kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নগরজুড়ে লেমিনেটেড পোস্টার

কাজী হাফিজ   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নগরজুড়ে লেমিনেটেড পোস্টার

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার পরও লেমিনেটেড (পলিথিন মোড়ানো) পোস্টারে সয়লাব রাজধানী ঢাকা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারের অংশ হিসেবে এখনো এসব পোস্টার ঝোলানোর রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে।

এদিকে লেমিনেটেড পোস্টার নিষিদ্ধ করে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া আদেশ বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়—কেউই গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আবার প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর বিবেচনায় পলিথিন ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও পরিবেশ  অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতাও এ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান নয়। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, বাজার থেকে পলিথিন ব্যাগ অপসারণে তাদের এখতিয়ার থাকলেও নির্বাচনী পোস্টারের ক্ষেত্রে তা নেই।

ঢাকা সিটির বিভিন্ন এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাতেও বিশেষত কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষ থেকে লেমিনেটেড পোস্টার ঝোলাতে দেখা যায়। কুয়াশা, বৃষ্টি ও ধুলাবালি থেকে পোস্টারগুলো রক্ষায় প্রার্থীরা এমন পোস্টার ঝোলানো অব্যাহত রেখেছেন।

মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডে গত বৃহস্পতিবার রাতে কয়েক তরুণ এক কাউন্সিলর প্রার্থীর পলিথিন মোড়ানো পোস্টার  ঝোলাচ্ছিল। কালের কণ্ঠ’র প্রশ্নের জবাবে তারা বলে, আমরা কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা জানি না।   

পরিবেশবিদরা বলছেন, গত কয়েকটি নির্বাচনের প্রচারে এ ধরনের লেমিনেটেড পোস্টারের ব্যবহার হয়েছে। কিন্তু এবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীরা নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েও এ ধরনের পোস্টার ব্যবহার করাটা হতাশাজনক। এর মাধ্যমে তাঁরা উল্টো বেশি করে জলাবদ্ধতার ব্যবস্থা করছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের মহাসচিব শরীফ জামাল গতকাল কালের কণ্ঠকে এমন অভিমত জানিয়ে আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট) রুবিনা ফেরদৌসী এ বিষয়ে বলেন, ‘পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং বাজার থেকে তা অপসারণে আমাদের এখতিয়ারও রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত পোস্টার অপসারণের এখতিয়ার আমাদের নেই। এতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হতে পারে। আমাদের মহাপরিচালক বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন।’

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা জেনেছি, ভবিষ্যতে এ ধরনের পলিথিন মোড়ানো পোস্টার যাতে উৎপাদন ও প্রদর্শন না হয় সে বিষয়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী আইনে পলিথিন মোড়ানো পোস্টার ব্যবহারের বিষয়ে কিছু বলা নেই। পরিবেশ আইনে এ বিষয়ে পলিথিন উৎপাদন ও ব্যবহারের বিষয়ে বলা আছে। তারাই এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। নির্বাচন কমিশনও ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারে পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন করার উদ্যোগ নিতে পারে।’

ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং অফিসার আবুল কাশেম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন (নির্বাচনী আচরণ) বিধিমালায় পলিথিন মোড়ানো পোস্টার ব্যবহার বিষয়ে কিছু বলা নেই। সে জন্য এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা এখনো নেওয়া হয়নি।’ 

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘এ সম্পর্কে হাইকোর্টের নির্দেশ ও রুলের বিষয়টি আমরা গণমাধ্যম সূত্রে জেনেছি। কিন্তু এখনো এসংক্রান্ত আরজি ও রুলের সার্টিফায়েড কপি পাইনি। পেলে আমাদের আইনজীবীর মাধ্যমে রুলের জবাব দেওয়া হবে। তবে আমি মনে করি, পলিথিন মোড়ানো পোস্টার অবশ্যই বন্ধ হওয়া দরকার।’

প্রসঙ্গত, ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ সারা দেশে পলিথিন মোড়ানো পোস্টার ব্যবহারের ওপর গত বুধবার হাইকোর্ট নিষেধাজ্ঞা দেন। এখন থেকে নতুন করে পলিথিন মোড়ানো পোস্টার ছাপানো ও প্রদর্শন করা যাবে না বলে আদেশ দেওয়া হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে এরই মধ্যে যেসব পোস্টার ঝোলানো হয়েছে, নির্বাচনের পরপরই তা অপসারণ করে যথাযথভাবে ধ্বংস করারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

ফেসবুকে সরব সমালোচনা : এদিকে ঢাকা সিটি নির্বাচনে লেমিনেটেড পোস্টার ব্যবহারের সমালোচনা করে ফেসবুকেও ব্যাপক লেখালেখি হচ্ছে। স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ ওনারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. আলী জামান লিখেছেন, ঢাকায় এখন কয়েক কোটি নির্বাচনী পোস্টার শোভা পাচ্ছে। এর থেকে প্রতিদিন ২০ শতাংশ পোস্টার নষ্ট হচ্ছে। আর সেগুলো পলিথিনের লেমিনেশনসহ ড্রেনে ফেলা হচ্ছে। আবার সেই শূন্য জায়গাগুলোতে নতুন করে পোস্টার উঠানো হচ্ছে। ধারণা করা যায়, নির্বাচন শেষে নিষিদ্ধ পলিথিন লাগানো কয়েক কোটি পোস্টার এভাবে ড্রেনে জমা হবে। অবশ্য সেগুলো আবার অপসারণের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে—যার অর্থ জোগান দেবে গৌরীসেন, মানে আপনার-আমার দেওয়া ট্যাক্স। আলী জামানের এই পোস্টে অনেকের মন্তব্য, পলিথিন ব্যবহার বৈধ না হলে যেসব জনপ্রতিনিধি এগুলো ব্যবহার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা কেন নেওয়া হচ্ছে না? একজন সাংবাদিক তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘দেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ। সেই নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহার করছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। এই পলিথিনগুলো এখন কোথায় যাবে? নিশ্চয় ঢাকার ড্রেনে গিয়ে পড়বে। আমাদের নেতাদের এই বোধটুকুও নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা