kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৭ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আইসিজের আদেশ

নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা অনিবার্য হয়ে উঠছে

মেহেদী হাসান    

২৭ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা অনিবার্য হয়ে উঠছে

জেনোসাইড বা গণহত্যা থেকে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতের (আইসিজে) আদেশের পর তা মানতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা অনিবার্য হয়ে উঠছে। আদেশের পরও মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ, নির্যাতন চলছে। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবারের আদেশের কপি জাতিসংঘের মহাসচিবকে পাঠাবে আইসিজে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এরই মধ্যে বলেছেন, আইসিজের আদেশের কপি পাওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে বিষয়টি অবহিত করবেন। পাশাপাশি তিনি মিয়ানমারকে আইসিজের আদেশ পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

ওয়াশিংটনে সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির পরিচালক এবং ইউএস আর্মি ওয়ার কলেজের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক আজিম ইব্রাহিম বলেছেন, ‘আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে মিয়ানমার ব্যর্থ হলে তাকে নির্দেশনা মানতে বাধ্য করতে হবে। এটি এক রকম নিশ্চিত যে মিয়ানমার আইসিজের রায় বাস্তবায়ন করতে পারবে না।’

আজিম ইব্রাহিম বলেন, সাধারণভাবে আইসিজের রায় নিরাপত্তা পরিষদকে জেনোসাইডের ঝুঁকি দূর করার কাজে সম্পৃক্ত হতে বাধ্য করবে। নিরাপত্তা পরিষদের পশ্চিমা সদস্যরা অনেক আগে থেকেই মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। কিন্তু মিয়ানমারের মিত্র চীন ও রাশিয়ার কারণে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব পাস করানো যায়নি। চীন শিনজিয়ানে এবং রাশিয়া সিরিয়ায় নিজেদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে চাইবে না আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো মানবাধিকার আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে নজির সৃষ্টি করুক। কিন্তু তা সত্ত্বেও নিরাপত্তা পরিষদকে আইসিজের রায় বাস্তবায়নে কোনো না কোনো উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করেন এই গবেষক।

আজিম ইব্রাহিম বলেন, আইসিজের আদেশ বাস্তবায়নের আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। ওই আদেশ বাস্তবায়নে নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাবে যদি চীন বা রাশিয়া ভেটো দেয়, তবে নতুন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলেন, মিয়ানমারকে আদেশ মানতে বাধ্য করার ব্যাপারে নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার বাইরে আরো অনেক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে।

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক বলেছেন, আইসিজের আদেশের পর জাতিসংঘ এবং এর সংস্থাগুলোর দোদুল্যমান অবস্থার অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, আগে দেখা গেছে, মিয়ানমার ক্ষুব্ধ হতে পারে—এমন আশঙ্কা করে জাতিসংঘের বিভিন্ন দপ্তর ওই দেশটিতে যথেষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারেনি। আইসিজের আদেশের পর তাদের সেই অবস্থান রাখার সুযোগ নেই। আইসিজের আদেশ অনেক দেশকেই তাদের অবস্থান বদলাতে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

শহীদুল হক বলেন, আইসিজের আদেশের পর মিয়ানমার অনেক দেশের নজরদারিতে পড়তে যাচ্ছে। এখন মিয়ানমার কী করছে না করছে তার দিকে সবাই দৃষ্টি রাখবে।

নিউ ইয়র্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সেন্টার ফর দ্য রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্টের নির্বাহী পরিচালক ড. সায়মন অ্যাডামস আইসিজের নির্দেশনাকে স্বাগত

জানিয়ে বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে এটি প্রথম ধাপ। আমি আশা করি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্য আদালত নির্দেশিত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে

তাদের নৈতিক ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করবে।’ তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে জেনোসাইডের জন্য যারা দায়ী তারা এখনো রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে। ন্যায়বিচার বিলম্বিত হয়েছে। তবে ন্যায়বিচারকে আর অস্বীকার করা যাবে না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, আইসিজের আদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়নে বাধ্য করার উদ্যোগ নেওয়ার বড় সুযোগ করে দিয়েছে। মিয়ানমার যদি রোহিঙ্গাদের রক্ষা করতে না পারে, তবে তাদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ভূমিকা রাখতে হবে। এই ভূমিকা কী হবে, তা পরিস্থিতির ওপরই নির্ভর করবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা