kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

করোনাভাইরাস নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা

আজ আসছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

তৌফিক মারুফ   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনাভাইরাস নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা

দেশে বা দেশের বাইরে কোথাও এখনো করোনাভাইরাসে বাংলাদেশের কেউ আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত না হলেও এই ভাইরাসের ব্যাপারে কোনোভাবেই ধীরে চলতে চায় না সরকার। এ নিয়ে শুরু থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে আসছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এখন অন্যান্য মন্ত্রণালয়কেও যুক্ত করা হয়েছে এর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও নজর রাখছেন এদিকে। গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী এ ভাইরাস প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এরই মধ্যে সব কটি আন্তর্জাতিক বন্দরে বিদেশ থেকে আগতদের স্ক্যান করা হচ্ছে। সব কটি মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা হাসপাতালে সংরক্ষিত ইউনিট চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। সারা দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্ত মন্ত্রণালয় সভা। এ সভায় সাময়িক সময়ের জন্য চীনে যাতায়াতের ওপর এক ধরনের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হতে পারে বলে আগেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী আভাস দিয়েছেন। অন্যদিকে চীনে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা দেশে ফিরতে আগ্রহী তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যাপারেও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত ২১ জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৮৭০ জনকে স্ক্যান করা হয়েছে বলেও জানানো হয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। এদিকে কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ এই কাজগুলোকে আরো গুছিয়ে করার পরামর্শ দিয়েছেন। মাস্ক ব্যবহারের ব্যাপারে জোর দেওয়ারও তাগিদ দিয়েছেন কেউ কেউ।

গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম নিজের ফেসবুকে জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে যারা দেশে ফিরতে আগ্রহী তাদের ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। এই তথ্য ধরেই স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে করোনাভাইরাস নিয়ে সতর্কতার ব্যাপারে।

স্বাস্থ্যসচিব (সেবা) আসাদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশে এখনো কাউকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত না করা হলেও আমরা কিন্তু স্বস্তিতে নেই। বরং আমরাও ঝুঁকিতে আছি বলে শুরু থেকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একের পর এক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া গণমাধ্যমেও এ বিষয়ে খবর প্রকাশের সময় কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার, যাতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক না ছড়ায়। আবার মানুষকে সচেতন করতে সবচেয়ে বড় ভূমিকাও পালন করতে হবে গণমাধ্যমকেই।’

এদিকে গতকাল সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় দেশে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করে প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা সদর হাসপাতালে কমপক্ষে পাঁচটি করে বেড সংরক্ষিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের করণীয় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সময় অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরাসহ অন্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

ড. ফ্লোরা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতির সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শুরু থেকেই কাজ করছি। কারণ আমরা ঝুঁকির বাইরে নই। তবে আমরা একই সঙ্গে মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘যারা চীনের উহান থেকে আসতে আগ্রহী বা কেউ যদি আসে, তবে তাদের কোথায় কিভাবে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে, তা কাল (আজ) সিদ্ধান্ত হতে পারে। এ ছাড়া অন্য যারা আসছে তাদের স্ক্যান ছাড়াও আরো কিছু পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা হচ্ছে নিজ নিজ বাড়িতেই।’

ড. ফ্লোরা আরো বলেন, ‘স্ক্যান ছাড়াও প্রতিদিনই কয়েকজন করে বিদেশফেরত মানুষ নিজেরাই সন্দিহান হয়ে আইইডিসিআরে আসছে বা ফোনে যোগাযোগ করছে। আমরা তাদেরও এক ধরনের পর্যবেক্ষণে রাখছি।’

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শক ও আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহামুদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের খুবই সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু বন্দরে স্ক্যান করেই নিশ্চিত হওয়া যাবে না। কারণ চীনের বাইরে অন্য দেশগুলোতে করোনাভাইরাস কিন্তু ভেতরে যাওয়ার পরই ধরা পড়েছে। বন্দরে (স্ক্যানার বসিয়ে) অনেক উন্নত দেশও ধরতে পারেনি। তাই আমাদের বিদেশ, বিশেষ করে চীন ও আশপাশের দেশ থেকে ফেরত যাত্রীদের ফলোআপ জোরালো রাখতে হবে।’ তাঁর মতে, আইসিইউ ও শ্বাসতন্ত্রের চিকিৎসায় যারা আছে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়াও জরুরি। এ ছাড়া সর্বজনীনভাবে মাস্ক ব্যবহার খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশিকে ফেরত

এদিকে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি জানান, করোনাভাইরাস আতঙ্কে সম্প্রতি চীন ভ্রমণ করা এক বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী নাগরিককে ভারতে ঢুকতে দেয়নি সেখানকার ইমিগ্রেশন পুলিশ। গতকাল সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করলেও সেখান থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় ফেনীর সদর উপজেলার সাহিবপুর গ্রামের সৈয়দ আহম্মেদের ছেলে শওকত আহমেদকে; যদিও করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ তাঁর শরীরে পাওয়া যায়নি। নভেম্বর মাসে ছয় দিন চীন ভ্রমণ করে বাংলাদেশে আসেন তিনি। এরপর গতকাল আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে যাচ্ছিলেন শওকত।

চীন থেকে বাংলাদেশিদের ফেরাতে ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হবে : করোনাভাইরাসের বিস্তারের কারণে চীন থেকে যেসব বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চান, তাঁদের আরো ১৪ দিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের লক্ষ্যে ১৪ দিন পর্যন্ত উহানে কাউকে প্রবেশ কিংবা চীনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে যেতে দেবে না স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল দুপুরে বেইজিংয়ে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃত করে বেইজিং থেকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক বার্তায় এ কথা জানানো হয়েছে।

 

মন্তব্য