kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

পুরনো ৩ বিষয়ে গুরুত্ব আতিকের ইশতেহারে

গণপরিবহনে ই-টিকেটিং ব্যবস্থা প্রবর্তন, ইলেকট্রিক বাস নামানোসহ ছয়টি নতুন প্রতিশ্রুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পুরনো ৩ বিষয়ে গুরুত্ব আতিকের ইশতেহারে

আতিকুল ইসলাম

সুস্থ, সচল এবং আধুনিক ঢাকা—মোটা দাগে এই তিন বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে ৩৮ প্রতিশ্রুতিসংবলিত নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন আতিকুল ইসলাম। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে উপনির্বাচনেও এই তিন বিষয়কে প্রাধান্য দিয়েই ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন তিনি। গতকাল রবিবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে ঘোষণা করা ইশতেহারে ৩৮টি প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছয়টি সম্পূর্ণ নতুন। আবার বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতি সিটি করপোরেশনের এখতিয়ারভুক্ত কাজের বাইরে। তবে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃঢ় থাকার অঙ্গীকার করেছেন মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিক।

এদিকে নগর পরিকল্পনাবিদদের অভিমত, মেয়র চাইলে অন্যান্য সংস্থাকে সেবাদানে বাধ্য করতে পারেন।

সুস্থ ঢাকা গড়তে রাজধানীর মিরপুরে বৃক্ষ ও পোষ্য প্রাণী ক্লিনিক নির্মাণ, সিটি করপোরেশনের প্রতিটি অফিসে মাতৃদুগ্ধ কক্ষ স্থাপন এবং মিস্ট ব্লোয়ার ও অন্যান্য প্রযুক্তির মাধ্যমে বায়ুদূষণ কমানোর বিষয়টি নতুনভাবে এসেছে আতিকের ইশতেহারে। এ ছাড়া সচল ও আধুনিক নগর গড়তে গণপরিবহনে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা প্রবর্তন, ইলেকট্রিক বাস নামানো এবং সিটি করপোরেশনের সব সেবা কেন্দ্রীয় কমান্ড সিস্টেমে নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলোও নতুন।

এর বাইরে সমন্বিত মশক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বছরব্যাপী চালু করা, বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন, পাড়া উৎসব, বস্তিবাসীদের জন্য নাগরিক সুবিধা, জলাশয় দখলমুক্ত করা এবং নতুন ওয়ার্ডগুলোতে প্রাথমিক ও রি-প্রডাকটিভ হেল্থ কেয়ার সেন্টার নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আতিক। একইভাবে পার্ক ও খেলার মাঠ নির্মাণ; পশু জবাইখানা, সবার ব্যবহার উপযোগী গণশৌচাগার, ওয়ার্ড কমপ্লেক্স নির্মাণ; পথচারীবান্ধব ফুটপাত তৈরি ও দখলমুক্ত করা; যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়, জেব্রা ক্রসিং এবং ডিজিটাল পুশ বাটন ব্যবস্থা প্রবর্তন; শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহন নিশ্চিত করা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য গণপরিবহন ও গণস্থাপনা এবং বহুতল পার্কিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া সচল ঢাকা গড়তে হকার পুনর্বাসন, বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রস্তাব বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ, সাইকেল লেন ও পার্কিং নির্মাণ, স্মার্ট বাসস্টপ ও ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং নর্দমার উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেছেন আতিকুল।

আধুনিক ঢাকা গড়তে ‘সবার ঢাকা’ নামে একটি অ্যাপ তৈরি করে নাগরিকদের অভিযোগ জানা; হোল্ডিং ট্যাক্স, জন্মনিবন্ধন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা প্রদানে অটোমেশন প্রবর্তন; কাঁচাবাজারগুলোর কাঠামো শক্ত করা এবং বিশেষজ্ঞদের নিয়ে নগর পরিকল্পনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আতিক। একইভাবে খাল ও লেক সংস্কার, আঞ্চলিক অফিসগুলোতে হেল্পডেস্ক স্থাপন, স্মার্ট নেইবারহোড হিসেবে কয়েকটি এলাকা গড়ে তোলা, প্রতিটি এলাকায় সাংস্কৃতিক ও সেবা সংগঠন তৈরি, কমিউনিটি সেন্টারের আধুনিকায়ন এবং জনতার মুখোমুখি অনুষ্ঠান আয়োজন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।   

ইশতেহার ঘোষণার আগে মঞ্চে উঠে কথা বলেন আতিকুল ইসলামের কন্যা বুশরা আফরিন। ওই সময় নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন তিনি। বুশরা আফরিন বলেন, ‘বিগত ৯ মাসে আমি আমার বাবাকে খুব একটা কাছে পাইনি। তিনি সব সময় নগরবাসীকে সময় দিয়েছেন। আমার বাবা এই শহরের মানুষের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল। আমি চাই নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা আবারও মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করবেন।’

ইশতেহার ঘোষণার সময় আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিগত ৯ মাস আমি সময়ের অপচয় করিনি। ৯ মাসে অনেক কাজের ভিত্তি তৈরি হয়ে গেছে। এখন তা সবার কাছে দৃশ্যমান হবে। নৌকায় ভোট দিয়ে আমাকে বিজয়ী করলে আমি সব কটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব।’

এদিকে আতিকুল ইসলামের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তবে নির্বাচিত হলে ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করার আহ্বানও রয়েছে তাঁদের।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মোটা দাগে সব বিষয় এসেছে আতিকুল ইসলামের ইশতেহারে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব নিতে হবে। এ ছাড়া আইন অনুযায়ী সব সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সহযোগিতা নিতে পারেন মেয়র।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা