kalerkantho

সোমবার । ২৯ আষাঢ় ১৪২৭। ১৩ জুলাই ২০২০। ২১ জিলকদ ১৪৪১

প্রেস ক্লাবে ইশরাক হোসেন

শহরকে বাসযোগ্য করার জন্য সব করব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শহরকে বাসযোগ্য করার জন্য সব করব

জনগণের খেদমত এবং ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী ইশরাক হোসেন। গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে অযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে উঠেছে। বায়ুদূষণের দিক দিয়ে আমরা সবচেয়ে দূষিত নগরীর তালিকার এক নম্বরে আছি। কিছুদিন আগে নারী ও শিশুদের জন্য অনিরাপদ শহরের তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, সেই তালিকায়ও ঢাকা ছিল এক নম্বরে। আমি ঢাকার সন্তান। এখানে আমার বেড়ে ওঠা। এই সমস্যাগুলোর মধ্য দিয়ে আমি বেড়ে উঠেছি। এ সমস্যাগুলো আমার জানা। নির্বাচিত হলে এই শহরকে বাসযোগ্য করার জন্য যা যা করণীয় আমি সব করব। জনগণের খেদমত এবং নগরীর উন্নয়নে আমার জীবন উৎসর্গ করব।’

ইশরাক গত রবিবার গোপীবাগে হামলার ঘটনায় বিএনপির পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে যান ইশরাক। এর পর তিনি পল্টনে সিপিবির অফিসে গিয়েও ভোট প্রার্থনা করেন। সেখানে গিয়ে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের কাছে ভোট চান। আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইশরাক হোসেন তাঁর নির্বাচনী ইশতেহার উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। 

গতকাল দুপুরে পলওয়েল মার্কেট ও আশপাশের এলাকায় ইশরাকের মা ইসমত আরা প্রচারে নামেন। এ সময় তিনি ছেলের ছবি সংবলিত লিফলেট বিতরণ করেন ভোটারদের মাঝে। তাঁর মায়ের সঙ্গে ছোট ভাই ইশফাক হোসেনসহ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ইশরাক প্রেস ক্লাবে বলেন, ‘১৮ দিন ধরে আমি আমার প্রচার শান্তিপূর্ণভাবে চালিয়ে আসছিলাম। বিভিন্ন এলাকায় গেছি। ওই সব এলাকায় আওয়ামী লীগ এবং তাদের সমর্থিত কাউন্সিলরদের সঙ্গে আমি দেখা করেছি, কথা বলেছি। কিন্তু গতকাল (রবিবার) প্রচার শেষে ৪১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্পের সামনে দিয়ে আসার সময় বাসার ছাদ থেকে অতর্কিতে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তিনজন সাংবাদিকসহ ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। ওই হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিএনপির পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গতকাল থেকে আশঙ্কা করেছিলাম যে আমাদের নেতাকর্মীদের ধরপাকড় শুরু করবে। সেটাই হয়েছে। ওয়ারী থানায় আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটা মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়টি গতকাল আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছি। নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব, নির্বাচনের প্রচার সমানভাবে করার সুযোগ আমাদের দেওয়া হোক। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে মামলা-হামলা করে মাঠ খালি করার একটা কাজ করা হয়েছিল, সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয়।’

ইশরাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার নির্বাচনী প্রচারকাজ আপনারা জনগণের সামনে তুলে ধরছেন, সে জন্য আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি। আমি মনে করি, জনগণ হবে একটা দেশের ও ক্ষমতার মালিক।’

মতবিনিময়সভায় বক্তব্য দেন ডেইলি অবজারভারের সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এমরান সালেহ প্রিন্স, বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা