kalerkantho

শনিবার । ১৪ চৈত্র ১৪২৬। ২৮ মার্চ ২০২০। ২ শাবান ১৪৪১

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় বাড়ছে সংঘর্ষ

কেন্দ্রকেও পাত্তা দিচ্ছে না বগিভিত্তিক সংগঠন

মোবারক আজাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় বাড়ছে সংঘর্ষ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় কর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও হতাশা। সামান্য কথা-কাটাকাটির মতো তুচ্ছ ঘটনায় ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বাড়ছে সংঘর্ষ, হারাচ্ছে শৃঙ্খলা। গত ছয় মাসে অন্তত ২৫টি মারধর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চলমান একের পর এক সংঘর্ষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মীরা। গত বছরের ১৯ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটির দাবিতে ছাত্রলীগের একাংশ মানববন্ধন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, যথাসময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় অনেক পরিশ্রমী ও ত্যাগী কর্মী সাংগঠনিক পদ-পদবি থেকে বাদ পড়বেন। রাজনৈতিক কোনো স্বীকৃতি না পাওয়ার ক্ষোভে সামান্য ঘটনা সংষর্ষে রূপ নিচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরপরই হল ও অনুষদ কমিটি গঠিত হলে সাংগঠনিকভাবে কর্মীরা শৃঙ্খলায় ফিরে আসবেন।

এদিকে রুবেল ও টিপু দায়িত্ব পাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বগিভিত্তিক গ্রুপিং রাজনীতি থেকে সরে আসার জন্য বারবার আহ্বান জানান বিভিন্ন গ্রুপের নেতাকর্মীদের। কিন্তু গ্রুপিং রাজনীতির সেই বলয় ভাঙতে পারেননি রুবেল-টিপু। এমনকি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ দুইবার বগি রাজনীতি নিষিদ্ধ করলেও এ নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে বেশির ভাগ বগিভিত্তিক সংগঠন। আর গ্রুপিং রাজনীতিতে সক্রিয় এমন কোনো অভিযোগ পেলে শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেই দায় সারেন। এখন পর্যন্ত তাঁরা এসব নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেননি। এ ছাড়া বিভিন্ন গ্রুপে রেষারেষি ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের অভিযোগে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনবার বগিভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনিক তৎপরতার অভাব ও শাখা ছাত্রলীগের উদাসীনতায় প্রতিবারই লাই পেয়েছে বগিভিত্তিক গ্রুপিং রাজনীতি।

বর্তমানে প্রায় ১০টি বগিভিত্তিক গ্রুপ চবি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়। এর মধ্যে সিক্সটি নাইন, ভিএক্স, কনকর্ড, একাকার, এপিটাফ, আরএস, বাংলার মুখ ও উল্কা চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী; অন্যদিকে সিএফসি এবং বিজয় গ্রুপ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী।

জানা যায়, চবি ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তির প্রায় দেড় বছর পর গত বছরের ১৪ জুলাই রুবেলকে সভাপতি ও টিপুকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে কমিটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ করে কেন্দ্রীয় সেলে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। কিন্তু কমিটির মেয়াদের বেশির ভাগ সময় চলে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি।

রুবেল ও টিপু দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বলে আসছেন পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার আগে আবাসিক হল ও অনুষদ কমিটি দেবেন। কিন্তু শাখা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা তাঁদের এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, আগে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। এতে যেসব কর্মী পদ-পদবি পাবেন না পর্যায়ক্রমে তাঁরাই হল ও অনুষদ কমিটিতে স্থান পাবেন।

পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে বগিভিত্তিক সংগঠন ভিএক্স গ্রুপের নেতা প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জয় বলেন, দীর্ঘ ছয় মাসে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে পদহীনতার ক্ষোভ ও হতাশায় এসব সংঘর্ষ বাড়ছে। কমিটি হলে সাংগঠনিকভাবে শৃঙ্খলায় ফিরে আসবেন তাঁরা।

চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক টিপু বলেন, ‘কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার জন্য আমি ও সভাপতি (রুবেল) কাজ শুরু করেছিলাম। কিছু কর্মকাণ্ড হাতেও নিয়েছিলাম। কিন্তু সে সময় বাধা দেয় যারা কমিটি কমিটি করছে তারাই। যেহেতু দায়িত্বে আছি, অবশ্যই কমিটি করব।’ বগিভিত্তিক রাজনীতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে অমান্য করে বগিভিত্তিক গ্রুপিং রাজনীতি করছে, তাদের বিষয়ে কেন্দ্রে তথ্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনা সম্পর্কে কেন্দ্র অবগত আছে।’

চবি ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল বলেন, ‘আমরা কমিটির জন্য কাজ করছি। অতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করব।’ যারা সংঘর্ষ করছে, তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা