kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

দুশ্চিন্তা ভুলে ইতিবাচক ফলের আশায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুশ্চিন্তা ভুলে ইতিবাচক ফলের আশায় বাংলাদেশ

আজ লাহোরে পাকিস্তান-বাংলাদেশ প্রথম টি-টোয়েন্টি। গতকাল গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সিরিজের ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনে মাহমুদ উল্লাহ ও বাবর আজম। ছবি : সৌজন্য

খেলার চেয়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থাই মনোজগতের দখল নিয়ে নেয় কি না, সংশয় ছিল সেটি নিয়েই। নিজের ইচ্ছেমতো কোথাও যাওয়ার স্বাধীনতা না থাকলে দমবন্ধ করা পরিস্থিতিই তো তৈরি হওয়ার কথা। যদিও সব সংশয় উড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ, ‘প্লেনে ওঠার সময়ই আমরা সব দুশ্চিন্তা দেশে রেখে এসেছি। পাকিস্তানে আমরা কেবল ভালো ক্রিকেট খেলা নিয়েই ভাবছি। এখানে খুব ভালো একটা শো উপহার দিতে চাই আমরা।’

সেখানে গিয়ে নিরাপত্তার জালে বন্দি হওয়ার কথা দেশে থাকতেই জানতেন তাঁরা। তাই এর মাঝেও আগাম এক ভালো দিক আবিষ্কার করেছিলেন হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। বলেছিলেন, এতে করে দল আরো ঐক্যবদ্ধই হবে। মাহমুদের কণ্ঠেও এবার সেই একই সুর, ‘এর ইতিবাচক দিকও আছে। সতীর্থদের সঙ্গে অনেক সময় কাটানোর সুযোগ মিলছে।’ তাতে অধিনায়কও নিশ্চয়ই সতীর্থদের মগজে মাঠে ইতিবাচক ফল বের করে আনার ব্যাপারটি আরো বেশি করে ঢুকিয়ে দিতে পেরেছেন।

আজ লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টা) তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি শুরুর আগে তাঁর কথা অন্তত সে ধারণাই দেয়, ‘বোর্ড যখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে আমরা পাকিস্তানে খেলব, তখন থেকেই পরিবেশ বদ্ধ হবে নাকি কেমন, সেটি আসলে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে এসে ওই ধরনের চিন্তাভাবনা থেকে সরে আসাই ভালো। দলের প্রতিটি ক্রিকেটারই ওভাবে চিন্তা করছে। সবাই এখন ভালো ক্রিকেট খেলতে মুখিয়ে আছে।’

মাত্রই দুই মাস আগে ভারতের মাটিতে ভারতকে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে হারানোর মতো সাফল্যের মুখ দেখেছে বাংলাদেশ। এবার পাকিস্তানেও যে একই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির আশা, মাহমুদের মুখে উচ্চারিত হয়েছে সে কথাও। যদিও কাজটি যে সহজ নয়, জানিয়ে রেখেছেন সেটিও। গত পরশু বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টার পর লাহোরে পৌঁছানো দল কাল দুপুর থেকে বিকেল অবধি সেই সাফল্যের খোঁজেই শেষ

অনুশীলন করেছে। এর আগে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বাবর আজমের সঙ্গে সিরিজের ট্রফি নিয়ে ফটোসেশনেও অংশ নিয়েছেন মাহমুদ।

সেই ট্রফি জেতা আসলে কতটা কঠিন, তা নিয়েও ধাঁধায় থাকার কথা বাংলাদেশ অধিনায়কের। আইসিসির টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিং বলছে দুই দলের মধ্যে বিস্তর ব্যবধান। পাকিস্তান এক নম্বর দল যেখানে, সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান নয়ে। যদিও শীর্ষ দলেরই আবার কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে সাম্প্রতিক অবস্থা সুবিধার নয়। ২০১৮ সালে খেলা ১৯ ম্যাচের ১৭টিতেই জেতা পাকিস্তানের দুঃসহ সময় গেছে গত বছর। হেরেছে ১০ ম্যাচের ৮টিতেই। একটি ম্যাচে ফল হয়নি। জিতেছে মোটে একটি ম্যাচ। গত অক্টোবরে শ্রীলঙ্কাও এই লাহোরেই তাদের হোয়াইটওয়াশ করে গেছে।

একের পর এক হারে দেয়ালেও যেন পিঠ ঠেকে গেছে পাকিস্তানের। তাদের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক বাবর আজম তাই সিরিজ জিততে মরিয়া। র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর অবস্থানটা ধরে রাখতে হবে যে! টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ এই ব্যাটসম্যান কাল লাহোরের সংবাদ সম্মেলনে বললেন, ‘র‍্যাংকিংয়ের এক নম্বর জায়গাটি কিভাবে ধরে রাখা যায়, সেদিকেই দৃষ্টি রাখছি আমরা। সিরিজ জিতলেই কেবল আমরা ওই জায়গাটিতে থাকতে পারব। কাজেই আমাদের লক্ষ্য হলো সিরিজ জেতা এবং এক নম্বরেই থাকা।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা