অঙ্কের ঋণ।

প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। পরস্পর ভাগাভাগি করে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি জিনিস হয়। যেমন—‘ক’ ব্যাংকের পরিচালক ‘খ’ ব্যাংকের ঘনিষ্ঠ পরিচালককে বলল তুমি আমাকে ৫০০ টাকা পাইয়ে দাও, আমি তোমাকে ১০০০ টাকা পাইয়ে দেব। অনেকটা সিন্ডিকেশনের মতো। এভাবে এক ব্যাংকের পরিচালক অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন। আবার এটা স্বল্প সুদে দেওয়া হচ্ছে। ঋণটি বছরের পর বছর খেলাপিও করতে দেওয়া হয় না। পুনঃ তফসিল, পুনর্গঠন করে নিয়মিত রাখা হয়। এ ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণ ও শ্রেণীকরণের যে নিয়মাচার সেটা কিন্তু ভঙ্গ হচ্ছে। ফলে যে উদ্দেশ্যে নিজ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ায় সীমা আরোপ করা হয়েছিল, সে উদ্দেশ্য ব্যাহত হলো।

একই ব্যক্তি একাধিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিক। ফলে তাঁরাই ঘুরেফিরে ঋণ নিচ্ছেন। এতে গুটিকয়েক পরিচালকের হাতেই জনগণের আমানতের বড় অংশ ঋণ হিসেবে চলে যাচ্ছে। আর সাধারণ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ব্যাংকে ধরনা দিয়েও ঋণ পাচ্ছেন না। এটা বৈষম্যমূলক। এ থেকে পরিত্রাণে ব্যাংক কম্পানি আইন এমনভাবে সংশোধন করতে হবে, যাতে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিরা ব্যাংকের মালিক হতে না পারেন। কিংবা তাঁরা মালিকানায় এলেও ব্যাংক থেকে যাতে ঋণ নিতে না পারেন সে নিয়ম করতে হবে।

লেখক : নির্বাহী পরিচালক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা