kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

এবার আরো বড় হার

বাংলাদেশ : ২০ ওভারে ১৩৬/৬
পাকিস্তান : ১৬.৪ ওভারে ১৩৭/১
ফল : পাকিস্তান ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : বাবর আজম

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবার আরো বড় হার

প্রথম ম্যাচে তাহলে নিতান্তই অতিথি আপ্যায়ন করেছিল পাকিস্তান! এত বলে-কয়ে, এত দেন-দরবার করে বাংলাদেশকে ডেকে এনেছে নিজেদের দেশে। এরপর শুরুতেই নাকানি-চুবানি খাওয়ায় কিভাবে!

প্রথম ম্যাচেই ওই অতিথিবাৎসল্য শেষ। এর পরই বিস্ফোরক রূপে বাবর আজমের দল। আগের দিন প্রতিপক্ষকে ১৪১ রানে আটকে রেখে তা টপকে যেতে শেষ ওভার পর্যন্ত খেলে; হারায় ৫ উইকেট। কাল ৬ উইকেটে ১৩৬ রানে আটকায় প্রথমে বাংলাদেশকে। এরপর অধিনায়ক এবং মোহাম্মদ হাফিজের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতে ৯ উইকেট এবং ২০ বল অক্ষত রেখে পৌঁছে যায় জয়ের বন্দরে। দুই দিনে দুই হারে তিন ম্যাচের সিরিজও খুইয়েছে মাহমুদ উল্লাহর দল। কাল তৃতীয় ম্যাচে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে খেলতে নামবে গালভরা ওই শব্দযুগল মাথায় রেখে—সম্মানের জন্য।

মাঠের ক্রিকেটে অসম্মানের চূড়ান্ত অবশ্য কাল হয়ে গেছে। এবং সেটি আবারও সেই অদ্ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ে। ওই যে কথায় আছে না, ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শিক্ষা ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। বাংলাদেশের হয়েছে সেই দশা। প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ব্যাটিং নেয়। তাতে লেজেগোবরে করা সত্ত্বেও কাল একই সিদ্ধান্ত। এবং আবারও গোবরে পিছলে পড়া ব্যাটিং। টি-টোয়েন্টিতে টেস্টের ধৈর্য, মনঃসংযোগ, একাগ্রতা, উইকেট আঁকড়ে থাকার প্রবণতা—সবই ছিল। শুধু ফরম্যাটের দাবি মেনে দ্রুত রান করার ইচ্ছাটাই অনুপস্থিত।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে তামিম ইকবাল-নাঈম শেখের ওপেনিং জুটি টিকে ছিল ১১ ওভার। তাতে মাত্র ৭১ রান হওয়ায় সমালোচনা বিস্তর। কাল দ্বিতীয় ওভারেই ভেঙে যায় জুটি। শাহিনশাহ আফ্রিদীর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে গোল্ডেন ডাক নাঈমের। মোহাম্মদ মিঠুনের জায়গায় একাদশে ঢোকায় মাহেদী হাসানকে তিনে পাঠিয়ে ফাটকা খেলে টিম ম্যানেজমেন্ট। কিন্তু বিপিএল আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তো এক নয়। যে কারণে ১২ বলে ৯ রান করা মাহেদী পুল করতে গিয়ে দেন ক্যাচ। সেই বিপিএলে চোখ-জুড়ানো সব ইনিংস খেলা লিটন দাসের পাকিস্তান সিরিজে ভিন্ন চেহারা। ক্রিজে গিয়ে রীতিমতো খাবি খাচ্ছেন, যেন ডাঙায় তোলা মাছ। কাল ১৪ বলে ৮ রান করে শাদাব খানের বলে এলবিডাব্লিউ। রিভিউ নিয়েও ‘আম্পায়ার্স কল’-এর কারণে টিকতে পারেননি।

টিকে ছিলেন তামিম। প্রথম ম্যাচের মতোই। স্বতঃস্ফূর্ত স্ট্রোক প্লে নেই, সহজাত ধুন্ধুমার ব্যাটিং অনুপস্থিত। তবু এর মধ্যেই আগলে ছিলেন এক প্রান্ত। ১৬ রানের সময় তাঁর ইনসাইজ এজের বল হাতে জমাতে পারেননি উইকেটরক্ষক। এরপর ইফতেখার আহমেদকে সোজা ব্যাটে মারেন ছক্কা। আর শাদাব খানকে মারা চতুর্থ বাউন্ডারিতে তামিম ফিফটিতে পৌঁছান ৪৪ বলে। পরের ওভারে তিন বাউন্ডারিতে হাত খোলার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা রাজনীতিবিদদের প্রতিশ্রুতি হয়ে গেছে, বাস্তবায়ন আর হয়নি। উল্টো মিড অফে বল ঠেলে বড্ড আলসেমিতে রান নেওয়ার সময় রান আউট হয়ে যান ৫৩ বলে ৬৫ রান করে।

তামিমের ব্যাটে ঝড় ওঠেনি; কিন্তু প্রান্ত আগলে ছিলেন দলীয় ইনিংস শেষের ১৪ বল আগ পর্যন্তও। সতীর্থদের কারো ব্যাটে তুফান দূরে থাক, দমকা হাওয়াও ছোটেনি। বরং সেই অদ্ভুতুড়ে ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতাই প্রথম ম্যাচের পর টেনে আনেন কালও। আফিফ (২০ বলে ২১), মাহমুদ উল্লাহ (১২ বলে ১২), সৌম্যরা (৫ বলে ৫*) ছয় উইকেটে ১৩৬ পর্যন্ত নিতে পারেন বাংলাদেশকে। টেনেটুনে; কোনো রকমে।

প্রথম ম্যাচে এর চেয়ে পাঁচ রান মোটে বেশি করে মাহমুদের দল। তা তাড়ায় নিয়ন্ত্রণ মুহূর্তের জন্য আলগা হয়নি পাকিস্তানের। তবে প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার তাড়না ছিল তেমন। কাল তা দেখা যায় প্রবলভাবে। দ্বিতীয় ওভারে আহসান আলীকে (০) শফিউল ইসলাম ফিরিয়ে দেওয়ার পরও। অধিনায়ক বাবর আজম এবং অভিজ্ঞ মোহাম্মদ হাফিজ আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি। ৩৯ বলে ফিফটি পেরোনোর পর হাফিজকে যদি উইকেটরক্ষক লিটন দাস ওভাবে ছেড়ে দেন, তাহলে উইকেট পড়বে কিভাবে! মুস্তাফিজ সে উইকেট পেলেও যে ম্যাচের রং বদলাত, সে বিশ্বাসের লোক বড্ড কম। বরং ৩৪ বলে ফিফটির পর শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৬৬ রানে অপরাজিত থাকেন আজম। ৪৯ বলে ৬৭ রানে হাফিজ। ১৬.৪ ওভারেই ম্যাচ ও সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।

আর লক্ষ্যহীন বাংলাদেশ পড়ে যায় অনেকগুলো প্রশ্নের সামনে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বোধকরি এটিই— পর পর দুই ম্যাচে এমন টি-টোয়েন্টির প্রথাবিরোধী ব্যাটিং করল কিভাবে মাহমুদ উল্লাহর দল!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা