kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

৮৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান

অপহৃত দুই তরুণকে ফিরে পেল পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক ও কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৮৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির অবসান

তারা দুজনই বয়সে তরুণ। সম্পর্কে মামা-ভাগ্নে। গত মঙ্গলবার দুপুরে তারা মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হয়। এর পর থেকে তাদের খোঁজ মিলছিল না। সন্ধান না পেয়ে করা হয় সাধারণ ডায়েরি। সেকেন্ড-মিনিট-ঘণ্টা বদলালেও মিলছিল না তাদের কোনো খবর। পরিবারের সদস্যরা পড়ে চরম রুদ্ধশ্বাসে। অবশেষে সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটেছে। ওই দুই তরুণকে গতকাল শনিবার ভোরে টাঙ্গাইল থেকে উদ্ধার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

ওই দুই তরুণের একজন হলো তানজিম আল ইসলাম দিবস (১৭)। সে কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলামের ছেলে। দিবস ধানমণ্ডির ভার্টিক্যাল হরাইজন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের ‘এ’ লেভেলের ছাত্র। তার সঙ্গে অপহৃত হয়েছিলেন মামা খালিদ হাসান (১৯)। খালিদ ঢাকা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র। গত মঙ্গলবার দুপুরে মোহাম্মদপুর তাজমহল রোডের মিনার মসজিদ এলাকা থেকে তাঁদের অপহরণ করা হয়।

অপহরণকারীরা দিবসের পরিবারের সদস্যদের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল দাবি করে দিবসের বাবা আইনজীবী ফখরুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছেলে তানজিম আল ইসলাম দিবস ও শ্যালক খালিদ হাসানকে অপহরণের পর থেকে মোবাইল ফোনে ৫০ লাখ টাকা দাবি করেছিল দুর্বৃত্তরা। তবে আমি টাকা দিইনি। পরে ডিবি পুলিশ আমার ছেলে ও শ্যালককে উদ্ধার করেছে।’ আবেগতাড়িত কণ্ঠে ফখরুল বলেন, ‘চার দিন ধরে চরম রুদ্ধশ্বাসের মধ্যে ছিলাম আমি ও পরিবারের সবাই। এখন খুশি। ছেলে ও শ্যালক উদ্ধারের পর ডিবি পুলিশ তাদের সঙ্গে আমাকে কথা বলিয়ে দিয়েছে।’ 

অপহরণের পর মুক্তিপণের জন্য দুই শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতন করা হয় জানিয়ে দিবসের পরিবার জানিয়েছে, অপহরণকারীরা কয়েকটি টেলিটক নম্বর থেকে অ্যাডভোকেট ফখরুল ইসলামের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এ ছাড়া থানার পুলিশকে বা পত্রিকায় অপহরণের খবর দিলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়। এ ঘটনায় গত শুক্রবার মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা করেন দিবসের বাবা ফখরুল ইসলাম। এর আগে গত ২১ জানুয়ারি এ ব্যাপারে তেজগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন অপহৃতদের অভিভাবকরা। পরে গত ২৪ জানুয়ারি শুক্রবার মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলায় হয়। মামলার এজাহারে কারো নাম উল্লেখ না করে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের অপহরণে জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। থানার পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পশ্চিম বিভাগ অপহৃতদের উদ্ধার ও অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত দিবস ঘটনার দিন সকালে জিগাতলার ভাড়া বাসা থেকে সকালে মহাখালীতে যায়। সেখান থেকে দুপুরে তার মামা খালিদ হাসানের সঙ্গে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডে কাজ শেষ করে বাসায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু এর পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা তাঁদের দুজনেরই মোবাইল ফোন বন্ধ পায়। পরে খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম থেকে দিবস ও খালিদের পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় আসে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে তাঁদের সর্বশেষ অবস্থান তেজগাঁও এলাকায় হওয়ার কারণে তারা ঘটনার দিনই তেজগাঁও থানায় একটি জিডি করে। পরে তেজগাঁও থানার পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুসন্ধান করে অপহৃত হওয়ার ঘটনাস্থল মোহাম্মদপুর বলে জানতে পারে। পরে অভিযোগটি আবার মোহাম্মদপুর থানায় স্থানান্তর করা হয়।

অপহৃতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২১ জানুয়ারি দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তাজমহল রোডের মিনার মসজিদ এলাকা থেকে দিবস ও খালিদ অপহৃত হন। এক দল ব্যক্তি অস্ত্রের মুখে তাঁদের অপহরণ করে প্রাইভেট কারযোগে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে তাঁদের হাত-পা-মুখ বেঁধে গাড়ির ভেতর ফেলে রাখে। এ সময় গাড়িতে উচ্চৈঃস্বরে গান বাজানো হয়। এ নিয়ে কুড়িগ্রামে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার সর্বশেষ অবস্থা জানতে উদ্বিগ্ন বিভিন্ন পেশার মানুষ খোঁজ নিতে শুরু করে। একই সঙ্গে ঢাকায় পড়াশোনারত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দিবসের অপহরণের ঘটনা জানার পর থেকে তার মা বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।

কুড়িগ্রামের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকট আমজাদ হোসেন ও অ্যাডভোকেট শামসুল হক সরকার জানান, অপহরণের ঘটনা শোনার পর থেকে ঢাকায় পড়া তাঁদের নিজ নিজ সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা