kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

সংবাদ সম্মেলনে ইয়াংহি লি

লজ্জাজনক ভূমিকা চীন রাশিয়ার

রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিচারের জন্য অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল গড়ার সুপারিশ আসছে

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লজ্জাজনক ভূমিকা চীন রাশিয়ার

ছবিঃ ইন্টারনেট

রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের জবাবদিহি প্রশ্নে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়ার ভূমিকাকে লজ্জাজনক ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংহি লি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আগামী মাসে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে তিনি তাঁর প্রতিবেদনে মিয়ানমারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তে সিয়েরা লিওন ও রুয়ান্ডার আদলে অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল গঠন করার সুপারিশ করবেন।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘের ব্যর্থ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ইয়াংহি লি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি আরো বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গঠনপ্রক্রিয়া এর জন্য দায়ী। তিনি একুশ শতকের উপযোগী করে নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার করার প্রয়োজনের কথা বলেন।

২০১৪ সাল থেকে জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ইয়াংহি লির এটিই শেষ সফর। তাঁর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী মাসে। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে তিনি সর্বশেষ মিয়ানমারে ঢুকতে পেরেছিলেন। ওই সফর শেষে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি যে বিবৃতি দিয়েছিলেন তা প্রত্যাখ্যান করেছিল মিয়ানমার সরকার। এরপর ইয়াংহি লির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে সু চির সরকার তাঁকে আর মিয়ানমারে ঢুকতে দেয়নি। গতকালের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা তুলে ধরে বলেন, মিয়ানমারে ঢুকতে না পেরে তিনি থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশ সফর করে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ওই দেশটির পরিস্থিতি জেনেছেন।

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারে ভয়ংকর নৃশংসতা ও সম্ভাব্য জেনোসাইড প্রসঙ্গে ইয়াংহি লি বলেন, ‘জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার হিসেবে আমাকে অবশ্যই যা সত্য তুলে ধরতে হবে।’ তিনি বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও জীবিকার সুযোগের ওপর জোর দেন।

ইয়াংহি লি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের কাছে রোহিঙ্গারা কৃতজ্ঞ। তবে রোহিঙ্গা শিশুদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ না থাকার বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে কষ্ট আছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যেতে চায়। তবে বর্তমানে সেখানে যে পরিস্থিতি তা তাদের ফেরার জন্য সহায়ক নয়।

ইয়াংহি লি আশা করেন, মিয়ানমারে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য হবে। তিনি আরো আশা করেন, মিয়ানমারে নির্বাচনের আগে উন্মুক্ত আলোচনা ও বিতর্ক হবে। মিয়ানমারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে সম্প্রতি কমিশনার নিয়োগ প্রসঙ্গে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, কয়েকজন কমিশনার সামরিক বাহিনী থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি মিয়ানমারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন সংশোধন করারও সুপারিশ করেন।

আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলার তিন দিন আগে মিয়ানমার গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ইয়াংহি লি বলেন, ওই কমিশন নিয়ে তিনি আগেই উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। তাই ওই কমিশনের প্রতিবেদন নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

ইয়াংহি লি বলেন, মিয়ানমারে ন্যায়বিচার এখনো দুঃসাধ্য। সেখানে বিচারব্যবস্থা অকার্যকর।

নেদারল্যান্ডসের হেগে গতকাল আইসিজের রায়ের দুই ঘণ্টার কম সময় আগে ঢাকায় ইয়াংহি লি তাঁর পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রায় যা-ই হোক না কেন, এটি একটি মাইলফলক। গত দুই বছরে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতে বাধ্য করতে অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে আরো অনেক কাজ বাকি। তিনি আশা করেন, আইসিজে যে রায় বা সুপারিশই দিক না কেন মিয়ানমার তা পুরোপুরি মেনে চলবে।

মিয়ানমারকে জবাবদিহি থেকে রক্ষার চেষ্টা করছে—এমন দেশ বা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে ইয়াংহি লি বলেন, কিছুই হয়নি মনে করার অর্থ যা হচ্ছে তা চলতে দেওয়া। একইভাবে মানবাধিকার প্রশ্নে মিয়ানমারের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখার অর্থ সেখানে যা চলছে তার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর একমাত্র দুঃখ হলো দায়িত্বের শেষ দুই বছরে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে কাজ করতে না পারা। তিনি বলেন, অং সান সু চি যখন সরকার গঠন করেছিলেন তখন তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে করণীয়র বিষয়ে বেশ কিছু সুপারিশ করেছিলেন। মিয়ানমারে যখন তিনি সফরে যেতেন তখন সু চির সরকারের প্রতিনিধিরা সেই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরতেন। মিয়ানমার সরকার পরে তাঁকে নিষিদ্ধ করে নিজেদেরই বঞ্চিত করেছে বলে তিনি মনে করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা