kalerkantho

শনিবার । ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪১

৬৮% ভোটার কেন্দ্রে যাবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



৬৮% ভোটার কেন্দ্রে যাবেন

ঢাকার দুই সিটিতে এখন নির্বাচনী উৎসবের আমেজ। পোস্টারে ছেয়ে গেছে চারদিক। প্রচারে সরগরম এলাকা। প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে; মাথায় হাত বুলিয়ে, হাত ধরে এবং নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন। সব কিছুই হচ্ছে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সামনে রেখে। ভোটারের হাতেই ভোট। ভোটার যত বেশি কেন্দ্রে যাবেন, ততই ভোট বেশি পাবেন প্রার্থীরা। আর ভোটার যত কম যাবেন কেন্দ্রে, ততই ভোট পড়বে কম। তাই প্রার্থীদের প্রত্যাশার পুরোটাই ভোটারদের কেন্দ্র করে।

নির্বাচন কমিশন এবার ঢাকার দুই সিটিতে ভোট গ্রহণ করবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনেও ভোটগ্রহণ হয়েছে ইভিএম দিয়ে। কিন্তু ওই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি  সন্তোষজনক ছিল না। সে কারণে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

এসব দিক নজরে রেখে ভোটারদের সম্ভাব্য উপস্থিতির বিষয়ে কালের কণ্ঠ গতকাল শনিবার ঢাকার দুই সিটির ১২৯টি ওয়ার্ডের ৬০টিতে ৩০০ জন ভোটারের অভিমত গ্রহণ করেছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কালের কণ্ঠ’র ২৩ জন প্রতিবেদক এই পর্যবেক্ষণে অংশ নেন। তাঁরা জানার চেষ্টা করেছেন, ভোটাররা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন কি না, না গেল কেন যাবেন না।

ভোটারদের অভিমত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৩০০ জনের মধ্যে ২০৪ জন অর্থাৎ ৬৮ শতাংশই সরাসরি বলেছেন যে তাঁরা ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। ৫৭ জন অর্থাৎ ১৯ শতাংশ বলেছেন যে তাঁরা ভোট দিতে যাবেন না। ৩৯ জন অর্থাৎ ১৩ শতাংশ জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ছাড়া কোনো কোনো ভোটারের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ব্যতিক্রমধর্মী কিছু বক্তব্য-মন্তব্য। যেসব ভোটার প্রশ্নের উত্তর বা অভিমত দিয়েছেন তাঁদের তথ্য কালের কণ্ঠ’র কাছে সংরক্ষিত আছে। নীতিগত কারণে এই প্রতিবেদনে কারো নাম ও পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।

যাঁরা বলেছেন ভোট দিতে যাবেন, তাঁদের প্রায় সবাই বলেছেন যে ভোট দেওয়া মূল্যবান নাগরিক অধিকার, তাই ভোট দেবেন। কেউ কেউ বলেছেন, পরিবেশ যা-ই থাকুক তাঁরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন। কেউ বলেছেন, আগে কখনো ইভিএমে ভোট দেননি, তাই এবার ইভিএমের অভিজ্ঞতা নিতে কেন্দ্রে যাবেন। কেউ কেউ বলেছেন, ভোট দিতে না যাওয়ার মতো কোনো পরিবেশ পরিস্থিতি হয়নি, সব কিছুই স্বাভাবিক আছে। ফলে ভোট না দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

ঢাকা দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন শাখার একজন কর্মী বলেছেন, ‘আমাদের এলাকায় ভোটের পরিবেশ বরাবরই ভালো থাকে। তাই ভোট দিতে যাব।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় স্টাফ কোয়ার্টারে থাকেন। একই সিটির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন ভোটার বলেন, ‘ভোট দিতে যাব না ক্যান? আমার ভোট আমি দিব, আমার পরিবারসহ ভোট দিতে যাব। ভোট দিতে না গেলে কি চলব!’

উত্তরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বনানী ১৮ নম্বর রোডের একজন ভোটার বলেছেন, ‘ভোট না দেওয়ার প্রশ্ন তুলছেন কেন? ভোটার হয়েছি তো ভোট দেওয়ার জন্যই। পরিবেশ যা-ই থাকুক সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে যাব এবং ভোট দিয়ে আসব।’ একই ওয়ার্ডের গুলশান-২ এলাকার আরেক ভোটার বলেন, ‘ভোট তো দিতে হবেই। এটা তো আমার কাছে ঈদের উৎসবের মতো লাগে। আগে একসময় ভোটে যেমন মারামারি কাটাকাটি হইতো এখন তো আর তা হয় না। তাইলে ভোটকেন্দ্রে যাইতে বা ভোট দিতে অসুবিধা কী!’

কামরাঙ্গীর চরের ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের নূরবাগের একজন ভোটার বলেন, ‘আমি সব সময় ভোট দেই। এইবারও দেব। কারণ আমি মনে করি, ভোট আমার অধিকার। অন্য কেউ আমার ভোট দিতে পারে না।’ এই এলাকার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাজির গলির একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেছেন, ‘ভোট দিতে ভালো লাগে। এ কারণে ভোট দিতে যাব।’ আশরাফাবাদের একজন নারী ভোটার বলেন, ‘আগে ভোট দেইনি। এবারই প্রথম ভোট দিতে চাই। কারণ আমার অধিকার।’ ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুন্সিহাটি এলাকার একজন ভোটার বলেছেন, ‘উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এইবার ভোট দিতে চাই।’ ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের রহমতবাগের একজন বললেন, ‘স্থানীয় কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য হলেও ভোট দিতে যাব, কারণ বিপদের সময় ভালো কাউন্সিলর দরকার।’

আবার ভিন্নমতও আছে। যাঁরা ভোট দিতে কেন্দ্রে না যাওয়ার কথা বলেছেন তাঁরা তাঁদের মতের পক্ষে নানা ধরনের কারণ ও যুক্তি তুলে ধরেছেন।

উত্তর সিটির ৩১ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ড এবং দক্ষিণ সিটির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১৮ জন ভোটারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের মধ্যে সাতজন বলেছেন, ভোট দিতে যাবেন। একজন বলেছেন, ‘শুনছি কারা নির্বাচিত হবে সেটা এরই মধ্যে ঠিক হয়ে আছে। তার পরও প্রতিবারের মতো এবারও ভোট দিতে যাব।’ পাঁচজন বলেছেন, তাঁরা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন। ছয়জন বলেছেন, তাঁরা ভোট দিতে যাবেন না। না যাওয়ার কারণ হিসেবে একজন বলেন, ‘এসএসসি পরীক্ষার সময় যারা উচ্চশব্দে ভোটের গান বাজায়, সেসব দায়িত্বহীনকে কেন ভোট দেব?’ নারী ভোটারদের একজন বলেন, ‘বাসার পুরুষ ভোটাররা যাবে, কিন্তু আমি ঝামেলার মধ্যে নেই।’

উত্তরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের একজন লন্ড্রি দোকানি বলেন, ‘গতবারে ভোট দিতে গিয়ে পরিবেশ দেখে ভয়ে ফিরে আসি। এবারও মনে হয় তেমনই হবে, সেটা হলে ভোট দিতে যাব না।’ একই সিটির ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বলেছেন, ‘গতবার কেন্দ্রে গিয়া দেখি আমার ভোট দেওয়া হয়ে গেছে, তাই এবার আর যাব না।’

দক্ষিণের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের একজন বলেছেন, তিনি ভোট দিতে যাবেন কি না এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন।

উত্তরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের একজন তরুণ ভোটার বলেন, ‘গত বছর জাতীয় নির্বাচনে জীবনের প্রথম ভোট দিতে গিয়েছিলাম, কিন্তু সেখানে গিয়ে ভোট দিতে পারিনি। সেই কষ্টে এবার ভোট দিতে যাব না।’

দক্ষিণের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের একজন ভোটার বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে যেতে চাই। কিন্তু পরিস্থিতি কী থাকবে তার ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত যাব কি না।’ একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা বলেছেন, তিনি সচরাচর ভোট দিতে যান না, এবারও যাবেন না। ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একজন ভোটার বলেছেন, ফলাফল আগেই নির্ধারিত। তিনি মনে করেন, এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার একজন আইনজীবী বলেন, এর আগে ভোট দিতে পারেননি। সে কারণে এবার যাবেন না। দেশে নির্বাচন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী বলেছেন,  ‘নির্বাচনের প্রতি আমার আস্থা নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা